| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক ক্লাসে প্রাণীদের…’ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক ক্লাসে প্রাণীদের মধ্যে ৯:৭ ফিনোটাইপিক অনুপাত সম্পর্কে জানালেন। তিনি আরও জানালেন যে মানুষের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টরের কারণে সমস্যা হতে পারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
লিথাল জিন হলো সেসব জিন যারা হোমোজাইগাস অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটায়।
দুটি নিকটবর্তী পর্ব বা শ্রেণির মধ্যবর্তী দশার জীবাশ্মকে সংযোগকারী যোগসূত্র বলা হয়। আর্কিওপটেরিক্স এ ধরনের একটি জীবাশ্ম। এতে পাখি ও সরীসৃপ উভয় শ্রেণির বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাই একে সরীসৃপ থেকে পাখি উদ্ভবের সংযোগকারী যোগসূত্র বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিনোটাইপিক অনুপাত থেকে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রমকে বোঝানো হয়েছে। মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী ডাইহাইব্রিড ক্রসে F₂ জনুতে ৯:৩: ৩: ১ ফিনোটাইপিক অনুপাত পাওয়া যায়। কিন্তু দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম ঘটে। ফলে, F₂ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ৯: ৭ হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রচ্ছন্ন জিন একে অপরের প্রকট অ্যালিলকে বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা প্রদান করলে জিনের সেই আন্তঃক্রিয়াকে বলা হয় দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস। মানুষের জন্মগত মূক-বধিরতা দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসের কারণে হয়ে থাকে। দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত এপিস্ট্যাটিক প্রচ্ছন্ন জিন এর জন্য দায়ী। এ দুটি জিনের একটি যখন হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে তখন অন্য প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা পায়। এখানের জিনোটাইপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দ্বৈত এপিস্ট্যাটিক জিন dd অথবা ee এর উপস্থিতিতে মূক-বধির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। ও e প্রছন্ন জিন দ্বৈত অবস্থায় থাকার কারণে প্রকট হোমোজাইগাস জিন DD ও EE বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা পায়। ফলে F₂ জনুতে স্বাভাবিক বাক-শ্রবণক্ষম ও মূক-বধিরের অনুপাত ৯: ৭ হয়। মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী ডাইহাইব্রিড ক্রসে দুই জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের দিকে দৃষ্টি রেখে ক্রস করানো হয় এবং এখানে ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে প্রকট অ্যালিলিক জিনের মাধ্যমে। ফলে F₂ জনুতে জোড়া বৈশিষ্ট্যের ফিনোটাইপিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৯:৩:৩:১ অনুপাতের মাধ্যমে।
কাজেই, F₂ জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাতের ভিন্নতায় প্রমাণ করে যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম।
মানুষের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে Rh ফ্যাক্টর জনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টরের ভিন্নতার কারণে রক্ত সঞ্চালন এবং গর্ভধারণজনিত গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিচে এই সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতা: রক্তপাত বা অস্ত্রোপচারের সময় দাতা ও গ্রহীতার Rh ফ্যাক্টর যাচাই না করে রক্ত সঞ্চালন করলে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। যদি Rh পজিটিভ রক্ত কোনো Rh নেগেটিভ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়, তবে রক্তকণিকাগুলো জমাট বেঁধে ভেঙে যায়। এর ফলে প্রস্রাবের সাথে হিমোগ্লোবিন বের হয়ে আসতে পারে। এই হিমোগ্লোবিন বৃক্কে জমা হয়ে ইউরোমিয়া রোগ সৃষ্টি করে, যা বৃক্কের কাজ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া রোগীর জন্ডিস হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই জরুরি অবস্থায় দাতার গ্রুপ জানা না থাকলে Rh নেগেটিভ রক্ত সঞ্চালন করা সবচেয়ে নিরাপদ।
গর্ভধারণজনিত জটিলতা (এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস): একজন Rh নেগেটিভ মহিলার সাথে Rh পজিটিভ পুরুষের বিয়ে হলে তাদের সন্তান Rh পজিটিভ হয়। ভ্রূণের Rh পজিটিভ লোহিত কণিকা অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্তে প্রবেশ করলে সেখানে Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। প্রথম সন্তানের সময় এই অ্যান্টিবডি খুব ধীরে তৈরি হয় বলে শিশুটি সুস্থভাবে জন্ম নিতে পারে। তবে পরবর্তী গর্ভধারণের সময় মায়ের রক্তে আগে থেকে তৈরি থাকা অ্যান্টিবডি অমরার মাধ্যমে ভূণের রক্তে প্রবেশ করে লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে ভ্রুণ নষ্ট হয়ে গর্ভপাত ঘটতে পারে। শিশু জীবিত জন্মালেও তার শরীরে প্রচণ্ড রক্তস্বল্পতা ও জন্ডিস দেখা দেয়। লোহিত রক্তকণিকার এই ভাঙ্গনজনিত রোগকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলা হয়।
সুতরাং বলা যায়, Rh ফ্যাক্টরের কারণে মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।