| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক ক্লাসে দুই…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৪ – নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক ক্লাসে দুই প্রকার উদ্ভিদ গোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এক প্রকার উদ্ভিদ গোষ্ঠী আছে যাদের বীজ উন্মুক্ত থাকে। আরেক প্রকার উদ্ভিদগোষ্ঠী রয়েছে যাদের বীজ আবরনযুক্ত। দ্বিতীয় প্রকার উদ্ভিদ গোষ্ঠীর একটি গোত্র বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
বৃতি এবং দলকে যখন আকৃতি ও বর্ণে পৃথক করা যায় না অর্থাৎ দেখতে এরা একই রকম দেখায় তখন এদেরকে একত্রে পেরিয়্যান্থ বা পুষ্পপুট বলে।
যে প্রতীকের সাহায্যে একটি পুষ্পের মাতৃঅক্ষের তুলনায় এর বিভিন্ন স্তবকের পুষ্পপত্রগুলোর অবস্থান, সংখ্যা, সমসংযোগ, অসমসংযোগ, পুষ্পপত্রবিন্যাস, অমরাবিন্যাস প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখানো হয় তাকে পুষ্প প্রতীক বলে।
পুষ্প প্রতীক মোটামুটিভাবে বৃত্তাকার দেখানো হয়। বৃত্তের উপরে মাতৃঅক্ষ একটি বিন্দুর আকারে দেখানো হয় এবং বৃত্তের নিচে মঞ্জরীপত্র (যদি থাকে) দেখানো হয়। বৃত্তের বাইরের স্তবকে বৃত্যংশ ও এর পুষ্পপত্রবিন্যাস দেখানো হয়; দ্বিতীয় স্তবকে পাপড়ি ও এর পুষ্পপত্রবিন্যাস দেখানো হয়; তৃতীয় স্তবকে পুংকেশর, এর সংখ্যা, সম বা অসমসংযুক্তি দেখানো হয় এবং মধ্যখানে গর্ভাশয়ের প্রস্থচ্ছেদ তথা অমরাবিন্যাস দেখানো হয়। উপবৃতি থাকলে বৃতির স্তবকের বাইরে আর একটি স্তবকে দেখানো হয়।
উদ্দীপকের প্রথম প্রকার উদ্ভিদ হলো নগ্নবীজী উদ্ভিদ।এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
১। উদ্ভিদ বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ, স্পোরোফাইট অসমরেণুপ্রসূ (heterosporous) অর্থাৎ মাইক্রোস্পোর ও মেগাস্পোর (পুং ও স্ত্রী স্পোর) তৈরি করে।
২। রেণুপত্র অর্থাৎ স্পোরোফিলগুলো ঘনভাবে সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস বা কোন (cone) তৈরি করে।
৩। মেগাস্পোরোফিল-এ (স্ত্রীরেণুপত্র) ডিম্বক উৎপন্ন হলেও কোনো গর্ভাশয় তৈরি হয় না অর্থাৎ এদের গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড নেই।
৪। পরাগায়নকালে পরাগরেণু সরাসরি ডিম্বক রন্ধে পতিত হয়।
৫। ডিম্বক মেগাস্পোরোফিলের কিনারে নগ্ন অবস্থায় থাকে।
৬। গর্ভাশয় নেই তাই এদের কোনো ফল সৃষ্টি হয় না।
৭। ফল সৃষ্টি হয় না বলে বীজ (নিষিক্ত ডিম্বক) নগ্ন অবস্থায় থাকে।
৮। নগ্নবীজী উদ্ভিদে ছিনিষেক ঘটে না (ব্যতিক্রম Ephedra), তাই শাঁস (endosperm) হ্যাপ্লয়েড এবং নিষেকের পূর্বে সৃষ্টি হয়।
৯। জাইলেম টিস্যুতে সত্যিকার ভেসেল কোষ থাকে না (ব্যতিক্রম Ginclum) এবং ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে না।
১০। সকলেই বায়ু পরাণী।
১১। জীবনচক্রে অসমআকৃতির (heteromorphic) অনুঃক্রম বিদ্যমান।
১২। সাধারণত আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয়।
১৩। Leafscar নগ্নবীজী উদ্ভিদের একটি ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয় প্রকার উদ্ভিদ গোষ্ঠীর যে গোত্র বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তা হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদের Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ। এদের কিছু গুরত্বপূর্ণ উদ্ভিদের তালিকা দেয়া হল:
Oryza sativa L. (ধান) চাষ করা হয়। বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত আসে ধানের চাল থেকে। পৃথিবীর প্রায় ৬০% লোকের প্রধান খাদ্য ভাত। চিড়া, মুড়ি, পিঠা, পায়েস সবই আসে ধান বা চাল থেকে। খড় উঁচু মানের গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধানের কুড়া থেকে ভোজ্য তেল ও হাঁস-মুরগির খাদ্য প্রস্তুত করা হয়।
Saccharum officinarum L. (আখ, ইক্ষু)। চাষ করা হয়। আখ থেকে গুড়, চিনি, জ্বালানি ইত্যাদি পাওয়া । চিনি কলের বর্জ্য পদার্থ চিটাগুড় (মলাসেস) থেকে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল, মেথিলেটেড স্পিরিট, দেশী যায় মদ ও ভিনেগার তৈরি করা হয়। আখের ছোবড়া পার্টেক্স তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া জ্বালানির কাজেও ব্যবহার করা হয়।
Triticum aestivum L. (গম) চাষ করা হয়। আটা, সুজি, ময়দা ইত্যাদির জন্য চাষ করা হয়। রুটি, পরোটা,হয়।পাউরুটি, বিস্কুট প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গমের খড় গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
Zea mays L. (ভুট্টা)। চাষ করা হয়। ভুট্টা থেকে পপকন ও খইসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হয়। থেকে কর্ণফ্লেক্স তৈরি হয়। হাঁস-মুরগির খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
Hordeum vulgare L. (যব বা বার্লি) চাষ করা হয়। যবের আটার জন্য চাষ করা হয়। যবের ছাতু উপাদেয় সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যপ্রদ খাদ্য। হরলিক্স ও কমপ্ল্যান জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।