| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য একজন…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৫ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুকান্ত ভট্টাচার্য একজন তেজস্বী কবি। তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ‘শাসকদের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ধারণ করেন। তাঁর কবিতায় আছে মানুষের মুক্তির বার্তা এবং স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার স্বাদ। তাঁর দ্রোহচেতনা কবিতার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
'অগ্নিবীণা' কাব্য ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
কবি নিজেকে 'বিদ্রোহী রণক্লান্ত' বলেছেন কারণ তিনি নিজেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রের একজন অকুতোভয় ও আপসহীন সৈনিক মনে করেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে একাই যুদ্ধে নেমেছেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের এমন এক মহা বিদ্রোহী যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হলেও তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না। যতদিন পর্যন্ত উৎপীড়িত জনতার কান্না না থামবে ততদিন তাঁর এই বিদ্রোহী কবিসত্তা শান্ত হবে না। ফলে 'বিদ্রোহী রণক্লান্ত' বলতে তিনি নিজেকে একজন অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। অসত্য, অকল্যাণ, অমঙ্গল ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ; শৃঙ্খলপরা 'আমি" সত্তার মুক্তির জন্য বিদ্রোহ এবং স্বদেশের মুক্তির জন্য ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। সব ধরনের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তিনি নিপীড়িত মানুষকে মুক্ত করতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের বক্তব্য বিষয়ে দেখা যায়, তেজস্বী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে তার লেখনী ধারণ করেন। তিনি লেখনীর মধ্য দিয়ে মানুষকে মুক্তির বার্তা দিয়েছেন; সেই সঙ্গে দিয়েছেন স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার স্বাদ। সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো কবি কাজী নজরুল ইসলামও তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা এনে দিতে দৃঢ় পণ করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাই বলা যায় উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপক এবং 'বিদ্রোহী' কবিতায় প্রত্যেক মানুষের মধ্যে বিদ্যমান 'আমি' সত্তার বিকাশ ঘটিয়ে বিদ্রোহীসত্তার প্রকাশ দেখানো হয়েছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের আকাঙ্ক্ষায় বিদ্রোহ করেছেন। তাঁর বিদ্রোহ ছিল অধিকারবঞ্চিত মানুষদের অধিকার আদায়ের জন্য। তাঁর বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন করে স্বাধীনতা অর্জন করা। তাই তিনি নতুন যুগের মানুষদের চিত্তজাগরণের অগ্রদূত হয়ে প্রত্যেক মানুষকে চিত্তজাগরণের মন্ত্র পাঠ করিয়েছেন।
উদ্দীপকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের তেজস্বী লেখনীশক্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে। কবি লেখনীশক্তির মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং প্রত্যেক মানুষকে সচেতন হওয়ার প্রেরণা দেন। মূলত তাঁর কবিতার দ্রোহচেতনার মধ্য দিয়ে সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও সকল অন্যায়-অবিচার ও অপশক্তির বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহী কবিসত্তার জাগরণ লক্ষ করা যায়।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি প্রত্যেকের মাঝের 'আমি' সত্তার বিকাশ ঘটিয়ে পৃথিবী থেকে সকল যুদ্ধবিগ্রহ, অন্যায়-অত্যাচার নির্মূল করতে চেয়েছেন। তিনি শুধু নিজের মুক্তি অনুভব করেননি, তাঁর মনেপ্রাণে জেগেছে নিপীড়িত-নির্যাতিত-শোষিত মানুষদের মুক্ত করার নেশা। কবি প্রত্যেকের মাঝে বিদ্রোহীসত্তাকে সচেতন ও সজাগ করে তোলার মধ্য দিয়ে তাঁর বিদ্রোহী চেতনাকে সফল করে তুলেছেন।