| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শোনা যায়, তিস্তাপাড়ে…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

শোনা যায়, তিস্তাপাড়ে এখন আর ফসলি জমি নেই। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জমিতে মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করে নিচ্ছে ভূগর্ভস্থ পাথর। এই অঞ্চলে ফসলের তুলনায় পাথরের মূল্য বেশি। দিনে দিনে মেশিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এলাকার সচেতন জনগোষ্ঠী দেশের স্বার্থে এতে বাধা দিলে তারা সাময়িকভাবে পাথর উত্তোলন-বদ্ধ রাখে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তিনটি মেশিন বসানোর অনুমতি নিয়ে বাস্তবে তিনশত মেশিন বসিয়ে আবার পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এতে যেমন ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন, তেমনি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ব্যবসায়ীদের তাতে কিছু যায়-আসে না, অধিক মুনাফা অর্জনই যেন তাদের লক্ষ্য। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো শোনা যাবে, মাটির নিচে তলিয়ে গেছে তিস্তাপাড়ের বিশাল জনপদ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মোহনলালের তথ্য মতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন প্রত্যাশা করতেন বলে তাঁকে অভিসম্পাত করলেন।
ঘসেটি বেগম রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছিলেন। কিন্তু সম্পর্কে খালা হওয়ায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমের প্রতি যথেষ্ট কঠোর হতে পারছিলেন না। তাই নবাব দেশকে রক্ষা করার জন্য ঘসেটি বেগমকে তাঁর প্রাসাদে রাখতে চাইলেন। এটা এক অর্থে ঘসেটি বেগমের কাছে বন্দিত্ব। সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাত করে ক্ষমতা প্রাপ্তির বদলে নিজেই বন্দি হচ্ছেন দেখে তিনি অভিশাপ দিয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলার প্রাসাদ যেন বাজ পড়ে খানখান হয়ে যায়।
উদ্দীপকের সচেতন জনগোষ্ঠী 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতিনিধিত্ব করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলার নবাব হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। বাণিজ্যের আকর্ষণেই ইউরোপীয়রা বাংলাদেশে এসেছিল। ক্রমশ তারা এদেশের রাজনীতিতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। তারা বাংলাকে শাসন ও শোষণের প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু দেশপ্রেমিক নবাব ইংরেজদের এই কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করে। এক শ্রেণির সচেতন জনগোষ্ঠী এই অপকর্ম রোধে প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। কারণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনুমতি দিয়েছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা অল্প বয়সে সিংহাসনে বসলেও তিনি ছিলেন সচেতন, সাহসী ও দেশপ্রেমিক। তিনি ইংরেজদের ষড়যন্ত্র টের পেয়ে নানাভাবে চেষ্টা করেছেন তাদের হটাতে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সচেতন জনগোষ্ঠী মূলত 'সিজারউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার কথাই স্মরণ করায়।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ী আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজ বেনিয়াদের চরিত্র অভিন্ন বলেই মনে করছি।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজ বেনিয়ারা এদেশে এসেছিল বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। বাংলা অঞ্চলের পণ্যদ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল সমগ্র ইউরোপে বিশেষ করে ইংল্যান্ডে। ইংরেজরা পরবর্তীতে এদেশের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। অর্থনৈতিক লাভই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ীরা মেশিন বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পাথর তোলায় তিস্তাপাড়ের মানুষ তাদের ফসলি জমি হারাচ্ছিল। ব্যাহত হচ্ছিল খাদ্য উৎপাদন। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু এতে ব্যবসায়ীদের কিছু আসে-যায় না। কারণ অধিক মুনাফা অর্জনই তাদের লক্ষ্য।
উদ্দীপক ও আলোচ্য নাটকের প্রেক্ষাপট আলাদা। কিন্তু উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক লাভের প্রতি মনোযোগী ছিল। আবার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজ বেনিয়ারাও ব্যক্তিস্বার্থে বেশি মনোযোগী ছিল। বাংলাকে শোষণ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়াই ইংরেজ বেনিয়াদের উদ্দেশ্য ছিল। তাই একথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ী আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজ বেনিয়াদের চরিত্র অভিন্ন।