শিক্ষার ফলে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে অন্নবস্ত্রের সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে ওঠে। শিক্ষার আসল কাজ মূল্যবোধ সৃষ্টি, জ্ঞানদান নয়; জ্ঞান মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায় মাত্র। ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবে এর এক চিহ্নিত করেছেন। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তি ব্যক্তিকে মনুষ্যত্ববোধে উন্নীত হওয়ার শিক্ষা দেয়।
'বন্দনা' শব্দের অর্থ স্তুতি, প্রশংসা।
কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য বাবা-মায়ের পায়ে প্রণাম করেছেন।
'বন্দনা' কবিতাটি শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের 'বন্দনা' অংশ থেকে সংকলন করা হয়েছে। এ অংশে কবি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। মধ্যযুগীয় সকল কাব্যের সূচনায় বন্দনা অংশের প্রচলন ছিল। কেননা এসব কাব্য সুর করে গাওয়া হতো। 'বন্দনা' কবিতার এ অংশে কবি প্রথমেই বাবা-মায়ের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে। কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য প্রথমেই কবি জন্মদাতা পিতামাতার পায়ে প্রণাম করেছেন।
'বন্দনা' কবিতার কবির শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের সাধনা করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'বন্দনা' কবিতায় সমাজের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে কবি সামাজিক বন্ধনকে মজবুত করেছেন। এতে মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। শিক্ষাদীক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষ সহজেই মনুষ্যত্বের স্তরে উন্নীত হতে পারে। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তিই মনুষ্যত্বের প্রধান উদ্দেশ্য। শিক্ষা মানুষের এই উদ্দেশ্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 'বন্দনা' কবিতায় কবি পিতা-মাতার, পাশাপাশি শিক্ষকের বন্দনা করেছেন। কবির মতে, শিক্ষকের শিক্ষাই মানুষকে জীবসত্তা থেকে মনুষ্যত্বের ঘরে নিয়ে উন্নত জীবনের স্পর্শ দেয়। একে কবি 'দোসর-জনম' বা দ্বিতীয় জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই কবি মূল্যবোধের স্তরে পৌঁছেছেন এবং কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছেন। এভাবে বিষয়টি উদ্দীপকের শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিষয়গত দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকে মমত্ববোধে জাগ্রত হওয়ার বাণীই 'বন্দনা' কবিতায় অন্যভাবে প্রকাশিত হয়েছে" উক্তিটি যথার্থ।
'বন্দনা' কবিতায় কবি ওস্তাদ বা শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণ করে জ্ঞানার্জন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকই মানুষের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ ঘটান।
'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে বিভিন্ন ব্যক্তির অবদান কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। এই সূত্র ধরেই কবি বাবা-মা ও শিক্ষকের শিক্ষাদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষকের শিক্ষাদানের মাধ্যমেই কবি জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উন্নীত হয়েছেন আর তা অকপটে স্বীকার করে কবি মানুষ্যত্বের বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন। উদ্দীপকে শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষা কেবল জ্ঞান পরিবেশন করে না, মনুষ্যত্বে উন্নীত করে আর এভাবেই মানব আত্মার মুক্তি আসে।
উদ্দীপকে মনুষ্যত্বের সাথে মানবতার মুক্তির বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্যদিকে 'বন্দনা' কবিতার কবি তার জীবনের বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করেছেন তাদের অবদানকে। এই শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে কবির চরিত্রের যে বিনয় ও মূল্যবোধ প্রকটিত হয়েছে তা যেন উদ্দীপকে বর্ণিত মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।.
