| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সন্ধ্যের আঁধার ঘনিয়ে…’ a – গন্তব্য কাবুল, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সন্ধ্যের আঁধার ঘনিয়ে আসার পর আমরা অভিবাসন ও শুষ্ক দফতর থেকে ছাড়া পেয়ে খাঁচা-ছাড়া পাখির মতো উড়াল দিলাম। এই পথে আসতে পেরে খুশি হয়েছি, পথে আরাকান পড়বে, আরাকান রাজ্যের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন রাজধানী ম্রাউক-উ দেখতে পাব। এক সময় আরাকান বার্মা থেকে আলাদা স্বাধীন রাজ্য ছিল। তার পরিধি ছিল উত্তয়ে ফেনী পদী থেকে আন্দামান সাগরের কাছাকাছি পুরো বঙ্গোপসাগর উপকূল। সেখানে এসে পড়েছি এখন। আরাকান রাজ্যের রাজসভায় দৌলত কাজী, আলাওল সাহিত্যচর্চা করেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৬
লান্ডিকোটাল থেকে দক্কার দূরত্ব দশ মাইল।
➤ "ডান দিকে এক ফালি সবুজ আঁচল লুটিয়ে পড়েছে।"- লেখক এ কথাটি দক্কা দূর্গের ডান পাশের সৌন্দর্য সম্পর্কে বলেছেন।
➤ লেখক তাঁর ভ্রমণপথে খাইবার পাস অতিক্রম করে দক্কা দুর্গে পৌছান। সেখানে যাওয়ার পর লেখকের দক্কা দুর্গকে বড় অবান্তর মনে হয়। কিন্তু ঘিনঘিনে হলুদ বর্ণের দুর্গের বাম পাশে ছিল নয়নাভিরাম নদী। সেই নদী বাম দিক থেকে বাঁক নিয়ে এক পাশ দিয়ে চলে গেছে। সেখানে ডান পাশের সৌন্দর্য ছিল আরও চমৎকার। ডান পাশের সৌন্দর্যের মুগ্ধতা বোঝানোর জন্যই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
সারকথা: দক্কা দুর্গের দুই পাশের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে ডান পাশের সৌন্দর্যের অপরূপ দৃশ্য বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
➤ উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনির লেখকের ভ্রমণপথের বর্ণনার দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
➤ ভ্রমণ মানুষের জ্ঞান বাড়ায়। ভ্রমণের মাধ্যমে ব্যক্তি বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়, যা ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে। এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে পাথেয় হয়।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক হাওড়া থেকে কাবুল পর্যন্ত তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। চলার পথে তিনি পেশাওয়ার, খাইবার পাস, দক্কা বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছেন। খাইবার পাস অতিক্রম করার বিষয়টিকে জীবনের অন্য সব পরীক্ষার চেয়ে বড় পরীক্ষা বলা হয়েছে। এভাবে তাঁর চলার পথের নানান বিষয় ভ্রমণকাহিনিতে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকেও ভ্রমণের সময় রাস্তার নানা সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন ও শুল্ক দফতর থেকে ছাড়া পাওয়ার বিষয়টি খাইবার পাস অতিক্রম করার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মূলত এভাবেই 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনির লেখকের ভ্রমণপথের বর্ণনার বিষয়টি উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে।
সারকথা: 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক তাঁর ভ্রমণপথের বর্ণনা দিয়েছেন। আর উদ্দীপকেও ভ্রমণপথের বর্ণনা রয়েছে। মূলত এই • বিষয়টিই সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ "মিল থাকলেও উদ্দীপকে ভ্রমণকারীর যাত্রাপথ এবং 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনির লেখকের যাত্রাপথ এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ ভ্রমণপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এক নয়। ভ্রমণপিয়াসী মানুষ শুধু রাস্তা বা সৌন্দর্য অবলোকন করে না. পাশাপাশি তারা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়। তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক তাঁর হাওড়া থেকে কাবুল পর্যন্ত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। যাত্রাপথে পেশাওয়ার, জলম্বর, জালালাবাদ বিভিন্ন জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করেছেন। লেখক যাত্রাপথে কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন। ** বিশেষ করে ফিরিঙ্গি, শিখ সর্দারজি ও বেতার কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে কথা বলে লেখক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন, যে বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল যাত্রাপথের বর্ণনা আছে। আবার উদ্দীপকের যাত্রাপথের যে বর্ণনা রয়েছে সেখানে আবহাওয়ার কোনো বিষয় নেই। আলোচ্য রচনায় লেখক আবহাওয়ার বর্ণনাও করেছেন।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক তাঁর যাত্রাপথের যেরূপ বর্ণনা দিয়েছেন তাতে ওই পথ, আবহাওয়া, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু উদ্দীপকের বর্ণনায় এরকম কিছুই পাওয়া যায় না। তাই বলা যায়, মিল থাকলেও উদ্দীপকের ভ্রমণকারীর যাত্রাপথ এবং 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনির লেখকের যাত্রাপথ এক নয়। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'গন্তব্য কাবুল' ভ্রমণকাহিনির লেখক ভ্রমণপথের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন যে বিষয়গুলো উদ্দীপকে • নেই। এই দিকটাই বেসাদৃশ্যপূর্ণ।