| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুখে আছে যারা,…’ a – ঋতু বর্ণনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুখে আছে যারা, সুখে থাক তারা
সুখের বসন্ত সুখে হোক সারা
দুখিনী নারীর নয়নের নীর
সুখী জনে যেন দেখিতে না পায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'তাম্বুল' হলো পান।
➤ 'মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি' বলতে বসন্তের আগমনে মানবমনে প্রেমানুভূতি জাগরণের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
➤ প্রকৃতিতে যখন বসন্ত আসে, তখন মানবমনেও জাগরণ অনুভূত হয়। বসন্তের বাতাস এসে হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। প্রেমানুভূতির সৃষ্টি হয় মনে। বসন্তের আগমনে মানুষের মধ্যে এমন অনুভব সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টিকে কবি অন্যভাবে দেখেছেন। কবি বসন্তের বাতাসকে সংবাদবাহক হিসেবে কল্পনা করেছেন। সে যেন প্রেমের দেবতার কাছ থেকে সংবাদ বহন করে নিয়ে এসেছে। তাই তো মানুষের মধ্যে এমন অনুভবের সৃষ্টি হয়েছে। বসন্তের দখিনা স্নিগ্ধ বাতাস কবির কল্পনায় এভাবে প্রেমদেবতার সংবাদবাহক হিসেবেই ধরা দিয়েছে।
সারকথা : বসন্তের দখিনা স্নিদ্ধ বাতাস কবির কল্পনায় প্রেমদেবতার সংবাদবাহক হিসেবেই ধরা দিয়েছে।
➤ উদ্দীপকে বর্ণিত বসন্তের আগমনে নারীহৃদয়ে বিরহ জাগ্রত হওয়ার দিকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।
➤ বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। এই ঋতুতে প্রকৃতি পুষ্পে-পত্রে সুশোভিত হয়। কোকিলের কুহুতান মোহনীয় আবেশ সৃষ্টি করে। দখিনা বাতাস হৃদয়কে আলোড়িত করে। প্রকৃতিতে সুখের উপাদান ছড়িয়ে পড়ে।
➤ উদ্দীপকে সুখের বসন্তের কথা বলা হয়েছে। সুখী মানুষদের সুখে থাকার প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে এমন দিনেও দুখিনী নারীর দুঃখ ঘোচে না। বসন্ত যেন তার দুঃখকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। বসন্তের সুখ যখন সবার মাঝে বিরাজ করে, তখন দুঃখী নারী আরও দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তবে সেই দুঃখ যেন সুখী মানুষের গোচরে না আসে, সেই প্রচেষ্টা এখানে লক্ষ করা যায়। বসন্তের আগমনে বিরহকাতর নারীর বর্ণনা 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় নেই। সেখানে বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, মলয় সমীর, ভ্রমর-গুঞ্জন ও কোকিলের কুহুতান প্রকৃতিতে অনির্বচনীয় রূপের সৃষ্টি করে। এই বসন্ত ছাড়াও ষড়ঋতুর অন্যান্য ঋতুর সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য এবং মানবমনে এগুলোর প্রভাব বর্ণিত হয়েছে কবিতায়। মানুষের মনকে আবেগ ও প্রেমে উৎফুল্ল ও আনন্দিত করে তোলে প্রকৃতির নানাবিধ অনুষঙ্গ। তবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নারীর বিরহকাতর হয়ে ওঠার বর্ণনা কবিতায় নেই। এই দিকটিই উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।
সারকথা: বসন্ত ছাড়াও ষড়ঋতুর অন্যান্য ঋতুর সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য এবং মানবমনে এগুলোর প্রভাব বর্ণিত হয়েছে কবিতায়। তবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নারীর বিরহকাতর হয়ে ওঠার বর্ণনা কবিতায় নেই। । এই দিকটিই উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে
➤ "উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত প্রকৃতিকে ধারণ করে না" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ ঋতুরাজ বসন্ত প্রকৃতিতে রাজরূপেই আবির্ভূত হয়। এর আগমনে চারপাশের প্রকৃতি নতুন রূপে সজ্জিত হয়। মনমাতানো রূপমাধুরী ধরা দেয় সবার সামনে। এই সৌন্দর্যে আপ্লুত হয় মানুষের মন। মুগ্ধ হন সংবেদনশীল কবিরাও।
➤ উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে বসন্তের প্রকৃতির কোনো বৈশিষ্ট্যই উত্থাপিত হয়নি। এখানে কেবল বসন্তের প্রভাবে মানবমনের অবস্থা পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কামনা করা হয়েছে যারা সুখে আছে, তারা যে সুখে থাকে। সুখেই যেন তারা বসন্তকে বিদায় জানাতে পারে। এছাড়া এখানে বিরহিণী নারীর বিরহকাতর হৃদয়ের কথা ব্যক্ত হয়েছে। বসন্ত যেন দুঃখী নারীর দুঃখ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অব্যক্ত যন্ত্রণায় অশ্রুবিগলিত হচ্ছে। বসন্তের আগমনে দুঃখী নারীর দুঃখভারাক্রান্ত হওয়ার দিকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় নেই।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার প্রকৃতিতে ষড়ঋতুর সৌন্দর্য ও মানবমনে এগুলোর প্রভাব বর্ণিত হয়েছে। প্রথমেই বিবৃত হয়েছে বসন্ত ঋতুর কথা। বসন্তে নবীন পত্রপুষ্প, মলয় সমীর, ভ্রমরের গুঞ্জন ও কোকিলের কুহুতানে চারদিক সুশোভিত ও মোহনীয় হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই সুন্দর রূপে অবগাহন করে মানুষের মন আনন্দিত হয়, সুখবোধ হয়। কোনো দুঃখ বর্ণনার ইতিকথা এখানে দেখা যায় না। তবে উদ্দীপকে বসন্ত কারও মধ্যে বিরহ জাগ্রত করেছে। নারীহৃদয়কে ব্যথিত করেছে। এটা ছাড়া উদ্দীপকে অন্য কোনো বিশেষ দিক প্রস্ফুটিত হয়নি। তাই উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না। সুতরাং বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার প্রকৃতিতে ষড়ঋতুর সৌন্দর্য ও মানবমনে এগুলোর প্রভাব বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে বসন্তের প্রকৃতির কোনো বৈশিষ্ট্যই উত্থাপিত এনি। এ দিক বিচারে 'উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়। বসন্ত প্রকৃতিকে ধারণ করে না।