| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘স্যার ক্লাসে দুই…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

স্যার ক্লাসে দুই ধরনের অপুষ্পক উদ্ভিদ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। প্রথম উদ্ভিদটি অশাখ সূত্রাকার সবুজ বর্ণের এবং দ্বিতীয় উদ্ভিদটি ক্লোরোফিলবিহীন ছাতার মত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
পরজীবী ছত্রাকের বিশেষ ধরনের হাইফা সৃষ্টি হয় যা পোষক দেহ থেকে খাদ্য শোষণ করে। একে হস্টেরিয়াম বলে। হস্টেরিয়ামকে বহুবচনে হস্টেরিয়া বলে।
তেল ও চর্বির মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটি হলো Ulothrix। এটি একটি অশাখ, সূত্রাকার, সবুজ বর্ণের শৈবাল। নিচে Ulothrix এর যৌন জনন ব্যাখ্যা করা হলো-
Ulothrix একটি ভিন্নবাসী বা হেটেরোথ্যালিক শৈবাল। এর যৌন মিলন আইসোগ্যামাস প্রকৃতির। হোল্ডফাস্ট ছাড়া যেকোনো একটি কোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজনের মাধ্যমে ৮-৬৪টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট সৃষ্টি করে। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট একটি নাসপাতি আকৃতির বাইফ্ল্যাজিলেট গ্যামিটে রূপান্তরিত হয়। একটি ভেসিকল দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় এরা অবস্থান করে বলে একে বলা হয় গ্যামিট্যাঞ্জিয়াম। এরা গ্যামিটেঞ্জিয়ামের প্রাচীরে সৃষ্ট ছিদ্রপথে বের হয়ে আসে এবং ভেসিকলের অবলুপ্তির পর মুক্তভাবে সাঁতরে বেড়ায়। দুটি ভিন্ন ফিলামেন্ট হতে দুটি গ্যামিট এসে যৌন মিলন সম্পন্ন করে এবং একটি চার ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট কিছুকাল সচল থাকে এবং পরে বিশ্রামকাল কাটায়। বিশ্রামের পূর্বে এরা প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে এবং চারদিকে একটি প্রাচীর সৃষ্টি করে। বিশ্রামকাল শেষে এতে মায়োসিস বিভাজন হয় এবং ৪-১৬টি হ্যাপ্লয়েড (n) জুস্পোর সৃষ্টি করে। জাইগোট প্রাচীর বিদীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে জুস্পোরগুলো বের হয়ে আসে এবং অঙ্কুরায়ন ও বিভাজনের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদে পরিণত হয়। এভাবে উদ্দীপকের উদ্ভিদটিতে যৌন জনন ঘটে।
উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় উদ্ভিদ হলো যথাক্রমে Ulothrix ও Agaricus। খাদ্য ও চিকিৎসাক্ষেত্রে Ulothrix এর তুলনায় Agaricus অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
খাদ্য, শিল্প ও বাণিজ্য, ওষুধ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ছত্রাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।নিচে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ছত্রাকের গুরুত্ব দেওয়া হলো-
খাদ্য শিল্পে: 'মাশরুম' বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় পৃথিবীর বহুদেশে এটি সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বড় বড় হোটেলগুলোতে খাদ্য হিসেবে, বিশেষ করে স্যুপ তৈরিতে মাশরুম ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিগত দিক থেকে Agaricus campestris ও Agaricus bisporus অত্যন্ত উঁচু মানের এবং সুস্বাদু। টাটকা মাশরুমে নানা ধরনের ভিটামিন যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, Vit-C, D, K ও প্যান্টোথেনিক এসিড পাওয়া যায়।
ওষুধ শিল্পে: এতে আঁশ বেশি থাকায় এবং শর্করা ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য একটি আদর্শ খাবার। এতে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ যেমন-Ca, K, P, Fe ও Cu আছে যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা এটি নিয়মিত খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।এতে প্রচুর উৎসেচক আছে যা হজমে সহায়ক, খাবারে রুচি বাড়ে এবং পেটের পীড়া নিরাময় করে। এতে লোভাস্টাটিন, এনটাডেনিন ও ইরিটাডেনিন থাকে যা শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অন্যতম উপাদান। মাশরুম নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
সুতরাং বলা যায়, ছত্রাক খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।