স্থূলকায় রিয়াদ সাহেব বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলেন। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বললেন তার দেহের সংকোচন প্রসারণশীল পাম্পের মতো অঙ্গে রক্ত প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তাঁর রক্তে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে ফটোলাইসিস বলে।
রাত্রিবেলা বড় গাছের নিচে ঘুমাতে নিষেধ করা হয়। রাত্রিবেলা গাছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, ফলে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় না এবং CO₂ গ্যাস শোষিত হয় না। কিন্তু রাত্রিবেলা গাছে শ্বসনের কার্যক্রম চলতে থাকে এবং বিপুল পরিমাণ CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। ফলে বড় গাছের নিচে বাতাসে CO₂ এর ঘনমাত্রা অনেক বেশি থাকে। যা শ্বাস রোধের কারণ হতে পারে। তাই রাতে গাছের নিচে ঘুমালে শ্বাসকষ্ট হয়।
রিয়াদ সাহেবের রক্তে উৎপন্ন যৌগ বলতে কোলেস্টেরলকে বোঝানো হয়েছে। কারণ কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ। নিচে কোলেস্টেরলের কার্যকারিতা আলোচনা করা হলো-
কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরনের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়। যথা- LDL, HDL এবং ট্রাই গ্লিসারাইড। রক্তের উপর এদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
আমাদের রক্তে সাধারণত ৭০% LDL থাকে। রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলেই রক্তের LDL বেড়ে যায়। রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালির অন্তঃপ্রাচীরেরগাত্রে কোলেস্টেরল বেশি হবে এবং রক্তনালি গহ্বর সংকুচিত হয়ে যাবে। ফলে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে শক্ত হয়ে যাবে। এতে রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হবে। এ অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো রোগের মারাত্মক ঝুঁকি বাড়ায়।
আবার, HDL হলো শরীরের উপকারী কোলেস্টেরল। এর পূর্ণরূপ হলো High Density Lipo-protein। বিশেষজ্ঞরা বলেন, HDL হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। শারীরিক বৃদ্ধিতে HDL, LDL এর বিপরীত কাজ করে। তার এ আদর্শ HDL রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখবে, এতে হৃৎপিণ্ডের কার্যকলাপ স্বাভাবিক থাকবে। ধমনিতে স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচল করতে পারবে। এতে তার স্নায়বিক কার্যকলাপ স্বাভাবিক থাকবে, ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।
আবার, ট্রাই-গ্লিসারাইড কোলেস্টেরল চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। এটি আমাদের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে। রক্তে এই কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে তা ধমনিগাত্রে জমা হবে ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং খাদ্য পাবে না। ফলশ্রুতিতে হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গ বলতে হৃৎপিণ্ডকে বোঝানো হয়েছে।
হৃৎপিণ্ডের সাহায্যে আমাদের শরীরের রক্ত সংবহন বা সঞ্চালন পদ্ধতি অব্যাহত থাকে। আর এই রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমেই হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুই ধরনের গ্যাসীয় উপাদান অর্থাৎ অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দ প্রসারিত হলে দেহ থেকে আসা CO₂ যুক্ত রক্ত ঊর্ধ্ব মহাশিরার মাধ্যমে ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। ডান অলিন্দ সংকুচিত হলে CO₂ যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র পথে ট্রাইকাপসিড ভালব খুলে গিয়ে ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। এর পর ডান নিলয় সংকুচিত হয় এবং CO₂ যুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এ রক্ত পরিশোধিত হয়ে O₂ যুক্ত রক্তে পরিণত হয়। পরবর্তীতে এই O₂ যুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দের প্রসারণের ফলে সেখানে প্রবেশ করে। বাম অলিন্দ সংকুচিত হলে O₂ যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। বাম অলিন্দ সংকুচিত হলে তা অ্যাওর্টার মাধ্যমে সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দের প্রসারণের ফলে সেখানে প্রবেশ করে। বাম অলিন্দ সংকুচিত হলে তা অ্যাওর্টার মাধ্যমে সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডের বাম ও ডান অলিন্দ-নিলয় প্রাচীরের কারণে O₂ যুক্ত ও CO2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্যে একত্রে মিশতে পারে না। হৃৎপিণ্ডের পাম্প ক্রিয়ার কারণে CO₂ যুক্ত রক্ত ফুসফুসে পরিশোধিত হয় এবং O₂ যুক্ত রক্ত বাম অলিন্দ-নিলয় হয়ে অ্যাওর্টার মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে গ্যাসীয় উপাদান অর্থাৎ অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রবাহিত হয়।
