শিমুলের ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে সবাই কন্যার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বিয়েবাড়ি পৌঁছানোর সাথে সাথে কন্যাপক্ষের মেয়েরা গেট বন্ধ করে দাঁড়ায়। একজন বলে এক হাজার টাকা না দিলে যাইতে দিমু না। শিমুলের মামা বিরক্ত হয়ে বলে ওঠেন, টাকা কি গাং দিয়া ভাইসা আসে? টাকা দিতে পারব না। গেট ছাড়ো, নইলে বর নিয়া গেলাম। কন্যাপক্ষের একটি মেয়ে বলে, কী কিপ্টা মানুষরে, যান, টাকা লাগব না। লজ্জার খাতিরে বড় খালা তাদের হাতে পাঁচশ টাকা ধরিয়ে দেন। সবাই অত্যন্ত খুশি হয়ে বরকে বরণ করে নেয়।
বর গোধূলিলগ্নে বিয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল।
অনেক পাত্র দেখার পর যাচাই-বাছাই করেই তবে মল্লিকা ফুলের বিয়ে ঠিক হলো।
মল্লিকা ফুলের বাবা ক্ষুদ্র বৃক্ষ গরিব এবং অনেক কন্যাভারগ্রস্ত। মেয়ের বিয়ের জন্য অনেক পাত্র এলেও বিয়েটা স্থির হচ্ছিল না। স্থলপদ্ম পাত্র হিসেবে নির্দোষ হলেও অনেক উঁচু ঘরের ছেলে। তাই তার সাথে বিয়ে হলো না। জবা এ বিয়েতে সম্মত হলেও পাত্র রাগী হওয়ায় কন্যাকর্তা পেছালেন। আবার গন্ধরাজ সব দিক থেকে ভালো হলেও তার দেমাগ একটু বেশি। অবশেষে ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে এলেন এবং বংশ, সম্পদ, ভদ্রতা সব দিক থেকে উপযুক্ত পাত্র নির্বাচিত হয় গোলাব। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে গোলাবের সাথে মল্লিকার বিয়ে ঠিক হয়।
উদ্দীপকে 'ফুলের বিবাহ' গল্পের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও আনন্দের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পের নামকরণে একটি বিশেষ ব্যঙ্গ বা কৌতুক রয়েছে। এটি প্রচলিত বিয়ের প্রথাকে প্রকৃতির মাধ্যমে তুলে ধরে, যা এই রচনাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
উদ্দীপকে শিমুলের ভাই বিয়ে করতে এলে কন্যাপক্ষের কয়েকটি মেয়ে গেট আগলে দাঁড়ায়। কিছু টাকাও দাবি করে। এটা নিয়ে গেটে একপ্রকার বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এটা আমাদের গ্রাম্য সমাজের বিয়ের চিরন্তন রূপ। আর বিয়ের এমনই আনন্দময় রূপ 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও দেখা যায়। বরপক্ষ বিয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে উচ্চিঙ্গড়া নহবৎ বাজানো শুরু করল, খদ্যোতরা ঝাড় ধরল, আকাশে তারাবাজি হলো ইত্যাদি ঘটনায় বিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিয়েকে কেন্দ্র করে বিয়ের আগেই দুই পক্ষের এই আনন্দ, বায়না, বাকবিতণ্ডা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপক ও 'ফুলের বিবাহ' গল্পে।
বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য আর লোকজ সব আচারের নান্দনিক ছোঁয়ায় আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন হয় যা "উদ্দীপক ও 'ফুলের বিবাহ' গল্পের বিয়ের ঘটনা গ্রামবাংলার প্রতিটি বিয়ের প্রতিচ্ছবি" উক্তিটি যথার্থ।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে লেখক' বাঙালি গার্হস্থ্য জীবনের অন্যতম পারিবারিক অনুষ্ঠান বিয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে ধরেছেন। আমাদের গ্রামবাংলায় যে রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠান পালন করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয় তার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে ফুলেদের বিয়ের মধ্য দিয়ে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে মল্লিকা ফুলের সঙ্গে গোলাবের বিয়ে ঠিক হয়। নির্দিষ্ট দিনে বরপক্ষ যাত্রা করে। বাহক হিসেবে বাতাস বায়না করলেও সময়মতো থাকে না। বরযাত্রীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। তারপর পরম যত্নে তাদের বরণ এবং আপ্যায়ন করানো হয়। আর এ সবকিছুই গ্রামবাংলার বিয়ের চিরন্তন রূপ। এই রূপই প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে। উদ্দীপকেও বিয়েবাড়ির আনন্দ উদ্যাপন এবং রীতি-নীতি পালন প্রকাশ পেয়েছে। গেট আটকানো এবং বরের সঙ্গে মজা করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তারপর সাদরে তাদের বরণ করা হয়।
উদ্দীপক এবং 'ফুলের বিবাহ' গল্পের প্রেক্ষাপট হলো বিয়ের অনুষ্ঠান। যেখানে মুখ্য বিষয় হলো সংস্কার ও রীতিনীতি। বিয়েকে কেন্দ্র করে এসব সংস্কার ও উৎসব সবকিছুই গ্রাম্য সমাজের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাধারণ চিত্র। আলোচ্য উদ্দীপকটি গ্রামবাংলার প্রতিটি বিয়ের একটা প্রতিচ্ছবি। উদ্দীপক ও 'ফুলের বিবাহ' গল্পের বরযাত্রা, গেট ধরা, বরযাত্রী বরণ, অতিথি আপ্যায়ন এসব বিষয়ই গ্রামবাংলার বিয়ের প্রতিচ্ছবি। তাই উক্তিটি যথার্থ।
