| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক রুই মাছ…’ ঢাকা বোর্ড ২০২১ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক রুই মাছ সম্পর্কে পাঠদানকালে বললেন, এদের দেহের অভ্যন্তরে বায়ুপূর্ণ এমন একটি বিশেষ অঙ্গ আছে যা পানিতে প্রাণীটির ভারসাম্য রক্ষা ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীটির রক্তসংবহন পদ্ধতি তোমাদের রক্তসংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
হাইওয়েড আর্চের হ্রাসপ্রাপ্ত ফুলকা বা সিউডোব্রাঙ্কিয়া কানকোর ভিতরের দিকে একটি চাকের মত লেগে থাকে। এতে মাত্র এক সারি ফুলকা ফিলামেন্ট থাকে। ফুলকা আর্চের ভিতরের দিকে গলবিল প্রাচীর থেকে কয়েকটি ভাঁজের মত সৃষ্টি হয়। এদেরকে ফুলকা রেকার বলে।
ভেনাস হার্টকে শিরা হৃদপিন্ড বলা হয় । হৃদপিণ্ডের যে প্রকষ্ঠের দিয়ে শুধুমাত্র অশুদ্ধ রক্ত (CO2 যুক্ত রক্ত ) প্রবাহিত হয় সেগুলিকে ভেনাস হার্ট বলা হয়। আমাদের ক্ষেত্রে ডান অলিন্দ এবং ডান নিলয়ের মধ্যে দিয়ে অশুদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয় তাই ওই প্রকষ্ঠো দুটিকে একসাথে ভেনাস হার্ট বলা হয়।
মাছেদের হৃদপিন্ডকে ভেনাস হৃদপিন্ড বলা হয়ে থাকে কারণ মাছেদের হৃদপিন্ড মাত্র দুটি প্রকষ্ঠো আছে এবং ওই দুটি দিয়ে শুধুমাত্র অশুদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো রুইমাছের বায়ুথলি । নিচে রুইমাছের বায়ুথলির গঠন বর্ণনা করা হলো :
রুইমাছের মেরুদণ্ডের নিচে এবং পৌষ্টিকনালির উপরে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট থলির নাম বায়ুথলি বা পটকা। এটি দেখতে চকচকে সাদা থলির মতো এবং বিভিন্ন ধরনের গ্যাসে (অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড) পূর্ণ থাকে । বায়ুথলিটি সম্মুখস্থ ছোট ও পেছনের বড় প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝখানে একটি খাঁজ রয়েছে। সম্মুখ প্রকোষ্ঠ একটি সরু নল দিয়ে অন্ননালির সাথে যুক্ত থাকে । এ নলের নাম নিউম্যাটিক নালি। এটি অন্তঃকর্ণের ওয়েবেরিয়ান অসিকলের সাথে যুক্ত থাকে। বায়ুথলির বাইরের দিক ঘনসন্নিবিষ্ট রক্তজালক সমৃদ্ধ। এর প্রাচীর দুটি স্তর নিয়ে গঠিত । বাইরের যোজক টিস্যু দ্বারা গঠিত স্তর টিউনিকা এক্সটার্না এবং ভিতরে মসৃণ পেশি নির্মিত স্তর টিউনিকা ইন্টারনা। বায়ুথলির অন্তঃপ্রাচীরের এপিথেলিয়াম সংলগ্ন একটি লাল বর্ণের গ্যাস গ্রন্থি থাকে। গ্রন্থিতে ঘনসন্নিবিষ্ট অসংখ্য কৈশিকনালি দেখা যায় যাদের রেটিয়া মিরাবিলিয়া বলা হয় । সামনের প্রকোষ্ঠের এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস দ্বারা বায়ুথলি পূর্ণ হয়। কিন্তু পেছনের প্রকোষ্ঠে বিদ্যমান এ গ্রন্থি গ্যাস শোষণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো রুই মাছ আর উল্লিখিত তোমাদের রক্তসংবহন পদ্ধতি বলতে মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতিকে নির্দেশ করছে। অতএব, রুইমাছের এবং মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি ভিন্নতর কারণ-
১. এই রুইমাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি হতে অনুন্নত।
২. রুইমাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি এক বর্তনীয় আর মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি দ্বিবর্তনীয় পদ্ধতির।
৩।এবং রুইমাছে পালমোনারি সংবহন নেই মানুষে পালমোনারি সংবহন পদ্ধতি আছে।
৪। রুইমাছে রক্ত O2 সমৃদ্ধ হয় ফুলকায় আর মানুষের ক্ষেত্রে O2 সমৃদ্ধ হয় ফুসফুসে।
৫. আর রুইমাছের সংবহনের সময় হূৎপিণ্ড দুই ধরনের রক্ত অর্থাৎ CO2 ও O2 সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড দুই ধরনেরই রক্ত বহন করে। রুইমাছের রক্ত O2 সমৃদ্ধ হয় পানি থেকে O2 নিয়ে আর মানুষের ক্ষেত্রে বায়ু থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারাদেহে রক্ত পরিবাহিত হয়।