| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক বললেন আমাদের…’ a – বর্জ্য ও নিষ্কাশন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক বললেন আমাদের দেহের বিপাকীয় বর্জ্য হিসেবে উৎপন্ন CO₂ এবং N₂ আলাদা আলাদা অঙ্গের মাধ্যমে পরিত্যক্ত হয়। ফলে আমরা সুস্থ থাকি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
বৃক্কের গঠন ও কার্ষিক এককই হলো নেফ্রন।
ধূমপানের ফলে ধূমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে অ্যালভিওলাসের আয়তন বেড়ে যায় এবং কোনো কোনো স্থান কেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে। ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে। এ অবস্থাকে এমফাইসেমা বলে। এছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
উদ্দীপকের প্রথম বিপাকীয় বর্জ্য CO₂। যা যৌগ আকারে পরিবাহিত হয়। মানবদেহে বিপাকীয় ক্রিয়া শ্বসনের ফলে CO₂ নামক বর্জ্যপদার্থ সৃষ্টি হয়। যা যৌগ আকারে তিনটি প্রক্রিয়ায় রক্ত দ্বারা পরিবাহিত হয়। নিচে পদ্ধতি তিনটির বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. ভৌত দ্রবণরূপে: কিছু পরিমাণ (৫%) CO₂ রক্তের প্লাজমার পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড গঠন করে।
H2O + CO2 ⭢ H2CO3
এক্ষেত্রে CO₂-এর খুব সামান্য অংশই H₂CO₃ রূপে পরিবাহিত হয়।
২. কার্বোমিনো যৌগরূপে: টিস্যুকোষ থেকে রক্তের প্লাজমায় আগত CO₂ এর কিছু অংশ লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে। লোহিত কণিকার মধ্যে যে হিমোগ্লোবিন থাকে তার গ্লোবিন (প্রোটিন) অংশের অ্যামিনো গ্রুপের (-NH2) সাথে CO₂ যুক্ত হয়ে কার্বোমিনো-হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে।
CO₂ এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বোমিনো প্রোটিন গঠন করে।
PrNH2 + CO2 → PrNHCOOH (কার্বোমিনো-প্রোটিন)
মোট CO₂-এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বোমিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয়।
৩. বাইকার্বোনেট যৌগরূপে: CO₂ এর বেশিরভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বোনেটরূপে পরিবাহিত হয়। এটি দু'ভাবে পরিবাহিত হয়।
যথা- (১) NaHCO3 রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং (২) KHCO3 রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়- বিপাকীয় বর্জ্য CO₂ যৌগ আকারে পরিবাহিত হয়।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রকার বর্জ্য নিষ্কাশনে নিয়োজিত অঙ্গটি বৃক্ক। বৃদ্ধ দেহে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি কোনো কারণে বৃক্ক বিকল হয় তা মানবজীবনের জন্য অবশ্যই হুমকিস্বরূপ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
বৃক্ক বিকল হয়ে গেলে দেহ হতে নির্গত মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে অর্থাৎ কম পরিমাণ মূত্র তৈরি হবে। অতিরিক্ত বমি বমি ভাব, ঘাম, ডায়রিয়া বা রক্ত ক্ষরণের ফলে স্বাভাবিকভাবেই মূত্র তৈরি হয় না। প্রচুর পানি খেলেও দেহে মূত্র উৎপন্ন হয় না বা মূত্র ব্লাডারে জমা হয় না। খাবারে অরুচি, তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব, দুর্বলতা, অসংলগ্ন কথা বলা,
হেচকি উঠা এসব লক্ষণসমূহ দেখা যায়। বৃক্ক বিকল হলে মাংসপেশিতে ব্যথা, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস, বুকে পানি জমা হওয়া, ত্বকে শীতল শুকনা ভাব, নাড়ির গতি দুর্বল এবং পানিশূন্যতা থাকে। হাড়ের সন্ধিতে ব্যথা, রক্তমূত্র ও ফোঁটা ফোঁটা মূত্র ত্যাগের অবস্থা থাকতে পারে। ফুসফুসে গ্লোথ শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। রোগীর মানসিক অস্থিরতা, মাথা ঘোরা, শরীরের মাংসপেশি লাফানো এবং হঠাৎ করে সংজ্ঞাহীন হওয়া দেখা দিতে পারে। ক্ষুধামান্দ্য, উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত পায়খানা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মানবদেহের বৃদ্ধ বিকলতা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।