| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষিত ভদ্রলোক :…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষিত ভদ্রলোক : আপনার মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন?
অশিক্ষিত চাষি : শিখাইছি, বাংলা পড়ে নাই, আরবিতে কোরআন পড়ছে। অর্ধেক প্রায় মুখস্ত হইয়া গেছে।
শিক্ষিত ভদ্রলোক : আরবি পড়িয়েছেন ভালো কথা, ধর্মীয় কার্যক্রম ঠিক রাখতে পারবে। বিজ্ঞান-নির্ভর শিক্ষা ছাড়া তো সে শিক্ষিত ভদ্রলোক বর্তমান পৃথিবীতে অচল।
অশিক্ষিত চাষি : বিয়া হইয়া গেলে জামাই যেইভাবে বলে সেইভাবেই চলবো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'চোগা' হলো লম্বা ঢিলা বুক-খোলা এক ধরনের জামা যা চাপকানের উপরে পরা হয়।
➤ "তিনি কি মাতা অপেক্ষা অধিক করুণাময় নহেন?" এখানে মানবজাতির প্রতি নর-নারী নির্বিশেষে সবার ওপর মহান আল্লাহর করুণা বর্ষণের কথা বলা হয়েছে।
➤ লেখক বলেন, ঈশ্বর ও মায়ের কাছে কন্যারা ভাইয়ের 'অর্ধেক' নয়। তা হলে এমন স্বাভাবিক বন্দোবস্ত হতো যে, পুত্র যেখানে দশ মাস মাতৃ উদরে স্থান পাবে, কন্যা সেখানে পাঁচ মাস। পুত্রের জন্য যেটুকু দুধ মাতৃস্কনে আসে, কন্যার জন্য তার অর্ধেক। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা তেমনটি করেননি। কারণ তিনি নর-নারী নির্বিশেষে মানবজাতির প্রতি মাতা-পিতা অপেক্ষা অধিক করুণাময়।
➤ নারীরা বড় হয়ে পরের ঘরের ঘরনি হবে, তাদের পড়ালেখা করিয়ে লাভ নেই- 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের এই দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন সমাজব্যবস্থার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় 'নারীরা অবলা, অন্যের ঘরনি, নারীদের পড়াশোনা করিয়ে লাভ নেই' এ রকম মনমানসিকতাসম্পন্ন মানুষ সদা বিরাজমান। অনেকের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আজও পরিবর্তন আসেনি।
➤ উদ্দীপকে একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক এবং একজন অশিক্ষিত চাষির কথোপকথনের মাধ্যমে আমাদের সমাজব্যবস্থায় পুত্র ও কন্যার মধ্যে পড়ালেখায় পার্থক্য, সেই সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে উভয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তায় বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে। 'অর্থালী' প্রবন্ধেও লেখক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, তৎকালীন নারীরা অবলা বলে তাদেরকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করা হতো। পুরুষকে যেখানে স্কুল-কলেজে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করানো হতো নারীকে সেখানে শুধু আরবি শিক্ষা ও রান্নাবান্নার কাজ শেখানো হতো। তাদের যুক্তি- মেয়েদের পড়িয়ে লাভ নেই। তারা তো কয়দিন পরেই স্বামীর ঘরে চলে যাবে। প্রবন্ধের পুরুষশাসিত সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গির পুরোটাই অশিক্ষিত কৃষকের মাঝে দৃশ্যমান।
➤ "বিয়া হইয়া গেলে জামাই যেইভাবে বলে সেইভাবেই চলবো।"- 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের চাষির উপর্যুক্ত উক্তিতে চরম পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও অজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
➤ নারীরা অবলা জাতি, পুরুষের ভোগের সামগ্রী, সন্তান জন্মদানকারিণী ও সংসারের ভারবাহিনী হিসেবে পুরুষশাসিত সমাজ কালে কালে, যুগে যুগে মনে করে এসেছে। নারীরা প্রকৃতিগতভাবে অন্যের ঘরনি। তাই এদের পিত্রালয়ে জ্ঞানী-গুণী করার দরকার নেই। স্বামীর ইচ্ছামতো নিজকে গড়ে তোলাই নারীর কাজ ও আদর্শ হওয়া উচিত বলে মনে করা হতো।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও লেখক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, তৎকালীন নারীরা অবলা বলে তাদেরকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করা হতো। উদ্দীপকে একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক ও একজন অশিক্ষিত চাষির কথোপকথনের মাধ্যমে আমাদের সমাজব্যবস্থায় পুত্র ও কন্যার মধ্যে পড়ালেখায় পার্থক্য, সেই সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে উভয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তায় বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে।
➤ উদ্দীপকে শিক্ষিত ভদ্রলোকের কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করলে অশিক্ষিত চাষি বলে, মেয়ে বিয়ে হয়ে গেলে জামাই যেভাবে বলে সেভাবেই চলবে। উদ্দীপকের অশিক্ষিত চাষির উপর্যুক্ত উক্তিতে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে আলোচিত আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার পুরুষের নিদারূণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্য মানসিকতা এবং নারীকে পিত্রালয় ও শ্বশুরালয়ে দাসীরূপে গণ্য ও ব্যবহার করার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।