| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক ক্লাসে পাখির…’ a – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক ক্লাসে পাখির পরিযান ও তিন কাঁটা মাছের অপত্য যত্ন সম্পর্কে পড়ালেন। [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
FAP এর পূর্ণরূপ হলো- Fixed Action Pattern.
একটি মৌচাকে পরিণত রাণী মৌমাছি মিলনের উদ্দেশ্যে চাক থেকে বের হয়ে উড়তে শুরু করে। তখন অনেকগুলো পুরুষ মৌমাছি রাণীর সাথে উড়তে থাকে। পুরুষ মৌমাছিদের মধ্যে যে সবচেয়ে উপরে উঠতে পারে সে রাণীর সাথে মিলিত হতে পারে। রাণী তখন পুরুষের সাথে মিলিত হয়ে শুক্রাণু সংগ্রহ করে রাখে ডিম পাড়ার জন্য। এই প্রক্রিয়াকেই নপসিয়াল উড্ডয়ন বলে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত মাছটি হচ্ছে তিন কাঁটা স্টিকলব্যাক পুরুষ মাছ। এ মাছ মূলত জিগ-জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শন করে স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করে। আর এ আচরণটি একটি সহজাত আচরণ। নিচে উদ্দীপকের শেষ লাইনটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রখ্যাত আচরণ বিজ্ঞানী নিকো টিনবারজেন তিন কাঁটা স্টিকলব্যাক মাছের চমকপ্রদ অপত্য লালনের তথ্য প্রদান করেন। এসব মাছ উত্তর গোলার্ধের উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায়। এদের পুরুষ মাছ ডিম পাড়ার জন্য প্রজনন এলাকা নির্ধারণ করে এবং অগভীর পানিতে বাসা নির্মাণ করে। এরা জিগ-জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যৌন পরিপক্ক স্ত্রী মাছকে বাসায় নিয়ে আসে। পুরুষের প্ররোচনায় স্ত্রীটি বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর উপর পুরুষ মাছটি শুক্র ত্যাগ করে নিষেক ঘটায়। নিষেকের পর পুরুষটি স্ত্রীকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং আরো দু- তিনটি স্ত্রীকে একইভাবে বাসায় এনে ডিম পাড়ায়।
ডিম ও বাচ্চাদের যত্ন নেওয়ার সকল দায়িত্ব পুরুষটি গ্রহণ করে। এরা নিষ্ক্রিয় ডিমগুলোকে বাসার নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রাখে। এসময় পুরুষ মাছটি স্বজাতীয় স্ত্রী, পুরষ, অন্য মাছ কিংবা খাদক ইত্যাদি যেকোনো ধরনের আগুন্তককে বাসার নিকট ভিড়তে দেয় না। এদের ডিম ফুটতে ৭-৮ দিন সময় লাগে। পোনাগুলো ঝাঁক বেঁধে চলা শিখতে না পারা পর্যন্ত এরা বাসা পাহারা দেয়। কখনো কোনো পোনা দলছুট হলে পুরুষটি ছুটে গিয়ে পোনাকে মুখে পুরে এনে নিজ দলের মধ্যে ছেড়ে দেয়। প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে পোনাগুলো ঝাঁক বেঁধে চলার স্বভাব রপ্ত করলে তিনকাঁটা স্টিকলব্যাক পুরুষ মাছটি বাসা ত্যাগ করে পূর্ণ বয়স্ক সাথীদের সাথে চলে যায়। - উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের শেষ লাইনটি তিন কাঁটা স্টিকলব্যাক মাছের সহজাত আচরণের বহিঃ প্রকাশ। যা প্রাণী জন্মগতভাবে অর্জন করে এবং বংশ পরম্পরায় অপরিবর্তিত থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম প্রাণীটি হচ্ছে পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পাখি পরিযায়ী হয় তার বেশির ভাগ আসে হিমালয় ও সাইবেরিয়া থেকে। অনেক প্রজাতির আগমন ঘটে ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্য থেকে। ইউরেশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ায় শীতে পাখি পরিযায়ী হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পরিযায়ী পাখির পরিযানে সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই দেখা যায়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- পরিযানের ফলে পাখি আবহাওয়ার প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা পায়; বিচিত্র ও পর্যাপ্ত আহার পায় এবং পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায়; গ্রীষ্মে স্বদেশ ভূমিতে এসে উপযোগী ও নিষ্কন্টক জননক্ষেত্র ফিরে পায়, কম কষ্টে পর্যাপ্ত আহার পায়, তখন জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। বিভিন্ন প্রজাতির মিলনে জিন সংযুক্তির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পরিযান পাখির জন্য বেশ বিরূপ প্রভাব ফেলে, যেমন- অনেক সময় বিরতিহীন ভ্রমণে ক্লান্ত অসংখ্য পাখি সমুদ্রে পড়ে মারা যায়; আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে, যেমন- প্রবল বর্ষণ, তুষারপাত ও ঝড়ে পড়ে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী পাখি মৃত্যুবরণ করে; তরুণ পাখিরা দূর পরবাসে অনেক প্রাকৃতিক শত্রুর মুখোমুখি হয়; বৈদ্যুতিক তার ও লাইট হাউজ ছাড়াও অগণিত পাখি মানুষের শিকারে পরিণত হয় এবং মানুষের শিকারে পরিণত হয়ে অকালে প্রাণ হারায়।