সিধু তার দরিদ্র পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। সে ভীষণ ডানপিটে এবং দুরন্ত। সারাদিন গ্রামের ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করে এবং বনে- জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃতিই যেন তার একমাত্র আশ্রয়। কোন গাছের আম মিষ্টি, কার বাগানের কলা পাকল বলে- ইত্যাদি খবর তার চেয়ে কেউ ভালো জানে না। কারণ সে সারাদিন এখানে-সেখানে ঘুরে ঘুরে এসব তথ্য সংগ্রহ করে। তার এমন কাজকর্মে গ্রামের সবাই অতিষ্ঠ।অভিযোগ শুনতে শুনতে তার মায়ের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। তাই তার মা সব সময় সিধুর কর্মকাণ্ডে ভীষণ উদ্বিগ্ন থাকেন।
হরিহর গ্রামের অন্নদা রায়ের বাড়িতে কাজ করে।
'আমার এমন হয়েছে যে ইচ্ছে করে একদিকে বেরিয়ে যাই।'-সর্বজয়ার এ কথা বলার কারণ হলো দারিদ্র্য।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের এক দরিদ্র পরিবারের বউ সর্বজয়া। স্বামী হরিহরের রোজগার খুবই কম। দুই সন্তান নিয়ে তাদের কোনো রকমে দিন পার হয়। মাঝে মাঝে প্রচন্ড অভাবের সময় তারা অন্যের কাছে ধার করে। কিন্তু সেই ধার আর শুধতে পারে না। চারপাশ থেকে পাওনাদারেরা চাপ দিতে থাকে। এমন অবস্থায় সর্বজয়া খুবই অসহায় বোধ করে। তাই ক্ষোভে, অভিমানে সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
উদ্দীপকের সিধু চরিত্রের সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দুর্গা চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
শৈশবের আরেক নাম দুরন্তপনা। শৈশবে মানুষের জীবন কাটে নানা ধরনের আনন্দ-উল্লাস, হইহুল্লোড়ে। বিশেষ করে যারা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠে তাদের জীবন আরও বেশি রঙিন হয়। সারা দিন ছোটাছুটি, ঘোরাঘুরি করে তারা শৈশবের দিন কাটায়।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দুরন্ত এক চরিত্র দুর্গা। সে সব সময় প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ায়। বাড়িতে শুধু দুটো খাওয়ার সাথে তার সম্পর্ক। কোথায় কার বাগানের আম কত বড় হলো, কার গাছের জাম পেকেছে ইত্যাদি খবর তার নখদর্পণে। এমন দূরন্তপনার জন্য মা সর্বজয়া তার প্রতি ভীষণ বিরক্ত। উদ্দীপকের সিধুও এমনই দুরন্ত আর ডানপিটে। সারা দিন সে ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করে আর বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃতিই যেন তার একমাত্র আশ্রয়। সিধুকে নিয়েও তার মা উদ্বিগ্ন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সিধু চরিত্রের সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দুর্গা চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের সিধুর মা 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার মতো পল্লিমায়ের শাশ্বত রূপ হতে পেরেছে।
মায়ের সঙ্গে সন্তানের থাকে নাড়ির টান। সন্তান মায়ের কাছে যতটা প্রশ্রয়-আশ্রয় পায় ততটা আর কোথাও পায় না। মায়েরা সন্তানের শত শত দোষ লুকিয়ে ভালোবেসে যায়। আবার কোনো সন্তান যদি বেশি বেপরোয়া হয়ে যায় তখন মা-ই তাকে শাসন করে। কাউকে কিছু বলতে দেয় না।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের শাশ্বত এক মাতৃরূপ সর্বজয়া। তার দুটি সন্তান। অপু ও দুর্গা। দুর্গা সারা দিন বাড়ির বাইরে বাইরে থাকে। বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে নানা ফল সংগ্রহ করে। মেয়ের এমন দুরন্তপনায় মা সর্বজয়া ভীষণ বিরক্ত। সন্তানদের প্রতি তার ভালোবাসাও অগাধ। আবার শাসনের বেলায়ও কম যায় না। এমনই স্নেহ ও শাসনের সন্নিবেশে সর্বজয়। হয়ে উঠেছে গ্রামীণ বাঙালি মায়ের শাশ্বত রূপ।
উদ্দীপকের সিধুর মায়ের মধ্যেও সর্বজয়ার রূপ পরিলক্ষিত হয়। সিধুও দুর্গার মতো ডানপিটে ও দুরন্ত। সেও সারা দিন বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। তাকে নিয়ে মায়ের কাছে নালিশের শেষ নেই। নালিশ শুনে সিধুর মায়ের কান ঝালাপালা হয়ে যায়। তারপরও সন্তানকে নিয়ে সে উদ্বিগ্ন থাকে। যার দ্বারা মূলত স্নেহের রূপ প্রকাশ পেয়েছে। সবকিছুকে ছাপিয়ে সিধুর মাও হয়ে উঠেছে বাঙালি মায়ের শাশ্বত রূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সিধুর মা 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার মতো পল্লিমায়ের শাশ্বত রূপ হতে পেরেছে।
