| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক ক্লাসে বললেন…’ সোনার বাংলা কলেজ ২০২৪ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক ক্লাসে বললেন ‘ক’ এমন একটি কোষবিভাজন দেখালেন যাতে বিভাজনের এক পর্যায় কায়াজমা দেখা যায়, অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
প্রতিটি ক্রোমোসোমকে সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত অনুদৈর্ঘ্যে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত দেখা যায়, অর্থাৎ প্রতি বাইভেলেন্টে দুটি সেন্ট্রোমিয়ার এবং চারটি ক্রোমাটিড থাকে। এ অবস্থাকে টেট্রাড বলে।
প্রো-মেটাফেজ ধাপের স্পিন্ডল তন্তুর সাথে সংযুক্ত আন্দোলিত ক্রোমোজমগুলোকে ক্রোমোসমীয় নৃত্য বা ড্যান্সিং বলা হয়।
প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে উদ্ভিদ কোষে তত্ত্বময় প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের তন্তুগুলো এক মেরু হতে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। এদেরকে স্পিন্ডল ফাইবার (spindle fibre) বলা হয়। প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল যন্ত্রের নির্দিষ্ট তন্ত্রর সাথে সংযুক্ত হয়। এসময় ক্রোমোসোম একটু আন্দোলিত হয় যাকে ক্রোমোসোমীয় নৃত্য বা ড্যন্সিং বলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের শিক্ষকের বলা ‘ক’ কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া হলো মায়োসিস বিভাজন। এর প্রথম পর্যায় প্রফেজ এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে ক্রসিং ওভার সম্পন্ন্ হয়।এ উপ-পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য সমূহ হলো:
● ক্রমাগত সংকোচনের ফলে এ উপ-পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলোকে আরও খাটো ও মোটা দেখা যায়।
● এ পর্যায়ে সর্বপ্রথম বাইভেলেন্টের প্রতিটি ক্রোমোসোমকে সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত অনুদৈর্ঘ্যে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত দেখা।
● একই ক্রোমোসোমের দুটি ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে এবং একই জোড়ার দুটি ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিডকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
● এ উপ-পর্যায়ের শেষের দিকে বাইভেলেন্টের যেকোনো দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড সম্ভবত একই স্থানে ভেঙে গিয়ে পুনরায় একটির সাথে অন্যটির জোড়া লাগে। ফলে ঐ জোড়ার স্থানে একটি ইংরেজি X আকৃতির বা ক্রস চিহ্নের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়।
● দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের 'X' আকৃতির বা ক্রস চিহ্নের মতো জোড়াস্থলকে কায়াজমা বলে।
● নন-সিস্টার ক্রোমাটিভের মধ্যে পরস্পর অংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বা ক্রস ওভার বলে।
● কায়াজমাটা সৃষ্টির ফলে যে ক্রসিং ওভার হয় তাতে ক্রোমোসোমে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়।
এ পর্যায়েও নিউক্লিওলাস এবং নিউক্লিয়ার এনভেলপ দেখা যায়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি মায়োসিস বিভাজন প্রক্রিয়া। জীবজগতের জুনক্রম ও অভিব্যক্তিতে মায়োসিস বিভাজনের ভূমিকা রয়েছে।
মায়োসিস আনে বৈচিত্র্য, আর বৈচিত্র্য আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।ক্রসিং ওভারের ফলে এই মায়োসিস বিভাজন প্রক্রিয়ায় দুটি ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে, ফলে জিনগত পরিবর্তন সাধিত হয়। জিনগত পরিবর্তন সাধনের ফলে সৃষ্ট জীবে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন সাধিত হয়।বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টিকুলে আসে বৈচিত্র্য, সৃষ্টি হয় নতুন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা, আবার কখনো সৃষ্টি হয় নতুন প্রজাতি।ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নত বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট নতুন প্রকরণ সৃষ্টি করা যায়। এভাবেই ফসলি উদ্ভিদের ক্রমাগত উন্নতি সাধন করা হয়।
কোনো জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড (2n) রেণুধর জনু বা অযৌন জনু এবং হ্যাপ্লয়েড (n) লিঙ্গধর জনু বা যৌন জনুর পর্যায়ক্রমিক চক্রাকার আবর্তন কে জনুক্রম বলে।যে সকল জীবের জীবনচক্রে জনুঃক্রম আছে সেখানে মায়োসিস প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
সমগ্র উদ্ভিদ জগতে প্রধানত তিন প্রকারের জনুক্রম দেখা যায়। এগুলি হলো: ১) হ্যাপ্লোবায়োন্টিক, ২) ডিপ্লোবায়োন্টিক ও ৩) ট্রাইফেজিক। হ্যাপ্লন্টিক জনুক্রম এর ক্ষেত্রে, মিয়োসিস বিভাজন জাইগোট এ ঘটে। ডিপ্লন্টিক জনুক্রম এর ক্ষেত্রে, মিয়োসিস বিভাজন রেণু মাতৃকোশ এ ঘটে।