সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী ‘তাহমিদ’ ক্লাসে সবার প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে তাহমিদ এগিয়েই থাকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সড়ক দুর্ঘটনায় তাহমিদ একটি পা হারায়। তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ দুশ্চিন্তায়। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে সাহস জোগায় এবং তার পাশে দাঁড়ায়। বন্ধুদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তাহমিদ এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়।
'শুক্লাদ্বাদশী' অর্থ চাঁদের বারোতম দিন।
'আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি'- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত।
'সুভা' গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে তার এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করে। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে। এতে সুভার সীমাবদ্ধতা তার বারবার মনে পড়ে। সে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়। এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।
'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো তুলে ধরেছেন। এ গল্পে নাম চরিত্র সুভা হলো বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। কথা বলতে পারে না বিধায় সে প্রতিবন্ধী। এমন নিয়তিনির্ভর প্রতিবন্ধিত্ব শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক হতে পারে।
উদ্দীপকের তাহমিদ সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী একজন ছেলে। সে ক্লাসের প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে সে এগিয়ে থাকে সব সময়। দুর্ভাগ্যবশত সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারায় তাহমিদ। অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার কারণে তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। তার ওপরে যেমন বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে তেমনই তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ দুশ্চিন্তায়। 'সুভা' গল্পে সুভাও একজন বাক্প্রতিবন্ধী বালিকা। সে কথা বলতে না পারলেও সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ দিয়ে তা প্রকাশ করত। শুধু তার প্রতিবন্ধিতা বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। ফলে তাকে দুঃখময় বিষণ্ণ জীবন পার করতে হয়। এভাবে 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য শরীরিক প্রতিবন্ধিতায়।
সহযোগিতা পেলে সুভা সফল জীবন পেত এবং তার পবিরারও নির্ভার থাকত, তাই 'উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না' মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ একজন বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে তার পরিবার ও সমাজের কথা বলেছেন।
সমাজের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা সুভা ও সুভার পরিবার পায়নি। সুভার সামনে সবাই তার বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। সুভার সঙ্গে কেউ মিশত না এবং খেলত না। তাই সে ছিল নিঃসঙ্গ। একটু বড় হলে সমাজে তাকে নিয়ে নিন্দা শুরু হয় এবং তার বাবাকে একঘরে করার জনরব ওঠে। প্রতিবন্ধীর প্রতি সমাজের এমন নেতিবাচক মনোভাব সুভার মাকেও ভুল পথে পরিচালিত করেছে। তিনি সুভাকে গর্তের কলঙ্ক ভেবেছেন। সমাজ ইতিবাচক সহযোগিতা করলে সুভা হয়তো সফল হতো, তার পরিবারও নির্ভার থাকত। উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারানো তাহমিদের প্রতি বন্ধুদের সহানুভূতি ও সাহস জোগানের দিকটি আমরা লক্ষ করি। এমন দুঃখ-দুর্দশার সময় তাহমিদের পাশে এসে তার বন্ধুরা দাঁড়িয়েছে। যার ফলে সে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে পেরেছে এবং আপন শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার উৎসাহ লাভ করেছে। বন্ধুদের সাহস ও সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বিষন্নতার অন্ধকার থেকে উঠে আসতে পারেনি। কারণ তাকে সাহস ও সহানুভূতি দেখানোর কেউ ছিল না। এমনকি তার পরিবারও তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার অভাব সুভাকে দুঃসহ বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়।
উদ্দীপকের তাহমিদ বন্ধুদের কাছে থেকে যেমন উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে 'সুভা' গল্পের সুভা তা পায়নি। তাকে উৎসাহ দিলে সেও নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারত। তার পরিবারও সুভাকে নিয়ে চিন্তা থেকে মুক্তি পেত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
