| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সিফাত ও রোজিনা…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজ শেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করে। এতে রোজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের কাছে সমান মজুরি দাবি করেন। মালিক সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
মূল্যবোধ হলো সমাজের অলিখিত নিয়মকানুন, বিশ্বাস, আদর্শ এবং নীতিমালার সমষ্টি যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে।
আইনগত সাম্য বলতে বোঝায় যে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইন সকলের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য। এর অর্থ হলো জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তি আইনের সমান সুরক্ষা পাবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম প্রধান স্তন্ড হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে রোজিনা 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধনসম্পদে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা লারে সমতাকে বোঝায়। অর্থাৎ অর্থ উপার্জন ও বণ্টন বিষয়ে বৈষম্য দূর করে সকলকে সমান সুযোগ প্রদান করাই এর মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকে সিফাত ও রোজিনা একইসাথে সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করলেও মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করেন। মালিক যুক্তি দেন যে নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না। এটি স্পষ্টত লিঙ্গভিত্তিক অর্থনৈতিক বৈষম্য যা অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী।
অধ্যাপক লাঙ্কির মতে, অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। রোজিনা সমান পরিশ্রম করা সত্ত্বেও লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে কম মজুরি পেয়েছেন, যা তার ন্যায্য অর্থনৈতিক অধিকার ও সাম্যকে খর্ব করেছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য তথা অর্থনৈতিক সাম্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য অতীব জরুরি। অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা হলে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর হয় এবং দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে ধাবিত হয়।
অর্থনৈতিক সাম্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভারসাম্যের মূলভিত্তি। কোনো সমাজে যদি সম্পদের সুষম বন্টন না থাকে এবং লিঙ্গ বা শ্রেণিভেদে মজুরি বৈষম্য থাকে, তবে সেখানে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখা সম্ভব নয়। সাম্য বিরাজমান থাকলে নীচু শ্রেণির বা বঞ্চিত মানুষেরাও দেশের উন্নয়নে উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি সমাজে একতা আনয়ন করে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও হিংসা দূর করে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের দক্ষতা অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি পাওয়ার অধিকার থাকে। উদ্দীপকের মতো বৈষম্য থাকলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় যা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। তাই একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক এবং প্রগতিশীল সমাজের জন্য এই সাম্য অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক সাম্য স্বাধীনতাকে অর্থপূর্ণ করে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করে। রাষ্ট্রের সার্বিক সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সকল বৈষম্য দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন।