| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সরকারি আজিজুল হক…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৫ – ভূমিরুপ পরিবর্তন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান গিয়ে দেখলো যে, এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু এবং ভূগঠন বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা। শিক্ষার্থীরা এই অঞ্চলের নদী তীরের আকৃতি খাড়া ঢালবিশিষ্ট এবং নদীর পানির স্রোত অনেক বেশি। সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূপ্রকৃতি ও নদীর কাজ দেখে শিক্ষার্থীরা অনেক খুশি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
বিভিন্ন প্রাকৃতিক, রাসায়নিক, জৈবিক শক্তি দ্বারা শিলাস্তর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যদি মূল শিলার উপরই থেকে যায়, তাহলে তাকে বিচূর্ণীভবন বলে।
ধীরগতির ভূমিরূপ পরিবর্তনের নিয়ামকগুলো হলো- সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রস্রোত, নদী, হিমবাহ ও তুষারপাত ইত্যাদি। উক্ত বহিঃস্থ শক্তিগুলোর প্রভাবে বহু বছর যাবৎ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। এ পরিবর্তন ধারা এত ধীরে হয় যে, এ প্রক্রিয়াগুলো সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না। এ পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চল বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে উক্ত অঞ্চলের চিত্রসহ বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো:
চিত্র: বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি (চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহ)
এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো প্রায় সরলরেখার আকারে উত্তর ও উত্তর-'পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বেঁকে গেছে। এছাড়া এ অঞ্চলের খাড়া ঢালবিশিষ্ট পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬০০ মিটার (২০০০ ফুট)। পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে পাহাড়গুলোর উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়গুলো বেলে পাথর এবং কাদামাটি দিয়ে গঠিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নদী প্রাথমিক বা পার্বত্য পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। প্রাথমিক বা পার্বত্য পর্যায়ে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নদীর ক্ষয়কার্য অত্যন্ত বেশি হয়। ক্ষয়কার্যের ফলে ক্যাসকেড, জলপ্রপাত, গিরিখাত, ক্যানিয়ন প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে বিভিন্ন নদীঢালের সৃষ্টি হয় এবং কখনো কখনো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলপ্রপাত ধাপে ধাপে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ অতিক্ষুদ্র জলপ্রপাত শ্রেণিই হলো ক্যাসকেড।
পার্বত্য অবস্থায় নদীস্রোত কোনো কঠিন শিলাস্তর থেকে কোমল শিলাস্তরটিকে বেশি পরিমাণ ক্ষয় করে ফেলে। ফলে কঠিন শিলাস্তর কোমল শিলাস্তরটিকে বেশি পরিমাণ ক্ষয় করে ফেলে। ফলে কঠিন শিলাস্তর কোমল শিলাস্তর অপেক্ষা অনেক উঁচুতে অবস্থান করে এবং পানি ধারা খাড়াভাবে নিচে পড়তে থাকে। পানির এরূপ পতনই জলপ্রপাত।
নদীর ক্ষয়চক্রের তরুণ বা প্রাথমিক অবস্থায় প্রবলস্রোত খাড়া পর্বতের গা বেয়ে নিম্নদিকে প্রবাহিত হয়। এ সময় অসংখ্য অন্ধকূপের মাধ্যমে উপত্যকায় নিম্নক্ষয়ের ফলে অত্যন্ত সংকীর্ণ, খাড়া ঢালবিশিষ্ট ও গভীর যে উপত্যকার সৃষ্টি হয় তাকে গিরিখাত বলে।
সুতরাং বলা যায়, নদীর প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষয়কার্যের ফলে উপরোল্লিখিত ভূমিরূপগুলো সৃষ্টি হয়।