“সত্যই শক্তি, সত্যই আলো,
মিথ্যা কেবল আনে কালো।
ন্যায়ের পথে দাঁড়াই দৃপ্ত,
অন্যায় হলে ভাঙি চিত্র।
সাম্যের ডাকে মানুষ এক,
ভেদাভেদ মুছে সব এক।
সত্য-ন্যায়-সাম্য যার গান,
সে-ই তো হবে মানব মহান।”
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা.)-কে 'চীরধারী সম্রাট' বলা হয়েছে।
ইসলামের সংস্পর্শে- মানুষের নৈতিক, মানবিক ও আধ্যাত্মিক উত্তরণ ঘটে বলে 'উমর ফারুক' কবিতায় ইসলামকে 'পরশ-মানিক' বলা হয়েছে।
ইসলাম হলো সত্য ধর্ম। আর তাই ইসলাম মানুষের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এটি মানুষকে নৈতিকতা ও মানবিকতা শিক্ষা দেয়। এভাবে ইসলাম মানুষের মাঝে গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে পরিশুদ্ধ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। পাশাপাশি এটি মানুষের পারলৌকিক কল্যাণের পথকেও সুগম করে। বস্তুত ইসলামের ছায়াতলে মানুষ নিজেকে সংশোধিত ও উন্নত করে তোলার প্রয়াস পায়। এ কারণে আলোচ্য কবিতায় ইসলামকে 'পরশ-মানিক' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের ভাবার্থ 'উমর ফারুক' কবিতার 'সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সাম্যবোধ ও মানব মহত্ত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'উমর ফারুক' কবিতায় উমর (রা.)-কে এমন একজন শাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি সত্য, ন্যায়, সাম্য ও মানবসেবাকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ক্ষমতা, ঐশ্বর্য ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের দুঃখ নিজের দুঃখ ভেবে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সাহস, ন্যায়নীতি ও আত্মত্যাগের।
উদ্দীপকে সত্য, ন্যায়, সাম্য ও মানবতার যে আহ্বান রয়েছে, তা 'উমর ফারুক' কবিতার কেন্দ্রীয় ভাবের সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। উদ্দীপকের বার্তা সত্যই আলো, ন্যায়ই মানুষের শক্তি, আর সাম্যই মানবতার পরিচয়- 'উমর ফারুক' কবিতায় বাস্তব রূপ পেয়েছে উমর (রা.)-এর জীবনে। আলোচ্য কবিতায় তাঁর অটল ন্যায়পরায়ণতা, দরিদ্রের প্রতি সহমর্মিতা, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিনয় ও আত্মসংযম উদ্দীপকের মূল বক্তব্যকে আরও দৃঢ় করে তোলে। এভাবে উদ্দীপক ও 'উমর ফারুক' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই মানব-মহিমা, সত্য, ন্যায় ও সাম্যের কথা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতার বিস্তারিত বর্ণনা ও ঘটনাপ্রবাহের দিক থেকে বলা যায়, “উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করতে সক্ষম নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'উমর ফারুক' কবিতায় উমর (রা.)-এর মহান চরিত্র, ত্যাগ, ন্যায়পরায়ণতা ও জনগণের প্রতি তাঁর অদ্বিতীয় দায়িত্ববোধ ফুটে উঠেছে। খলিফা হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের মতো অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন এবং মানবসেবাকে ইমানের অংশ হিসেবে ধারণ করেছেন।
উদ্দীপকে সত্য, ন্যায় ও সাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হলেও 'উমর ফারুক' কবিতায় এই নীতিগুলো শুধু ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকটি মূলত নৈতিক শিক্ষার সংকেত মাত্র, কিন্তু আলোচ্য কবিতায় উমর (রা.)-এর অগণিত কর্ম, ত্যাগ, চরিত্রশক্তি ও ন্যায়বোধের বহু উদাহরণ রয়েছে। যার ফলে দেখা যায়, উদ্দীপকটি কবিতার সামগ্রিক গভীরতা ও বিস্তারকে সম্পূর্ণ বোঝাতে পারে না।
'উমর ফারুক' কবিতাটি অনেক বেশি বিস্তৃত এবং এতে উমর (রা.)-এর জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। যেমন- তিনি কীভাবে ন্যায়বিচার করতেন, শাসনকার্য পরিচালনা করতেন, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতা দেখাতেন এবং কত সাধারণ জীবনযাপন করতেন- সবই কবিতায় বিস্তারিতভাবে আছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু সত্য, ন্যায় ও সাম্যের শিক্ষা নিয়ে কথা বলা হয়েছে। সেখানে উমর (রা.)-এর চারিত্রিক মাহাত্ম্য, তাঁর কর্ম, আত্মসংযম, নৈতিক শক্তি বা ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার কথা- এসব কিছুই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার মূল নৈতিক শিক্ষাকে তুলে ধরলেও কবিতার সম্পূর্ণ ভাববস্তু তুলে ধরতে পারেনি।
