| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুমি ও ববি…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সুমি ও ববি দুই বোন। সুমি খুবই কৃপণ এবং বাস্তববাদী। অর্থ উপার্জন এবং মিতব্যয়িতা তার ধর্ম। অন্যদিকে ববির কাছে সৌন্দর্য সত্য, সত্যই সুন্দর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
কতকগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে মূল্যবোধ বলে।
মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম হিসেবে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিশুর প্রথম আশ্রয়স্থল এবং স্কুল হলো তার পরিবার। এই পরিবারের মাধ্যমেই প্রথম শিশুর বোধশক্তিগুলোর উন্নতি সাধিত হয়। এই পরিবারের মধ্যেই শিশু প্রথম তার মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদির সংস্পর্শে আসে। পরিবারের এই সদস্যদের আদর-ভালোবাসা, আচার-আচরণ, বংশমর্যাদা, অনুশাসন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে শিশুর স্বাভাবিক মূল্যবোধ যেমন-সামাজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশ লাভ করে। তাই পরিবারকে মূল্যবোধ গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
উদ্দীপকে সুমির মধ্যে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ দেখা যায়।
অর্থনৈতিক মূল্যবোধের ব্যক্তিরা আগাগোড়াই বাস্তববাদী। এ ধরনের মূল্যবোধ ব্যক্তির অর্থনৈতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ধরনের মূল্যবোধে ব্যক্তি তার অর্থ উপার্জন, অর্থ সঞ্চয় ও মিতব্যয়িতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক প্রবণতার মাধ্যমে সঞ্চয় করে। তার আগ্রহ নির্দিষ্ট সম্পদের সঞ্চিতকরণ, সুখ্যাতির সুসজ্জিতকরণ এবং বাস্তব পরিকল্পনার দিকে অগ্রসরমান হওয়া। ব্যক্তির অর্থনৈতিক মূল্যবোধের দ্বারাই তার ব্যবসায়-বাণিজ্য বা পেশা নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা অনেকক্ষেত্রেই নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে।
উদ্দীপকের সুমি খুবই কৃপণ এবং বাস্তববাদী। অর্থ উপার্জন এবং মিত্যব্যয়িতা তার ধর্ম। সুমির জীবনদর্শন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনৈতিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, সুমি অর্থনৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি।
উদ্দীপকে সুমি ও ববির মূল্যবোধগুলো যথাক্রমে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ এবং নান্দনিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে।
অর্থনৈতিক মূল্যবোধের ব্যক্তিরা আগাগোড়াই বাস্তববাদী। এ ধরনের মূল্যবোধ ব্যক্তির অর্থনৈতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যা ব্যক্তি তার অর্থ উপার্জন, অর্থ সঞ্চয় ও মিতব্যয়িতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক প্রবণতার মাধ্যমে সঞ্চয় করে। তার আগ্রহ থাকে নির্দিষ্ট সম্পদের সঞ্চিতকরণ, সুখ্যাতির সুসজ্জিতকরণ এবং বাস্তব পরিকল্পনার দিকে। এরা ব্যক্তি জীবনে বিলাসিতা ও সৌন্দর্যের প্রতি হতবুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, সৌন্দর্যপ্রিয় বা নান্দনিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি তার মানসিকতা থেকে কোনটি বেশি আকর্ষণীয় তা খুঁজে বের করে। এসব ব্যক্তির সৌন্দর্যবোধ অত্যন্ত প্রবল। এরা জীবনে সৌন্দর্যপিপাসু হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির মধ্যে সর্বদা সৌন্দর্য খুঁজে পেতে চায়। নান্দনিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সর্বদা জাঁকজমক, শক্তিমত্তার বিশিষ্ট পরিচয় চিহ্ন বা স্থানসূচক চিহ্নগুলোকে বেশি পছন্দ করে।
উদ্দীপকে সুমি বাস্তববাদী এবং কৃপণ। তার এ ধরণের মনোভাব অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে ববি সৌন্দর্যপিপাসু এবং সে সবকিছুর মধ্যেই সৌন্দর্য খুঁজে পায়। তার এ বৈশিষ্ট্যগুলো নান্দনিক মূল্যবোধ বা সৌন্দর্যবোধকেই নির্দেশ করে।
সর্বোপরি বলা যায়, সুমির অর্থনৈতিক মূল্যবোধ এবং ববির নান্দনিক মূল্যবোধ প্রকৃতিগতভাবে পরস্পর সম্পূর্ণ ভিন্ন।