A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘স্তবক-১:চন্দ্র সূর্য গ্রহ…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: বরিশাল বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

স্তবক-১:
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা আকাশ বাতাস জল,

যেমন আছে তেমনি ঠিক রইবে অবিকল

মাত্র আমি আর থাকব না কেবল জনপূর্ণ ভবে,

সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে।

স্তবক-২:
সৃষ্টির নেশায় যারা থাকে মগ্ন

ব্যর্থ হয় কখনো কখনো

ভেঙে যায় সব স্বপ্ন

তবুও দমিয়ে থাকে না তারা

আঁধারে গড়ে আপন ভুবন।

উত্তর:

খেয়ানৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।

উত্তর:

"চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে।"- পঙক্তি দ্বারা কবি চালতাফুলে শিশির পড়ে ভিজে থাকার প্রকৃতির রীতি চির বহমান থাকাকে বুঝিয়েছেন।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের বহমানতা এবং মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কবি জানেন যে, তিনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যেদিন এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন সেদিনও পৃথিবীর প্রকৃতি বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে টিকে থাকবে। সেদিনও আজকের মতো প্রকৃতির বুকে ফোটা চালতা ফুল শিশিরের জলে ভিজে নরম গন্ধ বিলাবে। প্রকৃতির সবকিছু যথানিয়মে চলমান থাকবে। এটা বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

উত্তর:

স্তবক-১-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের নশ্বরতা এবং প্রকৃতির অবিনশ্বরতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি একদিকে সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা এবং অন্যদিকে বিনির্মাণের কথা বলেছেন। তিনি জগতের চিরন্তন সত্য নির্দেশ করতে গিয়ে বলেছেন যে, পৃথিবীতে মানুষ মরণশীল, কিন্তু মানুষের স্বপ্ন অমর। মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংস হলেও প্রকৃতি টিকে থাকে। প্রকৃতির ধ্বংস বা বিনাশ নেই। প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চির প্রবহমান।

স্তবক-১-এ প্রকৃতির চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারা, আকাশ, বাতাস, জল যেমন আছে তেমনই থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতির এসব উপাদান আজকে যেমন আছে চিরকাল তেমনই থাকবে। অবিকল থাকবে না মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা। মানুষকে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ছেড়ে হারিয়ে যেতে হবে। স্তবক-১-এর এই বিষয়টি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই কবিতায়ও কবি প্রকৃতি অবিকল একই রকম থাকা এবং মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কবির মতে প্রকৃতিতে যে সৌন্দর্য বিরাজমান তা নানাভাবে রূপ-রস-গন্ধ ছড়াবে। কেবল মানুষ ও মানুষের তৈরি বস্তু কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এভাবেই উদ্দীপকের স্তবক-১-এ কবিতার প্রতিফলন ঘটেছে।

উত্তর:

মানুষের মৃত্যু আছে কিন্তু এ জগতে সৌন্দর্যের মৃত্যু নেই, মানুষের স্বপ্নেরও মরণ নেই- এই বিষয়টির সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা বলে স্তবক-২ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাবকে স্পর্শ করেছে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবির মতে মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কিন্তু প্রকৃতি যেমন আছে তেমনই থাকে। প্রকৃতিতে চিরকালের ব্যস্ততা বজায় থাকে। মাঠে থাকে চঞ্চলতা, চালতা ফুলে শীতের শিশির পড়া, লক্ষ্মীপেঁচার কণ্ঠে মঙ্গলবার্তা চিরজাগরূক থাকে। কোথাও মৃত্যুর রেশ থাকে না। শুধু মানুষ থাকে না।

স্তবক-২-এ মানুষের স্বপ্ন এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে সৃষ্টিশীল মানুষের সৃষ্টিকর্মে লিপ্ত হওয়া এবং ব্যর্থ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানুষ তার স্বপ্নের ভাঙনে, ব্যর্থতায় ম্লান হয়। তবুও একেবারে নিঃশেষ হতে চায় না। আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে, জগতের কল্যাণকর কর্মের মাধ্যমে অমরত্বের চেষ্টা চালায়। এই দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাবকে স্পর্শ করেছে। এই কবিতার মূলভাবেও মানুষের অমরত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। জাগতিক নিয়মে নশ্বর মানবজীবন স্রোতও চলে অবিনশ্বর প্রকৃতির বিপরীতে। এ ক্ষেত্রে কেবল টিকে থাকে মানুষের মানবীয় কর্ম, চিন্তা আর স্বপ্ন।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্য এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। স্তবক-২-এর মূলভাবেও এটির প্রতিফলন ঘটেছে। কবিও বলেছেন মানুষের স্বপ্নের প্রবহমানতা প্রকৃতির সঙ্গে এক হয়ে টিকে থাকে। এভাবে স্তবক-২ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করেছে।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘স্তবক-১:চন্দ্র সূর্য গ্রহ…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”