| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে একটি প্রাণীর রক্ত সংবহনের দু’টি ধারা উল্লেখ করলেন।
১ম ধারা: ক→ CO2 যুক্ত রক্ত →ফুলকা
২য় ধারা: ফুলকা →O2 যুক্ত রক্ত-→ দেহ -→ ক
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
মিথোজীবিতার হলো যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থানের ফলে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হয়, তখন এ ধরনের সাহচর্যকে মিথোজীবিতা বলে।
রুই মাছের প্রতিটি ফুলকা-ফুলকা আর্চ ও ফুলকা ফিলামেন্ট (gill filament) নিয়ে গঠিত । প্রতিটি ফুলকা আর্চ অস্থি নির্মিত এবং ভিতরের প্রান্ত প্রশস্ত হয়ে কাঁটার মতো পাত গঠন করে। একে ফুলকা র্যাকার (gill raker) বলে । এরা খাদ্যবস্তুকে গলবিল থেকে ফুলকা প্রকোষ্ঠে প্রবেশে বাঁধা দেয়।
রুই মাছের রক্ত সংবহন, সঙ্কোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড রক্ত পরিবহন করে । কপাটিকাসমূহের নিয়ন্ত্রণের ফলে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্ত সংবহনের একমুখিতা দেখা যায় এবং এ ধরনের হৃৎপিণ্ডকে এক চক্রী হৃৎপিণ্ড (single circuit heart) বলে । হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল CO,-সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট (venous heart) বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলা হয়ে থাকে ।
হৃৎপিণ্ড থেকে CO2-সমৃদ্ধ রক্ত একমুখী প্রবাহে 02-সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ফুলকায় প্রেরিত হয় এবং ফুলকা থেকে সারাদেহ হয়ে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। একটি ছন্দোময় তালে হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অংশ নির্দিষ্ট সময় অন্তর সঙ্কুচিত হয় । প্রথমে সাইনাস ভেনোসাসে সঙ্কোচন ঘটে । পরে ক্রমে অ্যাট্রিয়াম, ভেন্ট্রিকল ও বাল্বাস আর্টারিওসাস সঙ্কুচিত হয় । হৃৎপিণ্ডের প্রতিবার সঙ্কোচনকে সিস্টোল (systole) বলে । সিস্টোলের পরপরই হৃৎপিণ্ড প্রসারিত হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে । হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ প্রক্রিয়াকে বলে ডায়াস্টোল (diastole) । হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন কপাটিকা রক্তের একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করে ।
"রক্তের গতিপথ : সাইনাস ভেনোসাস → অ্যাট্রিয়াম ভেন্ট্রিকল → বাল্বাস আর্টারিওসাস → ফুলকা
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণিটি হলো রুই মাছ। রুই মাছে রক্ত সংবহন একবর্তনী বা এক চক্রীয়।
একবর্তনী বা একচক্রী রক্ত সংবহন (Single Circuit Blood Circulation) : যে সংবহনে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে O,-সমৃদ্ধ বা CO, সমৃদ্ধ রক্ত একটি চক্রে আবর্তিত হয়, তাকে একবর্তনী বা একচক্রী রক্ত সংবহন বলে । যেমন- মাছের রক্ত সংবহন ।
হৃৎপিণ্ডের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে কপাটিকা (valve) থাকে। কপাটিকাগুলো শুধু সামনের দিকে খুলে, ফলে রক্তের পশ্চাৎগতি রুদ্ধ হওয়ায় রক্তের প্রবাহ থাকে একমুখি । বিপরীত প্রবাহে কপাটিকাগুলো বাধা দেয় । রুই মাছের হৃৎপিন্ডে নিচে বর্ণিত কপাটিকাগুলো পাওয়া যায় ।সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা (Sino-atrial valve) : সাইনাস ভেনোসাস ও অ্যাট্রিয়ামের মাঝে অবস্থিত ছিদ্রপথে এ কপাটিকা থাকে।
অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা (Atrio ventricular valve) : অ্যাট্রিয়াম ও ভেন্ট্রিকলের মাঝে অবস্থিতঅ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রপথে এ কপাটিকা অবস্থান করে ।ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বাস কপাটিকা (Ventriculo-bulbus valve) : এটি ভেন্ট্রিকল ও বাল্বাস অ্যাওর্টার মাঝে অবস্থিত কপাটিকা ।