| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শ্রেণিশিক্ষক বোর্ডে শিমবীজের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – বর্জ্য ও নিষ্কাশন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শ্রেণিশিক্ষক বোর্ডে শিমবীজের ন্যায় একটি চিত্র অংকন করে বললেন যে, অঙ্গটির উল্লেখযোগ্য দু’টি কাজ হলো:
- মানবদেহের মূত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
- মানবদেহের পানিসাম্যতা নিয়ন্ত্রণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে তাই হলো উপযোজন।
পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত একটি গোলাকার অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। এ গ্রন্থি থেকে সর্বাধিক সংখ্যক হরমোন ক্ষরিত হয় এবং এসব হরমোন অন্যান্য প্রায় সকল গ্রন্থির উপর প্রভাব বিস্তার করে কিংবা কাজের সমন্বয় ঘটায়। এজন্য এ গ্রন্থিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিম বীজের ন্যায় অঙ্গটি হলো মানব বৃক্ক বা কিডনি। নিম্নে এর চিহ্নিত চিত্রসহ অন্তর্গঠন দেয়া হলো-
বৃক্কের অন্তর্গঠনে দেখা যায় যে, এর বাইরের দিকে কর্টেক্স এবং ভেতরের দিকে মেডুলা অবস্থিত। বৃক্কের কর্টেক্স অংশ প্রধানত নেফ্রনের মালপিজিয়ান করপাসল দ্বারা গঠিত। বৃক্কের মেডুলা অঞ্চলে অনুদৈর্ঘ্যভাবে সাজানো ৮-১৮ টি পিরামিডের মতো অঞ্চল আছে। এদের রেনাল পিরামিড বলে। বৃক্কের লম্বচ্ছেদে দৃশ্যমান গহ্বরকে রেনাল সাইনাস বলে। সাইনাসে গবিনী -এর পেলভিস অঞ্চল এবং বৃক্কীয় শিরা ও ধমনি যুক্ত থাকে। প্রতিটি পিরামিডের শীর্ষ বা প্যাপিলা মাইনর ক্যালিক্সে উন্মুক্ত হয়। কয়েকটি মাইনর ক্যালিক্স একত্রে মেজর ক্যালিক্সে উন্মুক্ত থাকে। কয়েকটি মেজর ক্যালিক্স মিলে গবিনীর পেলভিস অঞ্চল গঠন করে। বৃক্কের গঠন ও কাজের একক নেফ্রন এর ৮৫% কর্টেক্সে এবং ১৫% মেডুলায় অবস্থিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় কাজটি অর্থাৎ মানবদেহের পানিসাম্যতা নিয়ন্ত্রণে বৃক্ক প্রধান ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক মূত্র তৈরির মাধ্যমে দেহের পানির সমতা বিধান করে। দেহ বেশি পানি গ্রহণ করলে বৃক্ক বিপুল পরিমাণ কম ঘন মূত্র সৃষ্টি করে। কিন্তু পানি গ্রহণের পরিমান কম হলে এটি অল্প পরিমাণ বেশি ঘন মূত্র তৈরি করে দেহে পানি সংরক্ষণ করে। দুটি ধাপে এই পদ্ধতিটি সংঘটিত হয়ে থাকে। যথা-
i. দেহে পানির পরিমান কম হলে রক্তে ADH হরমোনের ক্ষরণের পরিমান বেড়ে যায়। ফলে বৃক্কের নেফ্রনের নালিকার ভেদ্যতা বেড়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে পানির পুনঃশোষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এভাবে পানি ধরে রেখে বৃক্ক অল্প পরিমাণে মূত্র তৈরি করে।
ii. অন্যদিকে দেহে পানির অধিক্য হলে ADH ক্ষরণ কমে যায়। ফলে বৃক্কের নেফ্রনের নালিকা প্রাচীরের ভেদ্যতা কমে যাওয়ায় পানি পুনঃশোষণের হারও কমে যায়। এজন্য কম ঘন ও বিপুল পরিমান পানিযুক্ত মূত্র তৈরি হয় এবং দেহের অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়।
এভাবে বৃদ্ধ পানির পুনঃশোষণের হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহের পানিসাম্যতা নিয়ন্ত্রণ করে।