A. Nayanㅤ
A. Nayan
16 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘শিমুল ও পলাশ…’ আনন্দ মোহন কলেজ ২০২৫ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ মানবিক📚 বই পৌরনীতি ও সুশাসন📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ পৌরনীতি ও সুশাসন🧩 অধ্যায় ৯ম অধ্যায় — জনসেবা ও আমলাতন্ত্র🔢 সৃজনশীল নং ২২🏢 প্রতিষ্ঠান আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ📅 সাল ২০২৫⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

শিমুল ও পলাশ দুইজন সরকারি আমলা। শিমুল তার কাজের প্রতি খুবই দায়িত্বশীল এবং যথাসময়ে দায়িত্ব সম্পাদনেই বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে, পলাশ কাজের প্রতি উদাসীন। সকল কাজ ফেলে রাখতেই পছন্দ করে। তিনি দুর্নীতিপরায়ণও বটে। এ বছর দুদক তার সম্পত্তি তলব করেছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ৯

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) — আমলাতন্ত্রের জনক।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

জবাবদিহিতা (Accountability) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থা তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত, গৃহীত পদক্ষেপ এবং সেগুলোর ফলাফলের জন্য দায়বদ্ধ থাকে এবং প্রয়োজনে তার ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য থাকে। এটি কেবল ভুল করলে শাস্তি পাওয়ার বিষয় নয়, বরং সঠিক কাজ করার জন্য প্রশংসা এবং জবাবদিহি করারও বিষয়।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে যে, যারা ক্ষমতা বা দায়িত্বে আছেন, তারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন না এবং তাদের কাজ স্বচ্ছ ও সৎভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এর মাধ্যমে trust বা বিশ্বাস তৈরি হয় এবং একটি প্রতিষ্ঠান বা সমাজের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি আধুনিক সুশাসনের একটি অপরিহার্য উপাদান।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

যেহেতু আপনি উদ্দীপকটি দেননি, তাই জনাব শিমুলের মধ্যে কী কী বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। একটি উপযুক্ত উত্তর দেওয়ার জন্য অনুগ্রহ করে উদ্দীপকটি প্রদান করুন।

তবে, একটি সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, যদি জনাব শিমুলকে একজন আমলা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে সাধারণত নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে পরিলক্ষিত হতে পারে:

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য (ম্যাক্স ওয়েবারের মতানুসারে):

১. সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন (Rules and Regulations): আমলারা লিখিত ও অলিখিত নিয়মনীতি, প্রবিধান এবং পদ্ধতির অধীনে কাজ করেন। জনাব শিমুলের কাজে এই নিয়মনিষ্ঠা দেখা যেতে পারে। ২. পদসোপান নীতি (Hierarchy): আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে প্রতিটি পদের একটি নির্দিষ্ট ক্রম বা স্তরবিন্যাস থাকে। জনাব শিমুল হয়তো এই পদসোপানের একটি নির্দিষ্ট স্তরে কাজ করেন এবং তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করেন। ৩. নৈর্ব্যক্তিকতা (Impersonality): আমলারা ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে আইন ও নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জনাব শিমুলের আচরণে হয়তো কোনো ব্যক্তির প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষতা দেখা যাবে। ৪. যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ (Technical Competence): আমলাদের নিয়োগ সাধারণত মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আত্মীয়তার ভিত্তিতে নয়। জনাব শিমুলের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হয়তো এই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। ৫. স্থায়ীত্ব (Tenure): আমলারা সাধারণত তাদের পদে স্থায়ী হন এবং চাকরির নিরাপত্তা ভোগ করেন। জনাব শিমুলের চাকরিতে এই স্থিতিশীলতা থাকতে পারে। ৬. লিখিত দলিল (Written Documentation): আমলাতান্ত্রিক কাজে সমস্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হয়। জনাব শিমুল হয়তো ফাইলপত্র এবং রেকর্ড সংরক্ষণে গুরুত্ব দেন। ৭. বিশেষজ্ঞতা (Specialization): আমলারা সাধারণত নির্দিষ্ট কাজ বা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হন। জনাব শিমুল হয়তো তার দপ্তরের নির্দিষ্ট কার্যক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা রাখেন। ৮. বেতন ও পেনশন (Salary and Pension): আমলারা নিয়মিত বেতন এবং অবসর গ্রহণের পর পেনশন পান। এটি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি দিক।

যদি আপনি উদ্দীপকটি দেন, তাহলে জনাব শিমুলের নির্দিষ্ট কাজ বা আচরণ দেখে ওপরের কোন কোন বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে বিদ্যমান, তা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকে উল্লিখিত পলাশের কার্যকলাপে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যাবশ্যকীয় বেশ কিছু উপাদানের গুরুতর অভাব পরিলক্ষিত হয়। এই উপাদানগুলোর অনুপস্থিতি তাকে একজন অদক্ষ ও অবিশ্বস্ত আমলায় পরিণত করেছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে।

পলাশের মধ্যে সুশাসনের যে উপাদানগুলোর অভাব রয়েছে, সেগুলো হলো:

  • জবাবদিহিতা (Accountability): পলাশ কাজের প্রতি উদাসীন এবং সকল কাজ ফেলে রাখতে পছন্দ করে। এটি তার কাজের প্রতি জবাবদিহিতার অভাবকেই নির্দেশ করে। একজন দায়িত্বশীল আমলার কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা এবং তার ফলাফলের জন্য দায়বদ্ধ থাকা জরুরি। পলাশের এই আচরণ তাকে তার দায়িত্বের প্রতি জবাবদিহিহীন করে তুলেছে। যখন দুদক তার সম্পত্তি তলব করেছে এবং মামলা দায়ের করেছে, তখন বোঝা যায় যে সে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু স্বেচ্ছায় বা দায়িত্বশীলতার সাথে নয়।
  • স্বচ্ছতা (Transparency): পলাশ দুর্নীতিপরায়ণ, যা তার কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব প্রমাণ করে। একজন আমলার আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক। দুর্নীতি সরাসরি অস্বচ্ছতার ফল এবং এটি জনগণের আস্থা নষ্ট করে। দুদকের তদন্ত প্রমাণ করে যে তার আয় এবং সম্পত্তির উৎসে স্বচ্ছতা নেই।
  • নৈতিকতা ও সততা (Ethics and Integrity): পলাশের দুর্নীতিপরায়ণতা তার নৈতিকতা ও সততার চরম অভাব নির্দেশ করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চ নৈতিক মান এবং সততা থাকা অপরিহার্য। দুর্নীতি দেশের সম্পদ ও সেবার সুষ্ঠু বণ্টনে বাধা দেয় এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে।
  • দক্ষতা ও কার্যকারিতা (Efficiency and Effectiveness): পলাশ "সকল কাজ ফেলে রাখতেই পছন্দ করে," যা তার কাজের প্রতি অদক্ষতা এবং অকার্যকারিতার পরিচায়ক। একজন আমলার প্রধান কাজ হলো সরকারি পরিষেবাগুলো দক্ষতার সাথে এবং সময়মতো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পলাশের এই উদাসীনতা সরকারি কাজকর্মে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ায়, যা সুশাসনের মৌলিক ধারণার পরিপন্থী।
  • আইনের শাসন (Rule of Law): পলাশের দুর্নীতি এবং তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রমাণ করে যে সে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সকল নাগরিক, এমনকি ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সবাই আইনের প্রতি সমানভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকে। পলাশের কার্যকলাপ আইন ভঙ্গ করেছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে সে সুশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে লঙ্ঘন করেছে।

উপসংহার: পলাশের মধ্যে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও সততা, দক্ষতা এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো সুশাসনের মৌলিক উপাদানগুলোর অভাব রয়েছে। একজন আমলার এই ধরনের আচরণ প্রশাসনিক কার্যকারিতা নষ্ট করে, জনমনে অনাস্থা তৈরি করে এবং সামগ্রিকভাবে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুতর বাধা সৃষ্টি করে। শিমুলের মতো দায়িত্বশীল আমলাদের উপস্থিতি যেখানে সুশাসনকে শক্তিশালী করে, সেখানে পলাশের মতো অদক্ষ ও দুর্নীতিগ্রস্ত আমলারা সুশাসনের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘শিমুল ও পলাশ…’ আনন্দ মোহন কলেজ ২০২৫ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)”