| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বৃক্কের…’ Combined ২০২৬ – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বৃক্কের গাঠনিক এককের চিত্র “অঙ্কন” করে কীভাবে সেখানে মূত্র সৃষ্টি হয় তার প্রক্রিয়া ছাত্রদের বুঝিয়ে দিলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের এক বিশেষ ধরনের কোষ (টাইপ-২ অ্যালভিওলার কোষ) থেকে নিঃসৃত ফসফোলিপিড জাতীয় ডিটারজেন্ট সদৃশ পদার্থকে সারফেকট্যান্ট (Surfactant) বলে। এটি অ্যালভিওলাসের ভেতরের তরলের পৃষ্ঠটান কমিয়ে একে চুপসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
প্যারানাসাল সাইনাসের মিউকাস ঝিল্লির প্রদাহকে সাইনুসাইটিস বলে। এর প্রধান লক্ষণসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. মাথাব্যথা এবং মুখমণ্ডলে (বিশেষ করে চোখের পেছনে, গালে বা কপালে) তীব্র ব্যথা ও চাপ অনুভূত হওয়া।
২. নাক থেকে ঘন, হলুদ বা সবুজ রঙের শ্লেষ্মা বের হওয়া।
৩. নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং ঘ্রাণশক্তি সাময়িকভাবে কমে যাওয়া।
৪. অনেক সময় এর সাথে জ্বর, কাশি, দাঁতে ব্যথা এবং ক্লান্তি বোধ হওয়া।
উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো বৃক্ক (). মানবদেহের সুস্থতার জন্য রক্তের মান ৭.৩ থেকে ৭.৪৫-এর মধ্যে (গড় ৭.৪) থাকা অপরিহার্য। রক্তের এই কাঙ্ক্ষিত অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বা নিয়ন্ত্রণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
রক্তের মূলত রক্তে থাকা হাইড্রোজেন আয়ন () এবং বাইকার্বোনেট আয়নের () ঘনমাত্রার ওপর নির্ভর করে। বৃক্ক প্রধানত এই দুটি আয়নের রেচন ও পুনঃশোষণের মাত্রার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে:
১. রক্তের অম্লতা বৃদ্ধি পেলে ( কমে গেলে): বিপাকীয় কারণে বা অন্য কোনোভাবে রক্তে অম্লের পরিমাণ বেড়ে গেলে, নেফ্রনের রেনাল টিউবিউলের কোষগুলো রক্ত থেকে অতিরিক্ত আয়ন সক্রিয়ভাবে ফিলট্রেটে (মূত্রে) ক্ষরণ করে। একইসাথে, এরা ফিলট্রেট থেকে প্রয়োজনীয় বাইকার্বোনেট আয়ন () সম্পূর্ণ পুনঃশোষণ করে রক্তে ফিরিয়ে আনে এবং প্রয়োজনে নতুন তৈরি করে রক্তে পাঠায়। ফলে রক্ত তার স্বাভাবিক ক্ষারীয় অবস্থায় ফিরে আসে এবং অম্লীয় মূত্র নির্গত হয়।
২. রক্তের ক্ষারীয়তা বৃদ্ধি পেলে ( বেড়ে গেলে): রক্তে ক্ষারের পরিমাণ বেড়ে গেলে, বৃক্ক আয়নের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। তখন ফিলট্রেট থেকে বাইকার্বোনেট আয়ন () পুনঃশোষণের মাত্রাও অনেক কমিয়ে দেয়। ফলে অতিরিক্ত বাইকার্বোনেট মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায় এবং রক্তের মান কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
৩. বাফার সিস্টেমের ভূমিকা: বৃক্কনালিকার ভেতরে অ্যামোনিয়া এবং ফসফেট বাফার কাজ করে। নালিকার কোষ থেকে নিঃসৃত অ্যামোনিয়া () ক্ষরিত আয়নের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যামোনিয়াম আয়ন () গঠন করে, যা মূত্রের সাথে রেচিত হয়ে দেহের অতিরিক্ত এসিড দূর করে।
উপযুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, দেহে প্রতিনিয়ত উৎপন্ন হওয়া অতিরিক্ত এসিড বা ক্ষার অপসারণ করে রক্তের বা অম্ল-ক্ষারের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্কের ভূমিকা অপরিসীম।