| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সৈয়দপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা…’ বরিশাল বোর্ড ২০২২ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৈয়দপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার নিকটাত্মীয় মনির একজন বিশ্বাসঘাতক রাজাকার। কেউই মনিরকে বুঝিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দলে নিতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে একদিন মনির রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিনকে ধরিয়ে দেয় পাকবাহিনীর হাতে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবান গোলায় বন্দি হন।
মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাবের
প্রশ্নোক্ত কথায় প্রতারক ভীরুদের চিরন্তন প্রবণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। । পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানীতে ফিরে এসে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু দিকে দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের পালানোর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর নবাবের কাছে এলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আশান্বিত করতে তখনো । তিনি বীরত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গেই পলায়নরতদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন ।
উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি মনির চরিত্রের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজ তার রাজ্যসভা ও পরিবারের কিছু বিশ্বাসঘাতক চরিত্রের কারণে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন। সেই চরিত্রের লোকগুলো স্বদেশ ও স্বজাতির চেয়ে স্বার্থের মোহে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজদের পক্ষাবলম্বন করে পলাশিতে দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দেয়। ঘৃণ্য সে চরিত্রের মধ্যে অন্যতম হলো সেনাপতি মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎ শেঠ, নবাবের খালা ঘসেটি বেগম প্রমুখ।
উদ্দীপকেও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা রফিক উদ্দিনের নিকটাত্মীয় মনির রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সে স্বদেশ ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে জলাঞ্জলি দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়। বুঝিয়েও তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে আনা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে রাজাকার মনির মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিনকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয়। তার এই বিশ্বাসঘাতকতা ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর গংদের চরিত্রকেই ফুটিয়ে তোলে ।
নিকটজনের বিশ্বাসঘাতকতার দ্বারা বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন উদ্দীপকের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন ও ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলা ।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজ তার কাছের লোকের হীন স্বার্থের কারণে বিপর্যয়ে পড়েছেন। সেনাপতি যদি আপন নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া নবাবের ঘরের লোক আপন খালাও তাকে সিংহাসনচ্যুত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়। নবাবের আমত্যবর্গ ও এই নিকটাত্মীয়দের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশিতে তাঁকে পরাজিত ও নিহত হতে হয়েছে।
উদ্দীপকের রফিক উদ্দিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনিও আপনজনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর নিকট আত্মীয় মনির রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। যেখানে রফিক সাহেব দেশের জন্য লড়াই করেন সেখানে তাঁর আত্মীয়ের এই অবস্থান অনভিপ্রেত । অনেকেই মনিরকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিল । কিন্তু সে কারো কথা না শুনে স্বজাতির বিপক্ষে তৎপর থাকে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে মনির তার নিকটাত্মীয় রফিক উদ্দিনকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয়।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও এমন নিন্দনীয় ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিরাজউদ্দৌলাকে নিহত হতে হয়। একজন নবাবের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও আস্থার মানুষদের দেশের সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সেনাপতি যদি দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে স্বার্থের মোহে অবস্থান নেয় তবে তা দুঃখজনক ও ঘৃণ্য পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ নবাব সিরাজের সভাসদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল । তারা নবাবের পক্ষ অবলম্বন করে স্বদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এটিই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু ক্ষমতা ও স্বার্থের মোহে এরা বাংলার শত্রু ইংরেজদেরদের সাথে চক্রান্তে মিলিত হয়। আপনজনের দ্বারা বিপর্যস্ত হওয়া সিরাজউদ্দৌলার মতো উদ্দীপকের রফিক উদ্দিনও তার নিকটাত্মীয় দ্বারা পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দি হন । সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।