A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘সন্তানের পিতামাতা শনাক্তকরণের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: বিজ্ঞান📚 বই: জীববিজ্ঞান📖 ১১তম অধ্যায়🔢 সৃজনশীল নং: ৩৫🏫 বোর্ড: কুমিল্লা বোর্ড📅 সাল: ২০২২⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সন্তানের পিতামাতা শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আদালতে বিচারক একটি বিশেষ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন এবং বলেন- “পরীক্ষণটির গুরুত্ব ও বাবহার অপরিসীম”।

উত্তর:

মানবদেহে ২২ জোড়া ক্রোমোজোম যারা শারীরবৃত্তীয়, ভূণ ও দেহ গঠনে অংশ নেয়, কিন্তু লিঙ্গ নির্ধারণে কোনো ভূমিকা নেই তারাই অটোজোম।

উত্তর:

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আয়রন ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হয় না। কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত প্রদান এবং নির্দিষ্ট ঔষধ খাইয়ে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীদের লৌহসমৃদ্ধ ফল বা ঔষধ খেতে হয় না। কারণ তা শরীরে জমে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে।

উত্তর:

উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ পরীক্ষার উপদানটি হলো ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান DNA। নিচে DNA অণুর রাসায়নিক গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
পলিনিউক্লিওটাইডের দুটি শিকল সিঁড়ির মতো পেঁচিয়ে DNA অণু একটি বিশেষ গঠন সৃষ্টি করে। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড আবার তিন ধরনের অণু নিয়ে গঠিত। যথা- ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেন বেস। নাইট্রোজেন বেস পিউরিন এবং পাইরিমিডিন ধরনের। DNA অণুতে পিউরিন বেস দু'প্রকার। যথা- এডিনিন (A) এবং গুয়ানিন (G)। পাইরিমিডিন বেসও দু'প্রকার। যথা- থায়ামিন (T) এবং সাইটোসিন (C)। এক অণু ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা ও এক অণু নাইট্রোজেন বেস মিলে এক অণু নিউক্লিওসাইড গঠন করে। এর সাথে একটি অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে একটি নিউক্লিওটাইড গঠিত হয়। এরূপ একাধিক নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়ে পলিনিউক্লিওটাইড সৃষ্টি হয়। এভাবে দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পাশাপাশি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় DNA অণু। এক্ষেত্রে সূত্র দুটির একটি এডিনিন অন্যটির থায়ামিনের সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনীর মাধ্যমে যুক্ত থাকে (AT)। আবার একটি সূত্রের গুয়ানিন অন্য সূত্রের সাইটোসিসের সঙ্গে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে (G=C)

উত্তর:

উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ পরীক্ষাটি হলো DNA টেস্ট পদ্ধতি। এর গুরুত্ব ও ব্যবহার অপরিসীম। নিচে কথাটি বিশ্লেষণ করা হলো-
বর্তমানে DNA প্রযুক্তির গুরুত্ব এবং এর ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং ঔষধশিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। প্রচলিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীনির্ভর বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি আজ বাংলাদেশেও সুবিচার পাওয়ার এক নতুন উপায় হচ্ছে এই DNA টেস্ট। DNA টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক এক ব্যবহারিক পদ্ধতিকে বলা হয় DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং। DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে নিম্নলিখিত কাজগুলো করা যায়। যথা-

১. পিতৃত্ব নির্ধারণ: অনেক সময় সমাজে সন্তানের পিতা বা মাতার পরিচয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। তখন সম্ভাব্য পিতা বা মাতার সাথে সন্তানের DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়ে দেখে প্রকৃত পিতা বা মাতাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

২. অপরাধী শনাক্তকরণ: খুন বা ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য ঘটনাস্থল থেকে রক্ত, বীর্য, চুল ইত্যাদি নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। এ নমুনা থেকে প্রাপ্ত DNA ফিঙ্গার প্রিন্টের সাথে সন্দেহভাজন অপরাধীদের DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়ে দেখে সহজেই অপরাধীকে শনাক্ত করা যায়।

এছাড়া বর্তমানে পলিমারেজ চেইন বিক্রিয়া বা PCR পদ্ধতিতে আরও নিপুণভাবে অল্প নমুনা ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে শনাক্তকরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

11 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘সন্তানের পিতামাতা শনাক্তকরণের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”