| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুলতান ইলতুৎমিশ কন্যা…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুলতান ইলতুৎমিশ কন্যা সুলতানা রাজিয়াকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেন। পুত্রদের পরিবর্তে কন্যাকে রাজ্যভার অর্পণ করায় সুলতানা রাজিয়ার ভাইয়েরা ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা বহিরাগত শত্রুর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে সুলতানা রাজিয়াকে হত্যা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
অন্ধকূপ হত্যার কাহিনি হলওয়েল প্রচার করেছিলেন।
মিরজাফর উমিচাঁদকে কালকেউটে বলেছেন উমিচাঁদের ধূর্ততা, স্বার্থান্বেষী মনোভাব এবং দ্বিমুখী নীতির জন্য।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের অমাত্যদের অধিকাংশই ছিলেন লোভী, বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহী। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, ঘসেটি বেগম ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তাদের সঙ্গে উমিচাঁদও ছিলেন। নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কে কতটুকু ভাগ পাবে তা নির্দিষ্ট করার জন্য ক্লাইভের তৈরি দলিলে অন্যরা স্বাক্ষর করতে এলেও উমিচাঁদ অনুপস্থিত ছিলেন। মিরজাফরের ধারণা, উমিচাঁদ কলকাতায় বসেই চুক্তিতে স্বাক্ষর দেবেন এবং চুক্তিতে তার দাবি পূরণ না হলে গোপন ষড়যন্ত্রের সমস্ত খবর নবাবের দরবারে পৌছে দেবেন। এ রকম ধারণা থেকেই মিরজাফর উমিচাঁদকে কালকেউটে বলেছেন।
উদ্দীপকের সুলতানা রাজিয়ার ভাইদের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম চরিত্রের মিল রয়েছে।
আত্মস্বার্থ চিন্তা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। নিজের লাভের জন্য অন্যকে ধ্বংস করতেও তারা পিছপা হয় না। যেকোনো উপায়ে- অর্থাৎ ছলে, বলে, কৌশলে তারা স্বার্থ উদ্ধার করে। স্বার্থের জন্য তারা প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে।
উদ্দীপকের ইলতুৎমিশের ছেলেরা ক্ষমতার লোভে তাদের আপন বোন সুলতানা রাজিয়াকে হত্যা করে। এখানে মানরিকতা, আত্মীয় সম্পর্ক, স্নেহ-ভালোবাসা অনুপস্থিত। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও এমন চরিত্রে রয়েছে। তিনি সিরাজের বড় খালা ঘসেটি বেগম। তিনি চেয়েছিলেন তার বাবা নবাব আলিবর্দি খাঁ তার পুত্রের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করবেন। তা না করে যখন সিরাজকে নবাব করা হয় তখন থেকেই তিনি সিরাজের ধ্বংস কামনা করতে থাকেন এবং নানা রকম ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা হস্তগত করার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত অমাত্যবর্গ ও ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন। এভাবে উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বাসঘাতকতা ও ক্ষমতার প্রতি লোভের দিকটির মিল রয়েছে।
"উদ্দীপকের সুলতানা রাজিয়া এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি অভিন্ন"- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বার্থান্ধ মানুষ নিজেদের স্বার্থে স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারা শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে রক্তের সম্পর্কের মানুষেরও ক্ষতি করতে পিছপা হয় না। এরা ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের শত্রু।
উদ্দীপকের রাজিয়া বাবার সিদ্ধান্তে ক্ষমতায় আরোহণ করে। এই ক্ষমতারোহণ তার ভাইয়েরা মেনে নিতে পারে না। তারা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় বোনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তাদের ক্ষমতার লোভের কাছে স্নেহ-ভালোবাসা পরাজিত হয়। নিজের ভাইদের হাতে স্বামীসহ রাজিয়ার মৃত্যু হয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবার সিরাজও একই রকম পরিণতির শিকার হন। তিনিও তাঁর আত্মীয়-পরিজনদের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্মম পরিণতির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতির জন্য দায়ী সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম ও অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতা। নবাব সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা লাভের জন্য বড় খালা ঘসেটি বেগম নানাভাবে সিরাজের পতন ঘটাতে চেয়েছেন। তার ইচ্ছা পূরণ করতে অমাত্যবর্গ ও সেনাপতিকে নিয়ে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত এবং নির্মমভাবে হত্যা করেছে। উদ্দীপকের রাজিয়াও একই পরিণতির শিকার। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।