স্তবক (i):
“বাংলার নদী কী শোভাশালিনী
কী মধুর তার কুলকুল ধ্বনি
দু’ধারে তাহার বিটপীর শ্রেণি
হেরিলে জুড়ায় হিয়া।”
স্তবক (ii):
“ওগো আমার জন্মভূমি,
ওগো অপরূপা ফিরে কি আর পাবো তোমায়?
এ বিদেশ, বিভুঁইয়ে তোমারে স্মরি আনমনে
আঁখি মুছি সযতনে তবু আশা পারি না ছাড়িতে,
বেঁধে রেখেছো যে মা, তোমার স্নেহডোরে।
"কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?"- কবির একথা বলার কারণ হলো কপোতাক্ষ নদ তথা জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও দেশপ্রেম।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর গভীর অনুভবে প্রবাসে থেকেও কপোতাক্ষ নদের জলধারার কলকল ধ্বনি শুনতে পান। এই নদ যেন তাঁকে মায়ের স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছে। তাই সেই নদের স্নেহধারা পেতে তিনি ব্যাকুল হন। পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরে বহু নদ-নদী তিনি দেখেছেন। তবু কপোতাক্ষ কে তিনি ভুলতে পারেন না। কারণ কপোতাক্ষ তাঁকে যে মাতৃস্নেহে জড়িয়ে রেখেছে তা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদী পারেনি। তাই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
স্তবক (i)-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার দেশপ্রেমের ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।' সুদূর ফ্রান্সে বসবাস কালে তিনি কপোতাক্ষ নদের স্মৃতি ভেবে কাতর হয়েছেন।
উদ্দীপকের কবি কণ্ঠেও স্বদেশের প্রতি তাঁর সৌন্দর্য ও মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে, যার আড়ালে আসলে দেশপ্রেম লুকিয়ে আছে। বাংলার নদীর শোভায় এবং মধুর কুলকুল ধ্বনিতে তিনি বিমোহিত। নদীর দুধারের বৃক্ষরাজি কবির মন জুড়ায়। এখানে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মতোই বাংলার নদীর রূপে মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও কবি তাঁর শৈশবের নদ কপোতাক্ষের জন্য স্মৃতিকাতর হয়েছেন সুদূর প্রবাসে বসে। তিনি বিদেশের বহু নদ-নদী দেখেও কপোতাক্ষকে ভুলতে পারেন না। এ নদ তাকে মায়ের স্নেহডোরে বেঁধেছে যেন। এই স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে কবির স্বদেশ প্রেম অত্যুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই দেশপ্রেম উদ্দীপকের স্তবক (i)-এও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানেও স্বদেশের নদী দেখে কবি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন যা আসলে স্বদেশপ্রেমের নামান্তর। এভাবে স্তবক (i)-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার দেশপ্রেমের ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
"স্তবক (ii) 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার আংশিক ভাবমাত্র, পূর্ণ রূপ নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ, কেননা এখানে স্বদেশের প্রতি কবির কোনো সবিনয় মিনতি ব্যক্ত হয়নি।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি সুদূর প্রবাসে বসে কপোতাক্ষ নদের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। কবির শৈশব-কৈশোরের মদের স্মৃতি তাঁকে কাতর করে তুলেছে। আসলে স্মৃতির আবরণে প্রবল ভাবে কবির দেশপ্রেম পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। তাই তিনি কপোতাক্ষ নদকে সবিনয় মিনতি করেছেন তাঁর মতো করেই সেও যেন তাকে বন্ধুভাবে স্মরণ করে এবং বঙ্গবাসীর কানে যেন তার এই ভালোবাসা পৌছে দেয়।
স্তবক (ii)-এ জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। দেশের প্রতি তাঁর তীব্র টান প্রতীয়মান হয়েছে। বিদেশের মাটিতে থেকে তাঁর সর্বদা দেশের কথা মনে জাঁগরূক। তাঁর মনে আশঙ্কা জাগে- তিনি কি আর জন্মভূমিকে ফিরে পাবেন? যে স্বদেশ তাকে মায়ের স্নেহডোরে বেঁধেছে তার কথা স্মরণ করে তিনি অশ্রু ঝরান। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার প্রবাসী কবিও সুদূর ফ্রান্সে বসে জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করেছেন যা আসলে প্রগাঢ় দেশপ্রেমের নামান্তর। এছাড়া তিনি কপোতাক্ষকে তাঁর মতোই বন্ধুভাবে গ্রহণ করার মিনতি জানিয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি মাতৃসম স্বদেশের দুগ্ধ-স্রোতোরূপী নদের কথা আকুল হয়ে স্মরণ করেছেন। তিনি তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি বিজড়িত নদের ধ্বনি বিদেশে থেকেও শুনতে পান। তিনিও উদ্দীপকের কবির মতো দেশের নদকে তথা জন্মভূমিকে আর দেখতে পাবেন কি না সেই আশঙ্কা করেন। স্তবক (ii)-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্বদেশপ্রেম, স্মৃতিকাতরতা, আশঙ্কা ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পেয়েছে। তবে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি সবিনয় মিনতি জানিয়েছেন যে, বন্ধুভাবে তিনি যেমন কপোতাক্ষকে স্নেহাদরে স্মরণ করেন, কপোতাক্ষও যেন একই প্রেমভাবে তাঁকে সয়েহে স্মরণ করে। কপোতাক্ষ যেন স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর কাছে ব্যক্ত করে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির এই 'আবেদন উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
