| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক ‘খ’ সবসময়…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক ‘খ’ সবসময় শিক্ষার্থীদের কথা ভাবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তাই তিনি সৃজনশীল পদ্ধতিতে ক্লাস উপস্থাপন করেন। তিনি খুবই সময়ানুবর্তী ও কর্তব্যনিষ্ঠ একজন শিক্ষক। যেকোনো কাজকে গুরুত্ব দিয়ে করেন। তার বন্ধু ‘গ’ অবৈধ ব্যবসা করে মোটা টাকার মালিক হয়ে একটি কারখানা তৈরি করেছেন। কারখানার শ্রমিকদের কঠোরভাবে খাটান কিন্তু ন্যায্য মজুরি দেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
মূল্যবোধ হলো সমাজের মানুষের মৌলিক বিশ্বাস, সামাজিক রীতিনীতি ও আচার-আচরণের সমষ্টি।
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইনের প্রাধান্য বজায় থাকাকে বোঝায়।
ধনী-গরিব, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। কেউ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী নয়। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে-এটাই আইনের শাসনের সার্থকতা। আইনের শাসন মূলত ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
উদ্দীপকের শিক্ষক 'খ' এর মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং শ্রমের মর্যাদা নামক মূল্যবোধগুলো বিদ্যমান।
মূল্যবোধের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা হলো সময়ানুবর্তিতা এবং নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই হলো কর্তব্যনিষ্ঠা। এছাড়া যেকোনো কাজকে ছোট মনে না করে গুরুত্ব সহকারে করা এবং শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াকে শ্রমের মর্যাদা বলা হয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এই মূল্যবোধগুলো অপরিহার্য।
উদ্দীপকের শিক্ষক 'খ' শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা ভাবেন এবং তাদের পাঠদানের জন্য আধুনিক সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি অত্যন্ত সময়ানুবর্তী ও কর্তব্যনিষ্ঠ, যা তার পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতাকে প্রকাশ করে। এছাড়া তিনি যেকোনো কাজকে গুরুত্ব দিয়ে করেন, যা তার মধ্যে শ্রমের মর্যাদাবোধের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। শিক্ষক 'খ' এর এই আচরণগুলো নাগরিক মূল্যবোধের আদর্শ প্রতিফলন, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে। সুতরাং শিক্ষক 'খ' এর মধ্যে উল্লিখিত ইতিবাচক মূল্যবোধগুলো ফুটে উঠেছে।
না, উদ্দীপকে বর্ণিত 'গ' একজন মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ নন।
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের মানদণ্ড, যা তাকে ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখায়। নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ সর্বদা অন্যের অধিকারের প্রতি সচেতন এবং অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকেন। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের 'গ' অবৈধ ব্যবসা করে ধনী হয়েছেন, যা তার মধ্যে নীতি ও ঔচিত্যবোধের চরম অভাবকে নির্দেশ করে। তিনি তার কারখানার শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম করালেও তাদের ন্যায্য মজুরি দেন না। এটি শ্রমের মর্যাদার পরিপন্থি এবং সামাজিক অবিচার। তার এই আচরণ প্রমাণ করে যে তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেন এবং অন্যের মৌলিক অধিকার হরণ করেন।
মূল্যবোধহীন মানুষ সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কাজ করে। 'গ' এর মতো ব্যক্তিরা অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এটি একটি চরম অনৈতিক কাজ। একজন প্রকৃত মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ কখনোই অন্যের শ্রম শোষণ করতে পারেন না এবং অবৈধ পথে সম্পদ অর্জন করেন না। তাই রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, 'গ' এর কর্মকান্ডে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে এবং তিনি কোনোভাবেই একজন মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ নন।