| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিম বীজের মতো…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – বর্জ্য ও নিষ্কাশন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিম বীজের মতো দেখতে মানবদেহের একজোড়া অঙ্গ প্রতিনিয়ত অম্লধর্মী তরল বর্জ্য সৃষ্টি ও অপসারণ করে মানবশরীরকে বিষযুক্ত রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
ADH (Antidiuretic Hormone) হলো পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ খণ্ড থেকে নিঃসৃত একধরনের হরমোন।
দেহকোষের অন্তঃপরিবেশ ও বর্হিঃপরিবেশের মধ্যে অভিস্রবণিক চাপের সমতাকে অসমোরেগুলেশন বলে। দেহমধ্যস্থ তরল পদার্থ, ও দ্রবীভূত লবণের ঘনত্বের উপর অভিস্রবণ প্রক্রিয়া নির্ভর করে। প্রাণীর জীবনপ্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে দেহ কোষের তরল পদার্থ ও কোমের বাইরের তরল পদার্থ অর্থাৎ 'রক্তের 'প্লাজমা, কলারস ও লিম্ফ ইত্যাদির মধ্যে পানি ও লবণের ঘনত্বের সমতা বজায় রাখা অপরিহার্য। অর্থাৎ দেহের অন্তঃঅভিস্রবণিক চাপের সমতা বিধান দেহের জন্য অপরিহার্য।
উদ্দীপকের চিহ্নিত চিত্রটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যিক একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিম বীজ আকৃতির অঙ্গটি হলো মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক। এটি যে অম্লীয় তরল বর্জ্য দেহ থেকে অপসারণ করে তা হলো মূত্র। নিচে মূত্র উৎপাদন কৌশল ব্যাখ্যা করা হলো:
অতিপরিস্রাবণ: বৃক্কের একক নেফ্রনের রেনাল ক্যাপসুল অতিপরিস্রাবক রূপে কাজ করে। এখানে গ্লোমেরুলাস রক্তের হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপে রক্তের প্রোটিন ও রক্তকণিকা ছাড়া সমস্ত পানি, লবণ, শর্করা, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড প্রভৃতি পরিস্রাবণ প্রক্রিয়ায় কৈশিক জালিকার এন্ডোথেলিয়াম ও ভিত্তি ঝিল্লি এবং রেনাল ক্যাপসুলের এপিথেলিয়াম ভেদ করে ক্যাপসুলার স্পেসে জমা করে। এ পরিসুত তরলকে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বলে।
নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ: গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট নেফ্রনের নালিকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বিভিন্ন দ্রব্য নেফ্রন প্রাচীরের কোষে শোষিত হয়ে সংলগ্ন কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ বলে। নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকার কোষেই অধিকাংশ পুনঃশোষণ সংঘটিত হয়। এ প্রক্রিয়ার ফিলট্রেট থেকে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম ও সমস্ত গ্লুকোজ, ৬৫% পানি, ৫০% ইউরিয়া, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন এবং ক্লোরাইড আয়ন শোষিত হয়।
সক্রিয় ক্ষরণ: নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকায় কৈশিক জালিকা থেকে কিছু অবাঞ্চিত বস্তু, যেমন- ক্রিয়েটিনিন ও সামান্য ইউরিয়া এর সক্রিয় ক্ষরণ সংঘটিত হয়। দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকাতেও হাইড্রোজেন, পটাসিয়াম ও অ্যামোনিয়াম আয়ন ক্ষরিত হয়। এসব পদার্থ নালিকার চারপাশে টিস্যু রস থেকে নালিকার ভেতরের ফিলট্রেটে বাহিত হয়। এই গ্লোমেরুলাস ফিলট্রেটই হলো মূত্র। ইহা মূত্রনালির মাধ্যমে দেহের বাইরে নিষ্কাশিত হয়।