A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান…’ – বন্দনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান নয়, কিন্তু ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন। যিনি যথার্থ গুরু, তিনি শিষ্যের আত্মাকে উদ্‌বোধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে মুক্ত এবং ব্যক্ত করে তোলেন। 

উত্তর:

'নেহায়' শব্দের অর্থ 'স্নেহে'।

উত্তর:

"যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়" বলতে বাবা-মায়ের দয়া ও ইচ্ছায় সন্তানের জন্মলাভের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।

পিতা-মাতা পরম আপনজন। পৃথিবীতে বাবা-মায়ের মতো আপন অন্য কেউ নেই। বাবা-মায়ের ইচ্ছাতেই পৃথিবীতে সন্তানের জন্ম হয়। তাদের দয়া-করুণা, স্নেহ-মমতায়ই জীবন পূর্ণতা পায়। মা যেমন সন্তানকে আদর-যত্নে লালন-পালন করেন, বাবা তেমনই অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অন্ন-বস্ত্রসহ যাবতীয় মৌলিক চাহিদার বন্দোবস্ত করে থাকেন। পিতা-মাতার এমন অকৃপণ ত্যাগের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে শিশু পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সন্তানের জন্ম ও পরিপূর্ণতায় বাবা-মায়ের এমন অবদানকে কবি আলোচ্য পড়স্তির মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকে 'বন্দনা' কবিতার ওস্তাদের সান্নিধ্যে মূল্যবোধের জগতে পদার্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় জন্মের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'বন্দনা' কবিতায় পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কবি ওস্তাদ তথা শিক্ষকের প্রতি প্রণাম জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষক মানুষকে দ্বিতীয় জীবন দেন জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে। এতে শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্দীপকে যথার্থ গুরুর বৈশিষ্ট্য উল্লেখপূর্বক শিষ্যকে মনুষ্যত্বের দিকে ধাবিত করার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শিক্ষক ছাত্রদের সম্ভাবনা ও সামর্থ্যের বিষয়টি বুঝতে পারেন। সেই অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দানের মাধ্যমে শিক্ষক ছাত্রের সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যস্ত করে তাকে মনুষ্যত্বের-মূল্যবোধের পথ বাতলে দেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি শিক্ষককে পিতা-মাতার ওপরে স্থান দিয়েছেন। পিতা-মাতার সেবা-যত্নে শিশুর জীবসত্তার বিষয়টি পরিপূর্ণ হলেও মানবসত্তায় উত্তীর্ণ হওয়ার কাজটি শিক্ষকের হাত ধরে সম্পন্ন হয়। কবি মানবসত্তার পথে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টিকে দ্বিতীয় জন্ম বলে শিক্ষকের মহিমা/মর্যাদাকে বাড়িয়ে তুলেছেন। এভাবে উদ্দীপকে 'বন্দনা' কবিতার শিক্ষকের সান্নিধ্যে মূল্যবোধের জগতে পদার্পণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর:

শিক্ষকের দায়িত্বের প্রতিফলন থাকায় বলা যায়, "যথার্থ গুরুর যোগ্য শিক্ষাই শিষ্যকে দ্বিতীয় জন্মের মাধ্যমে আলোর পথে নিয়ে আসে" মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার আলোকে যথার্থ।

'বন্দনা' কবিতায় কবি শিক্ষকের ভূমিকা সমাজগঠনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ওস্তাদকেই তিনি 'দোসর জনম' দানকারী বলেছেন, যা জ্ঞানের শক্তির প্রতীক। শিক্ষকের সহায়তায় মানবশিশু মনুষ্যত্বে উন্নীত হয়ে নতুন জীবন লাভ করে বলে কবি শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

'বন্দনা' কবিতায় কবি তার কাব্য সূচনার সাফল্য লাভের জন্য পিতা-মাতা ও শিক্ষকের বন্দনা করেছেন। জীবনে আপনজনদের অবদানকে কবি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। এর কারণে কবি পিতা-মাতার চেয়েও শিক্ষককে এগিয়ে রেখেছেন। উদ্দীপকে যথার্থ গুরুর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। যথার্থ গুরুরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম করান। শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করে মূল্যবোধের পথ বাতলে দেন।

উদ্দীপকে প্রকৃত শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। যথার্থ শিক্ষক ছাত্রের প্রচ্ছন্ন শক্তিকে মুক্ত করে ছাত্রকে মনুষ্যত্বের সন্ধান দেন। জাতিকে আকাঙ্ক্ষার উপযোগী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপহার দেন যথার্থ গুরুরা। 'বন্দনা' কবিতায় কবি শিক্ষককে বাবা-মায়ের ওপরে স্থান দিয়েছেন। ওস্তাদের কল্যাণে মনুষ্যত্ব গঠনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় জন্মের স্বাদ পাওয়ার দিকটি তুলে ধরেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান…’ – বন্দনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”