| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক ব্যবহারিক ক্লাসে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক ব্যবহারিক ক্লাসে রুই মাছের ব্যবচ্ছেদপূর্বক সংকোচন প্রসারণশীল বিশেষ একটি অঙ্গকে দেখিয়ে বললেন- এটি রক্ত সংবহনের প্রাণকেন্দ্র। তিনি আরও বললেন- “মাছের ক্ষেত্রে এই সংবহন প্রক্রিয়াটি একচক্রীয় প্রকৃতির।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
প্রবাহমান পানির প্রতি প্রাণীর সাড়া প্রদানের প্রক্রিয়াই হলো রিওট্যাক্সিস।
নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্ল্যান্টেশন বলে। ইমপ্ল্যান্টেশন এর ফলেই গর্ভধারণ সম্ভব হয়। এন্ডোমেট্রিয়াম এ সংলগ্ন থাকা অবস্থায়ই ভূণ গঠিত হয় এবং ভূণটি পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়ে মানব শিশুতে পরিণত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো বুই মাছের হৃৎপিণ্ড। এটি সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে থাকে। নিচে রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের গঠন চিত্রসহ দেওয়া হলো-
রুই মাছের হূৎপিণ্ড অলিন্দ ও নিলয় নামক দুই প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। এছাড়া সাইনাস ভেনোসাস নামক একটি উপ-প্রকোষ্ঠ থাকে। অলিন্দ হলো পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বৃহত্তম প্রকোষ্ঠ। এটি একদিকে সাইনাস ভেনোসাস এবং অন্যদিকে নিলয়ের সাথে যুক্ত। নিলয় পুরু মাংসের প্রাচীরবিশিষ্ট প্রকোষ্ঠ। নিলয়ের সম্মুখে বাল্বাস আর্টারিওসাস নামের একটি গঠন দেখা যায়, যা মূলত অঙ্গীয় ধমনির স্ফীত হওয়া গোড়া বা মূল।
রুই মাছের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোজনস্থলের ছিদ্রে কপাটিকা থাকে। কপাটিকাগুলো হলো-
i. সাইনাস ভেনোসাস ও অলিন্দের মাঝের ছিদ্রপথে থাকে সাইনো- অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা।
ii. অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝে অবস্থিত ছিদ্রপথে রয়েছে অ্যাট্রিও- ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা।
iii. নিলয় ও বাল্বাস অ্যাওটার মাঝে অবস্থান করে ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বাস কপাটিকা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের শেষ উক্তিতে রুই মাছের রক্ত সংবহনের প্রকৃতির কথা বলা হয়েছে।
সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রুই মাছের হৃৎপিণ্ড একটি নির্দিষ্ট দিকে রক্ত পরিবহন করে। কপাটিকাসমূহের নিয়ন্ত্রণের ফলে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্ত সংবহনে একমুখীতা দেখা যায় এবং এ ধরনের হৃৎপিণ্ডকে একচক্র হৃৎপিণ্ড বলে। এ হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হওয়ায় রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে।
রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের সাইনাস ভেনোসাস হতে CO₂ যুক্ত রক্ত অলিন্দ হয়ে নিলয়ে প্রবেশ করে এবং নিলয় হতে তা বাল্বাস অ্যাওটায় বাহিত হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রকোষ্ঠ ও উপ-প্রকোষ্ঠের সংযোজন স্থলে যে কপাটিকা থাকে তা রক্তের একদিকে চলাচল নিশ্চিত করে ও বিপরীতগামীতাকে বাধা দেয়। তাই হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO₂ যুক্ত রক্ত পেছন হতে সামনের দিকে শুধু একমুখী হয়ে চলাচল করে। এজন্যই শিক্ষক এ ধরনের প্রবাহকে একচক্রীয় প্রকৃতির রক্তপ্রবাহ বলেছেন।