| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনায় বললেন- “আমাদের দেহে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা স্তরে B-লিম্ফোসাইট থেকে এক ধরনের প্রোটিন অণু উৎপন্ন হয় যা অণু প্রবেশকারী বস্তু বা অণুজীবকে ধ্বংস করে। দেহ প্রতিরক্ষায় উক্ত প্রোটিন অণু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে একই প্রজাতির কতগুলো প্রাণী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপর সদস্যের কল্যাণে নিজের সময় ও শক্তি উৎসর্গ করার প্রক্রিয়াই হলো অ্যান্টুইজম।
নিউট্রোফিল এক ধরনের শ্বেতকণিকা, যা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। এক্ষেত্রে নিউট্রোফিল ক্ষণপদ সৃষ্টি করে জীবাণুকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এবং ক্ষণপদের মাঝে সৃষ্ট গহ্বরে জীবাণুকে আবদ্ধ করে। এ গহ্বরকে ফ্যাগোসোম বলে। ফ্যাগোসোম পরে লাইসোসোমের সাথে একীভূত হয়। লাইসোজোমের এনজাইম জীবাণুকে মেরে ফেলে। এ ঘটনার জন্যই নিউট্রোফিলকে ফ্যাগোসাইট বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। B লিম্ফোসাইট প্লাজমা কোষে বিভক্ত হয় এবং প্লাজমা কোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
সকল ধরনের অ্যান্টিবডির একটি সাধারণ গঠন থাকে। এটি চারটি পলিপেপটাইড শিকল নিয়ে গঠিত। এদের দুটি শিকল দৈর্ঘ্যে ছোট এবং দুটি বড়। ছোট ও বড় আকৃতির শিকলদের যথাক্রমে হালকা ও ভারী শিকল বলা হয়। প্রতিটি শিকলের দুটি নির্দিষ্ট অংশ আছে। একটি অংশ স্থায়ী ও অপরিবর্তনশীল, এদের CL ও CH হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপর অংশটি অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল, এদের V₁ ও VH হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ছোট ও হালকা পলিপেপটাইড গ্রায় 220টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে বড় ও ভারীগুলোতে থাকে 440টি। চারটি পলিপেপটাইড শিকল পরস্পর ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা পাশাপাশি যুক্ত হয়ে Y আকৃতির অ্যান্টিবডি বা 'ইমিউনোগ্লোবিন সৃষ্টি করে। Y আকৃতির অ্যান্টিবডি অণুর দীর্ঘ দণ্ডাকৃতির অংশটি কেবল ভারী পলিপেপটাইড শিকলের স্থায়ী অংশ দ্বারা গঠিত, যাকে FC অঞ্চল বলে। অপরদিকে Y এর প্রসারিত দুই বাহু উভয় ধরনের পলিপেপটাইড শিকল দ্বারা গঠিত হয় যাকে Fab অঞ্চল বলে। 'অ্যান্টিবডির Y যে অংশ দ্বারা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয় তাকে প্যারাটপ বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুটি হলো অ্যান্টিবড়ি। অ্যান্টিবডি জীবাণু বা অ্যান্টিজেনকে অকার্যকর করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। অ্যান্টিবডির প্যারাটোপ নামক নির্দিষ্ট অংশ বহিরাগত অ্যান্টিজেন বা জীবাণুর প্লাজমামেমব্রেন এর অ্যান্টিজেনধর্মী যৌগের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবদ্ধ হয়ে জীবাণুকে অকার্যকর করে। নিম্নে অ্যান্টিজেন অকার্যকরের ঘটনা ব্যাখ্যা করা হলো-
i. অ্যান্টিবডি একাধিক জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে এদেরকে সুপকৃত করে।
ii. বিক্রিয়ালব্ধ পদার্থ দ্রবীভূত না হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হয়।
iii. অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনধর্মী জীবাণুর বিষাক্ত স্থানকে আবৃত করে প্রশমন করে।
iv. অনেক সময় অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণুর ঝিল্লিকে আক্রমণ করে তাকে ছিন্ন বা বিশ্লিষ্ট করে।
v. অ্যান্টিবডি জীবাণুর উপরিতলকে আক্রমণ করায় এরা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তিত জীবাণুকে রক্তের নিউট্রোফিল ও দেহের অন্যান্য ম্যাক্রোফেজ আগ্রাসনের মাধ্যমে বিনষ্ট করে। একে অপসোনাইজেশন বলে।
এভাবেই বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিবডি ক্ষতিকর অণুজীবের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং দেহকে রোগমুক্ত রাখে।