সিয়াম অবসরে হিন্দি ও ইংরেজি গান শোনে। তার বাবা আলমাস সাহেব তাকে জারি, সারি, ভাটিয়ালি ইত্যাদি বাংলা গান শোনার জন্য উৎসাহিত করেন এবং বলেন এ গানগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করে। কিন্তু আজ বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের এসব গান হারিয়ে যাচ্ছে। এতকিছু বলার পরও সিয়ামের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি।
আজকাল বাংলা সাহিত্যের পনেরো আনা শহুরে সাহিত্য।
"নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফব্জিকার।"-পল্লিসাহিত্যের প্রতি যত্নশীল না হওয়ার কুফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক এ কথা বলেছেন।
পল্লিসাহিত্য আমাদের দেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। একসময় এ দেশের পল্লিসাহিত্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। বর্তমানে মানুষের রুচির পরিবর্তনে এগুলো লুপ্ত হতে চলেছে। ফলে পল্লিসাহিত্যের উপাদানগুলো এখন ধ্বংসের মুখে। অথচ অতীতে সর্বস্তরের মানুষ এই পল্লিসাহিত্য সম্পর্কে জানত এবং চর্চা করত। আর এখন সেগুলো অনাদৃত হয়ে পড়ে আছে। যদি চর্চার অভাবে এগুলো এভাবেই পড়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে এগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাই পল্লিজননীর সন্তানদের উচিত এগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, চর্চা করা। তা না হলে অবহেলা ও অনাদরে একসময় এগুলো বিলীন হয়ে যাবে। এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
উদ্দীপকের আলমাস সাহেবের মানসিকতা 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারের দিক নির্দেশ করে।
সাহিত্যের ভান্ডারে দান করার মতো পল্লির ভান্ডারে সম্পদের অভাব নেই। পল্লির ঘাটে, মাঠে, পল্লিব আলো-বাতাসে, পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। আমাদের উচিত এ সম্পদকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রসার ঘটানো।
উদ্দীপকের আলমাস সাহেব তার ছেলের সিয়ামকে পল্লিসাহিত্যের অন্যতম উপাদান পল্লিগানের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তার ছেলে সিয়াম হিন্দি ও ইংরেজি গান শুনতে পছন্দ করে। আলমাস সাহেব তাকে বোঝান যে পল্লিগান যেমন- জারি, সারি, ভাটিয়ালি ইত্যাদি আমাদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করে। অথচ আজ বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে এসব গান হারিয়ে যাচ্ছে। আলমাস সাহেবের এই ভাবনার প্রকাশ 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখকের মধ্যে দেখা যায়। লেখক পল্লিসাহিত্যের পল্লিগানগুলোকে অমূল্য রত্নবিশেষ হিসেবে অবিহিত করেছেন। এ গানের সাথে শহুরে তুলনা হতে পারে না। সময় ও বুচির পরিবর্তনে এসব গান আজ ধ্বংসের মুখে। তাই পল্লির সন্তানদের উচিত এদিকে মনোযোগ দেওয়া। প্রবন্ধের এ দিকটিই উদ্দীপকের আলমাস সাহেবের মানসিকতায় প্রকাশ পেয়েছে।
"উদ্দীপকের সিয়ামের ধ্যান-ধারণা 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনার পরিপন্থী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পল্লিসাহিত্য আমাদের অমূল্য সম্পদ। বাংলাদেশের পল্লির আনাচে-কানাচে এ সম্পদ ছড়িয়ে আছে। অথচ আমরা সেদিকে নজর না দিয়ে বিদেশি সাহিত্য-সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছি। যার ফলে পল্লিসাহিত্যের এসব সম্পদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত এর সংরক্ষণ ও প্রসারণ নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকের সিয়াম হিন্দি ও ইংরেজি গান পছন্দ করে। অবসর পেলেই সে ঐসব গান শোনে। তার বাবা পল্লিগানের সম্পর্কে গুরুত্ব সম্পর্কে জানানোর পরও তার মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয় না। সিয়ামের এ ধরনের মানসিকতা 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনার পরিপন্থী। কারণ লেখক এ প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে এর সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন আমাদের পল্লির আনাচে-কানাচে পল্লিসাহিত্য ছড়িয়ে আছে। সাহিত্যের ভান্ডারে দান করার মতো পল্লির নতুন সম্পদের অভাব নেই। অথচ রুচির ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের অবহেলায় আজ তা ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে। এজন্য তিনি পল্লিজননীর সন্তানদের এদিকে মনোযোগ দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এর সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য। লেখকের এ ভাবনার সাথে উদ্দীপকের সিয়ামের ভাবনার পার্থক্য রয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
