| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে সিলেটের জলাবন ‘রাতারগুল’ এ বন্য গোলাপ দেখে মুগ্ধ হল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
একই ধরনের জলবায়ু, একই ধরনের মাটি, একই জাতীয় বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও পৃথকযোগ্য ইকোসিস্টেমই হলো বায়োম।
রেড ডাটাবুক হলো IUCN কর্তৃক Red List আকারে প্রণীত একটি তালিকা যেখানে বিশ্বের সকল শঙ্কিত উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহকে চিহ্নিত করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এই ক্যাটাগরিগুলো হলো বিলুপ্ত, বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত, অতিবিপন্ন, বিপন্ন, শঙ্কাকুল, স্বল্প বিপদগ্রস্ত ইত্যাদি।
উদ্দীপকে জলাবন 'রাতারগুল' এর উল্লেখ রয়েছে। এটি জলাবন হওয়ায় এর উদ্ভিদগুলো প্রকৃতপক্ষে জলজ উদ্ভিদ। নিচে জলজ উদ্ভিদের অভিযোজনীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো-
i. এসকল উদ্ভিদে কিউটিকল থাকে না। ফলে সমস্ত দেহ দিয়ে এরা পানি শোষণ করতে পারে। কাজেই মূলের স্বল্পতায় এদের কোনো অসুবিধা হয় না।
ii. মেকানিক্যাল টিস্যু থাকে না। এ কারণে প্রবাহমান পানির টানে বা জলজ প্রাণীর চলাচলে এরা ভেঙ্গে যায় না।
iii. জলজ উদ্ভিদের কান্ড ও পাতার বহিঃত্বকে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। ফলে পানির নিচে কম আলোতে ও কম CO₂ যুক্ত পরিবেশে প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে।
iv. জলজ উদ্ভিদের কাণ্ডে বড় বড় বায়ুকুঠরী থাকে, ফলে সহজেই এরা পানিতে ভাসতে পারে।
উদ্দীপকে সিলেটের "রাতারগুল” বনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বনে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির উপস্থিতি লক্ষ করা যেতো। বর্তমানে বনটির জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেমন- ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ী ঢল বা বন্যার কারণে এখানকার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্ত হতে চলেছে। আবার, রাতারগুলে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এমনকি বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক বিনোদন ভ্রমনের জন্য রাতারগুলে আসেন। পর্যটকের ভিড়ের কারণে প্রাণী প্রজাতির স্বাভাৱিক চলাফেরা বা বসবাস এমনকি তাদের প্রজননেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকসময় অসচেতন পর্যটকদের কারণেও কিছু উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটতে চলেছে। অনেক অসাধু লোক চুরি করে বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে বিভিন্ন ধরনের পশুও শিকার করছে। এছাড়াও নিকট বা দূরবর্তী অঞ্চলে কৃষকরা ফসল ফলাতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছে, যার অবশিষ্টাংশ এ জলাবনের পানিতে মিশে জলজ প্রাণীদের ধ্বংস করছে। সুতরাং উল্লিখিত কারণগুলো বিশ্লেষণ শেষে একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের বনটির জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন।