| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সম্রাট আকবরের সভাসদ…’ ঢাকা কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সম্রাট আকবরের সভাসদ ছিলেন আবুল ফজল। সম্রাট সাম্রাজ্য পরিচালনার সব বিষয়েই তাঁর সভাসদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। একবার পারস্য সম্রাট আবুল ফজলকে প্রস্তাব দেন যে, তিনি যদি ভারতবর্ষের নানা গোপনীয় তথ্য পারস্যে পাচার করেন, তাহলে তাঁকে অনেক ধনসম্পদ দেওয়া হবে। আবুল ফজল ‘ঘৃণাভরে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ‘আমি আমৃত্যু ভারত সম্রাটের হয়ে কাজ করব।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মোহাম্মদি বেগ দশ হাজার টাকার বিনিময়ে নবাব সিরাজকে হত্যা করতে রাজি হয়েছিল।
মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতা দেখে রবার্ট ক্লাইভ তাকে ব্যঙ্গ করে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর পূর্ব চুক্তিমতো নবাব হয় বিশ্বাসঘাতক ও ক্ষমতালোভী মিরজাফর। রাজদরবারে এসে মিরজাফর সিংহাসনে না বসে সিংহাসনের হাতল ধরে কর্নেল ক্লাইভের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এতে মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর তা দেখেই ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
দেশাত্ববোধ ও নৈতিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের আবুল ফজলের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের অমিল রয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে নবাব এবং দেশের মানুষের সাথে চরম বেইমানি করে। নিশ্চিত বিজয়ের অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও শুধু সেনাপতি মিরজাফরের নিষ্ক্রিয়তা ও তার কূটকৌশলের কারণে নবাবের বাহিনী পলাশির প্রান্তরে পরাজয় বরণ করে। ফলে এ দেশের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
উদ্দীপকে মোগল সম্রাট আকবরের সভাকবি আবুল ফজলের নীতি ও আদর্শের কথা বর্ণিত হয়েছে। পারস্য সম্রাটের কাছ থেকে অত্যন্ত লোভনীয় প্রস্তাব এলেও তিনি দেশ ও জাতির সাথে বেইমানি করে নিজ দেশের গোপন তথ্য পাচার করতে রাজি হননি। অথচ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের ভূমিকা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি দেশ ও জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কোনোকিছুরই তোয়াক্কা না করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলান এবং নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাতির পরাজয়কে নিশ্চিত করেন। এদিক দিয়ে আবুল ফজলের সাথে মিরজাফরের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
মোহনলাল, মিরমদান, নারান সিং প্রমুখ ব্যক্তিদের ভূমিকা দেখে বলা যায়, উদ্দীপকের আবুল ফজলের মতো বিশ্বস্ত মানুষ নবাব সিরাজের দরবারেও ছিল
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ক্ষমতার মসনদে বসার পরপরই খালা ঘসেটি বেগমসহ অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হন । এরই ধারাবাহিকতায় পলাশির প্রান্তরে নবাবের পরাজয় হয়। তবে এর বিপরীতে নাটকটিতে মোহনলাল, মিরমর্দান, নারান সিংদের মতো দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরাও নবাবের দরবারে ছিলেন। তাঁরা জীবন দিয়েছেন; কিন্তু দেশপ্রেমের আদর্শ জলাঞ্জলি দেননি
উদ্দীপকে মোগল সম্রাট আকবরের সভাকবি আবুল ফজলের নির্মোহ দেশপ্রেম ও কর্তব্যবোধের পরিচয় মেলে। পারস্য সম্রাটের কাছ থেকে অত্যন্ত লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েও তিনি তাতে সাড়া দেননি। কেননা, তিনি নীতি ও আদর্শে ছিলেন অটল। নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারেও এমন কয়েকজন বিশ্বস্ত ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন মানুষ ছিলেন। মিরজাফর, ঘসেটি বেগমরা যখন জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ব্রিটিশদের কেনা গোলাম হয়ে যায়, তখনো তারা দেশমাতৃকার পক্ষে মরণপণ লড়াই করেছেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মিরজাফর বা ঘসেটি বেগমের বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা, নারান সিং, মিমর্দান মোহনলালদের অকৃত্রিম দেশপ্রেমের পরিচয় ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারের শুধু বেইমান, দেশদ্রোহী মিরজাফরদের মতো লোকেরাই ছিল না, আবুল ফজলের মতো দেশপ্রেমিক মিরমদান, নারান সিং মোহনলালরাও ছিলেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।