A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘শ্রীবাস দত্ত একজন…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: কুমিল্লা বোর্ড📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

শ্রীবাস দত্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রতিদিন সকালে গ্রামের প্রাচীন বটগাছের নিচে বসে ধ্বংসপ্রাপ্ত জমিদার বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকেন। একদিন তাঁর নাতি প্রশ্ন করল, “দাদু, আপনি কেন প্রতিদিন এই বটগাছের নিচে বসে জমিদার বাড়ি দেখেন?” শ্রীবাস দত্ত হাসলেন, “দাদাভাই, দেখো তো এই জমিদার বাড়ির ইটগুলো খসে পড়ছে, কিন্তু এর ইটগুলো দিয়ে গ্রামের মানুষ নতুন রাস্তা বানিয়েছে। গাছটা থেকে প্রতিবছর বীজ পড়ে নতুন চারা গজাচ্ছে।” বছর কেটে যায়, শ্রীবাস দত্ত চলে যান। কিন্তু তার নাতি এখন বুঝতে পারে দাদুর প্রিয় বটগাছটি এখনও নতুন পাতায় ভরে উঠছে, জমিদার বাড়ির ইটগুলো এখনও রাস্তায় আছে।

উত্তর:

কবি চলে যাওয়ার পরও শিশিরের জলে চালতা ফুল ভিজবে।

উত্তর:

“লক্ষ্মীপেঁচা গান গাবে নাকি তার লক্ষ্মীটির তরে?"- বলতে প্রকৃতির চির বহমানতার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের বহমানতা এবং মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কবি জানেন যে, তিনি যেদিন এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন সেদিনও প্রকৃতি বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রাণময় থাকবে। সেদিনও আজকের মতো প্রকৃতির বুকে ফোটা চালতা ফুল শিশিরের জলে ভিজে নরম গন্ধ বিলাবে, লক্ষ্মীপেঁচা তার লক্ষ্মীর জন্য গান গাইবে, অর্থাৎ প্রকৃতির সবকিছু যথা নিয়মে চলমান থাকবে- এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের জমিদার বাড়ি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার 'ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতার দিকটি ইঙ্গিত করে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের অমরতা এবং মানুষ ও মানুষের গড়া সভ্যতার বিলীন হয়ে যাওয়ার দিকটি বিস্ময়কর নিপুণতায় উপস্থাপন করেছেন। অবিনশ্বর প্রকৃতিতে মানুষের মতো মানুষের সভ্যতাও নশ্বর। এ কবিতায় কবি গভীর জীবনতৃষ্ণা নিয়ে মানুষের তৈরি সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণুতার দিকটি তুলে ধরেছেন।

উদ্দীপকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্রীবাস দত্ত প্রাচীন বটগাছের নিচে বসে জমিদার বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি বাড়ির ইটগুলো খসে পড়তে দেখেন। সেই ইটগুলো দিয়ে গ্রামের মানুষ নতুন রাস্তা বানিয়েছে। এই জমিদার বাড়ির ধ্বংসপ্রাপ্তি বা ক্ষয়িষ্ণুতার দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, এশিরিয়া ও ব্যাবিলনের মতো অনেক সভ্যতাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতি ও মানুষের স্বপ্ন চির প্রবহমান। সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু, অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ। এভাবে উদ্দীপকের জমিদার বাড়ি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণুতার দিকটি তুলে ধরেছে।

উত্তর:

মানুষ ও মনুষ্যসৃষ্ট সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, কিন্তু প্রকৃতি ও স্বপ্ন চিরকালীন সৌন্দর্য নিয়ে বহমান থাকবে- এই দিক দিয়ে "শ্রীবাস দত্তের নাতির জাগ্রত বোধই যেন 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার ভাববস্তু” মন্তব্যটি যৌক্তিক।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ পৃথিবীর চিরন্তন সত্য নির্দেশ করে বলেছেন যে, পৃথিবীর মানুষ মরণশীল কিন্তু তার স্বপ্ন অমর। মানুষ ও মানুষের গড়া সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় কিন্তু প্রকৃতি তার সৌন্দর্য নিয়ে চির বহমান থাকে।

উদ্দীপকে শ্রীবাস দত্তের নাতি বুঝত না কেন তার দাদা প্রতিদিন বটগাছের নিচে বসে ধ্বংসপ্রাপ্ত জমিদার বাড়ি দেখেন। দাদা তাকে বলেন যে, জমিদার বাড়ির ইট খসে পড়লেও মানুষ তা দিয়ে নতুন রাস্তা বানিয়েছে। বটগাছটার বীজ থেকে থেকে প্রতিবছর নতুন চারা গজায়। একসময় শ্রীবাস দত্ত মারা গেলে তাঁর নাতি বুঝতে পারে, দাদুর প্রিয় বটগাছটি এখনো নতুন পাতায় ভরে ওঠে। ধ্বংসপ্রাপ্ত জমিদার বাড়ির ইট দিয়ে রাস্তাটি এখনো অক্ষত আছে। তাঁর এই বোধের বিষয়টি যেন 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার কবিও ব্যক্ত করেছেন।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার কবির মতে, প্রকৃতি চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর এবং মানুষ ও মানুষের গড়া সভ্যতা ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের প্রবহমানতার কথা কবি গভীর জীবনতৃষ্ণা নিয়ে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের শ্রীবাস দত্তের নাতির জাগ্রত বোধটিও কবির চিন্তারই সমান্তরাল। শ্রীবাস দত্ত চলে যান, কিন্তু তার প্রিয় গাছটি নতুন পাতায় ভরে ওঠে, ক্ষয়প্রাপ্ত জমিদার বাড়ির ইটগুলো রাস্তা বিনির্মাণে ব‍্যবহৃত হয়। আসলে মানুষের মৃত্যু আছে, সভ্যতার ধ্বংস আছে, কিন্তু এ জগতে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু নেই। শ্রীবাস দত্তের নাতির জাগ্রত বোধে কবিতায় এই ভাবটিই মূর্ত হয়ে উঠেছে। এদিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘শ্রীবাস দত্ত একজন…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”