সুজনের সাথে সুজানার বিয়ে হলো। তাদের সন্তানের মধ্যে রক্তশূন্যতা দেখা গেল। পরবর্তীতে পরীক্ষণ করে দেখা গেল সুজন ও সুজানা উভয়েরই α গ্লোবিউলিন প্রোটিন সৃষ্টিকারী জিন ত্রুটিপূর্ণ।
মানুষের যেসব রোগ সেক্স ক্রমোজোমের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তাদেরকে সেক্স-লিংকড অসুখ বলে।
যেকোনো দুই বা ততোধিক প্রজাতির মধ্যে বাঁচার জন্য যে প্রতিযোগিতা ঘটে তাকেই আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম বলা হয়। যেমন ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়। আবার, ময়ূর সাপ এবং ব্যাঙ দুটোই খায়। এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একটি নিষ্ঠুর জীবনসংগ্রাম গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকের দম্পতি সুজন-সুজানা উভয়ই a থ্যালাসেমিয়ার বাহক বলে রোগটি দ্বারা আক্রান্ত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা 25%। বিষয়টি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম। এ রোগে রোগির লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। এই রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। এটি একটি অটোসোমাল রিসিসিভ ডিসঅর্ডার অর্থাৎ বাবা ও মা উভয়ই এ রোগের বাহক বা রোগী হলে তবেই তা সন্তানে রোগলক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। জিনের প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে থ্যালাসেমিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়- থ্যালাসেমিয়া মেজর ও থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়া মেজরের বেলায় শিশু তার বাবা ও মা দু'জনের কাছ থেকেই থ্যালাসেমিয়ার জিন পেয়ে থাকে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত দম্পতিটির শিশুর থ্যালাসেমিয়া মেজর হবে। কারণ বাহক মাতা ও পিতার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা হলো 25%, সুস্থ কিন্তু থ্যালাসেমিয়া বাহক সন্তান জন্মের সম্ভাবনা 50% এবং সুস্থ শিশু জন্মের সম্ভাবনা 25% যা নিচে চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো-
ধরা যাক,
থ্যালাসেমিয়া জিন = r এবং সুস্থ জিন = R
তাই বলা যায় যে, সুজন-সুজানা দম্পতির সন্তানদের ক্ষেত্রে রোগটি দ্বারা আক্রান্ত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা 25%।
উদ্দীপকে কন্যা ও পুত্রসন্তান হওয়ার ক্ষেত্রে সুজন ও সুজনার মধ্যে সুজনের ভূমিকাই মুখ্য।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এবং নামে পরিচিত। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই ক্রোমোজোম অর্থাৎ । কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি এবং অপরটি ক্রোমোজোম অর্থাৎ । এবং উভয় ধরনের সেক্স ক্রোমোজোমই আকৃতিতে লম্বা এবং রডের মতো। তবে ক্রোমোজোম ক্রোমোজোমের তুলনায় কিছুটা ছোট। স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি ক্রোমোজোম লাভ করে।
অন্যদিকে পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে ক্রোমোজোম লাভকরে। ডিম্বাণু পুরুষের বা ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোটটি দুটি অথবা একটি এবং একটি "Y" ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে কন্যা আর যে শিশু একটি এবং একটি অর্থাৎ নিয়ে জন্মাবে সে হবে পুত্র সন্তান।
তাই আলোচনা থেকে বলা যায়, কন্যা ও পুত্রসন্তান হওয়ার ক্ষেত্রে পিতা অর্থাৎ সুজনের ভূমিকা রয়েছে।
