| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শহরের গৃহকর্মী মায়ের…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৪ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

শহরের গৃহকর্মী মায়ের সন্তান আরিফ আর ধনী ব্যবসায়ী বাবার সন্তান আসিফ। দুজনের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও আসিফের বাবা আরিফের মেলামেশা, বাসায় আসা এবং ড্রয়িং রুমে আপ্যায়ন মেনে নিতে পারেন না। আরিফকে বাসায় আসতে তিনি নিষেধ করেছেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাড়ি থেকে তাড়িয়েও দিয়েছেন। সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে আরিফই রক্ত দিয়েছে, জীবন বাঁচিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত রেখেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
'সাইবেরিয়া' এশিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
“সে কত বড় সাহসের কাজ!”— এই উক্তিটিতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলতে বিলাসীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন গল্পের কথক ন্যাড়া।
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ শয্যাগত থাকে। তার পাশে ছিল শুধু বিলাসী। এমন একজন মুমূর্ষু রোগীকে সুস্থ করার প্রয়াস নিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে একাকী একটি মেয়ে যে চেষ্টা চালিয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবেই সাহসী পদক্ষেপ । গল্পকথক ন্যাড়ার কাছে এটি অনেক বড় একটি গুরুভার। কেননা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত একা একটি মেয়ের কত সেবা, শুশ্ৰূষা, ধৈর্য ও রাত জাগা নিয়ে মুমূর্ষু একজন মানুষের পাশে থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই ন্যাড়া বিলাসীর এমন কাজকে বড় সাহসের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ।
উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটি ‘বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার মানসিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ।
• সমাজে জাত-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য মানুষেরই তৈরি। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। স্বার্থপর ব্যক্তিরা তা মানতে চায় না। তারা মিথ্যা জাত-ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে ।
উদ্দীপকের আরিফ শহরের গৃহকর্মী মায়ের সন্তান আর আসিফ ধনী ব্যবসায়ী বাবার সন্তান। দুজনের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও আসিফের বাবা আরিফের মেলামেশা, বাসায় আসা এবং ড্রয়িং রুমে আপ্যায়ন মেনে নিতে পারেন না। আরিফকে তিনি বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। ‘বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়াও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হীন মানসিকতার অধিকারী। মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসী রাতদিন অক্লান্ত
পরিশ্রম ও সেবা-যত্ন করে সুস্থ করার প্রয়াস চালালে মৃত্যুঞ্জয়কে এই খুড়া অন্নপাপে অভিযুক্ত করে। পাশাপাশি সাপুড়েকন্যা হয়ে কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করার অপরাধে বিলাসীর উপর নির্মম নির্যাতন ও অত্যাচার করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। খুড়ার এমন হীন মানসিকতা উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটির হীন মানসিকতাকেই নির্দেশ করে ।
“পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পের বিষয়বস্তু একই বাস্তবতাকে ধারণ করেছে।”— উক্তিটি যথার্থ।
• মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে তোলে । অথচ সমাজ তা মানতে নারাজ । কারণ তারা মানুষকে জাত-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ দিয়ে বিভক্ত করে। এসব কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ।
• উদ্দীপকের আরিফ গৃহকর্মীর ছেলে হওয়ায় ধনী ব্যবসায়ী বাবা তার ছেলে আসিফের সঙ্গে আরিফকে মেলামেশা করতে দেয়নি ৷ আরিফকে তিনি বাসায় আসতে নিষেধ করেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এই আরিফই ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে। পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা ‘বিলাসী' গল্পেও ফুটে উঠেছে। এই গল্পে জাতিভেদ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি সামাজিক অসংগতির পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে। এখানে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্ৰূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খায় । কিন্তু তৎকালীন সমাজ তা মেনে নেয়নি। নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করা ও তার হাতে ভাত খাওয়াকে সমাজ অন্নপাপ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের ওপর চড়াও হয়। জ্ঞাতি খুড়া সমাজের মানুষকে নিয়ে বিলাসীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় ।
• 'বিলাসী' গল্পে সমাজ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর বিয়ে করা ও একসাথে অবস্থান করাকে অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেছে। অথচ বিলাসী রাত-দিন, রাত জেগে সেবা-যত্ন করে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলেছে। বিনিময়ে সে পেয়েছে সমাজের নির্মম নির্যাতন ও অপবাদ । গল্পের এই সমাজ বাস্তবতাই উদ্দীপকের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।