| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বললেন…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বললেন এক ধরনের পতঙ্গ আছে যা শস্যক্ষেত, সজির বাগানে থাকে। এদের সমান্তরাল অনেক প্রজাতি এক নিমিষেই ক্ষেতের ফসল বিনাশ করে। এ বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য প্রতীক প্রাণী হিসাবে তোমার জীববিদ্যায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় দেহস্থিত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে অপসারিত হয় তাই হলো রেচন।
অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের রক্তপূর্ণ দেহগহবরকে হিমোসিল বলে। এতে পেরিটোনিয়াম পর্দা অনুপস্থিত। হিমোসিল পৃষ্ঠীয় ও অঙ্কীয় পর্দা দ্বারা প্রকোষ্ঠ বা সাইনাসে বিভক্ত থাকে। এতে হৃদযন্ত্র ও অ্যাওটা থাকে।
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো পতঙ্গ তথা ঘাসফড়িং। এর রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
ঘাসফড়িংয়ের রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া মুক্ত ধরনের। এতে হৃদপ্রকোষ্ঠ, অ্যাওটা, অস্টিয়া, কপাটিকা, হিমোলিম্ফ, হিমোসিল, সাইনাস, ল্যাকুনা ইত্যাদি থাকে। পতঙ্গের রক্তকে হিমোলিম্ফ বলে। অ্যালারি পেশির সংকোচন প্রসারণে হৃদযন্ত্র যথাক্রমে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। এর ফলে অস্টিয়া ও কপাটিকা পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও খোলা হয়। হৃদযন্ত্রের অস্টিয়া উন্মুক্ত হলে পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস থেকে হিমোলিম্ফ হৃদযন্ত্রে প্রবেশ করে। আবার কপাটিকা উন্মুক্ত হলে হিমোলিম্ফ পিছনের দেহকোষ থেকে সামনের প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে। এভাবে পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হিমোলিম্ফ হৃদযন্ত্র থেকে সম্মুখ অ্যাওটায় প্রবেশ করে এবং মস্তকের সাইনাসে মুক্ত হয়। মস্তকের সাইনাস থেকে হিমোলিম্ফ পেরিনিউরাল ও পেরিভিসেরাল সাইনাসে প্রবেশ করে। তারপর পেরিভিসেরাল সাইনাস থেকে পেরিকার্ডিয়াল সাইনাসে আসে এবং প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি হয়। এভাবে ঘাসফড়িংয়ের রক্ত তথা হিমোলিম্ফের সংবহন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতীক প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং হরমোনের মাধ্যমে ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তর সম্পন্ন হয়। নিচে প্রাণীটির সুষ্ঠু রূপান্তরে হরমোনো ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
ঘাসফড়িং-এর দেহে চার ধরনের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বিদ্যমান। এগুলো হলো ইন্টার-সেরিব্রাল গ্রন্থিকোষ, প্রোথোরাসিক গ্রন্থি, কর্পোরা অ্যালাটা এবং কর্পোরা কার্ডিয়াকা। এদের মধ্যে প্রথম তিনটি গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন ঘাসফড়িং-এর রূপান্তরে মুখ্য ভূমিকা রাখে। রূপান্তরের শুরুতে মস্তিষ্কের ইন্টার সেরিব্রাল গ্রন্থিকোষ থেকে প্রোথোরাসিকোট্রফিক হরমোন ক্ষরিত হয়ে প্রোথোরাসিক গ্রন্থিকে একডাইসন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে। একডাইসন হরমোন ক্ষরিত হলে প্রাণীর নির্মোচন বা খোলস মোচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ হরমোন দেহের কোষকলাকে বৃদ্ধির জন্য উদ্দীপিত করে। একই সময়ে কর্পোরা অ্যালাটা গ্রন্থি থেকে জুভেনাইল হরমোন ক্ষরিত হয় যা দেহের অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি প্রতিহত করে। প্রকৃতপক্ষে জুভেনাইল হরমোনের প্রভাবে ঘাসফড়িং-এর নিম্ফ দশা দীর্ঘ হয়। এক সময় কর্পোরা অ্যালাটার কার্যক্রম রহিত হয়। একডাইসন হরমোনের প্রভাবে প্রাণীর দ্রুত নির্মোচন ঘটে এবং রূপান্তরের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হয়।
এভাবে হরমোন ঘাসফড়িং-এর শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম, অর্থাৎ, রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।