সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মুরাদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার দেহের পাম্প যন্ত্রটির কাজে সমস্যা দেখা দেয়। জীবন বাঁচানোর জন্য মুরাদের দুই বন্ধু তুহিন ও শাফিন তাকে রক্ত দিতে চাইলে ডাক্তার মুরাদসহ তিনজনের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে দেখলেন, মুরাদের রক্তের গ্রুপ B+ তুহিনের A+ এবং সাফিনের O+ ।
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ও বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার আনুপাতিক হারকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
কলয়েড জাতীয় শুষ্ক বা আংশিক শুষ্ক পদার্থ ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ শোষণ করে। কোষপ্রাচীর কলয়েডধর্মী হওয়ায় এটি তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে ইমবাইবিশন প্রক্রিয়া তা শুষে নিতে শুরু করে। ফলে কোষপ্রাচীর পানির সংস্পর্শে এলে তা শুষে নিয়ে স্ফীত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাম্প যন্ত্রটি হলো হৃৎপিণ্ড। নিম্নে হৃৎপিণ্ডের গঠন বর্ণনা করা হলো-
হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বামদিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। হৃৎপিণ্ড পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে থাকে তিনটি স্তর। হৃৎপিণ্ডের ভিতরের স্তরটি ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান এবং বাম অলিন্দ বলে এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান এবং বাম নিলয় বলে। হৃৎপিণ্ডের উভয় অলিন্দ এবং নিলয়ের মাঝে যে ছিদ্রপথ আছে, তা খোলা বা বন্ধ করার জন্য ভালভ বা কপাটিকা থাকে। ডান অলিন্দ এবং ডান নিলয়ের মধ্যবর্তী ছিদ্রপথ তিন পাল্লাবিশিষ্ট ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে সুরক্ষিত। একইভাবে বাম অলিন্দ এবং বাম নিলয় দুই পাল্লাবিশিষ্ট বাইকাসপিড ভালভ দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। মহাধমনি ও ফুসফুসীয় ধমনির মুখে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা থাকে। এদের অবস্থানের ফলে পাম্প করা রক্ত একই দিকে চলে এবং এক ফোঁটা রক্তও উল্টো দিকে ফিরে আসতে পারে না।
উদ্দীপক অনুযায়ী মুরাদের রক্তের গ্রুপ B+ তুহিনের A+ এবং শাফিনের O+ । দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণের ফলে মুরাদকে রক্ত দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে।
মুরাদকে তুহিন রক্ত দিতে পারবে না। কারণ A গ্রুপের রক্তে A অ্যান্টিজেন এবং ৮ অ্যান্টিবডি থাকে। আবার B গ্রুপের রক্তে B অ্যান্টিজেন এবং a অ্যান্টিবডি থাকে। অ্যান্টিবডি তার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অ্যান্টিজেন যে কোনো গ্রুপের রক্তকে জমিয়ে দেয়। তাই তুহিন যদি মুরাদকে A+ গ্রুপের রক্ত দেয় তবে মুরাদের B+ গ্রুপের রক্তের অ্যান্টিবডি ও তুহিনের রক্তের অ্যান্টিজেনের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিবে। এতে মুরাদের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যাবে। তবে শাফিন O+ গ্রুপের রক্তধারী হওয়ায় শাফিন মুরাদকে রক্ত দিতে পারবে। কারণ O গ্রুপের রক্তে কোনো এন্টিজেন থাকে না, ফলে O⁺ গ্রুপের রক্ত অন্য কোনো রক্তকেই জমিয়ে দেয় না। ফলে সকলে তা গ্রহণ করতে পারে। তাই আমরা বলতে পারি, অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির মধ্যে অসামঞ্জস্যতার ফলে যে জটিলতা হয় তার জন্য তুহিনের রক্ত মুরাদ গ্রহণ করতে না পারলেও সে শাফিনের রক্ত গ্রহণ করতে পারবে।
