| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুমনা দুটি উদ্ভিদ…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুমনা দুটি উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করলো, একটির গর্ভমুণ্ড পালকের ন্যায় এবং অপরটির পরাগধানী বৃক্কাকার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
পুংদণ্ডের সরু অগ্রভাগ পরাগধানীর পৃষ্ঠদেশের মাঝে একটি সূক্ষ্ম বিন্দুতে এমনভাবে যুক্ত থাকে যে কারণে পরাগধানী মৃদু বাতাসে এদিক-সেদিক দুলতে পারে, তাকে ভার্সেটাইল পরাগধানী বলে। যেমন- ধানের পরাগধানী।
পুংরেণুপত্রের পুংরেণুস্হলীতে পুংরেণুমাতৃকোষ অবস্থিত। এটি মিয়োসিস বিভাজনের ফলে পুংরেণু উৎপন্ন করে। পরে এটি অঙ্কুরিত হয়ে পুংগ্যামেট উৎপন্ন করে।একে মাইক্রোস্পোরোফিল বলে। এটি মেগাস্পোরের তুলনায় আয়তনে ক্ষুদ্র।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় উদ্ভিদটি হলো জবা। এর পুষ্পসংকেত এর ব্যাখ্যা নিচে করা হলো।
যে প্রতীকের সাহায্যে একটি পুষ্পের বিভিন্ন স্তবক, পুষ্পপত্রগুলোর অবস্থান, সংখ্যা, সমসংযোগ, অসমসংযোগ, পুষ্পপত্রবিন্যাস, অমরাবিন্যাস প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখানো হয় তাকে পুষ্প সংকেত বলে।
পুষ্পসংকেত এর মাধ্যমে একটি ফুলের গঠন যথাযথভাবে জানা যায়। এর মাধ্যমে একটি ফুলের স্তবকের সদস্য সংখ্যা, স্তবকের বিবরণ, অবস্থান,প্রত্যেক স্তবকের সদস্যসংখ্যা, পুষ্পের লিঙ্গ, ও তাদের সম ও অসম সংযুক্তি, মঞ্জরীপত্রের উপস্থিতি ,অনুপস্থিতি ইত্যাদি প্রতিটি অংশের সম্পর্কে জানা যায়। তাই পুষ্পসংকেত ব্যবহার করা হয়।
জবার পুষ্পসংকেত: ⨁⚥ উবৃ_৫বৃ_(৫)দ_৫পুং_(α)গ_(৫)
অর্থাৎ এর মঞ্জরীপত্র ও উপমঞ্জরীপত্র নেই। পুষ্পটি বহুপ্রতিসম এবং উভলিঙ্গ। এর ৫টি মুক্ত উপবৃতি আছে। বৃত্যংশ ৫টি আছে এবং সেগুলো সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। পাপড়ি ৫টি মুক্ত; পুংকেশর অসংখ্য, সংযুক্ত, একগুচ্ছ এবং দললগ্ন, গর্ভপত্র ৫টি আছে যেগুলো সংযুক্ত এবং গর্ভাশয় অধিগর্ভ।
উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটির গর্ভমুণ্ড পালকের ন্যায়। তাই এটি Poaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।খাদ্য নিরাপত্তায় এটির ভূমিকা আছে।
খাদ্যর নিরাপত্তা বলতে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা বোঝায়। এ গোত্র থেকে ধান, গম, ভুট্টা, জোয়ার, যব, বার্লি, চিনি ও কাউন ইত্যাদি পাওয়া যায়। পৃথিবীর ৬০% লোকের প্রধান খাদ্য ভাত এবং আরও বহু লোকের খাদ্য রুটি যা এ গোত্রের অন্তর্ভূক্ত।
এ গোত্রের সদস্য সমূহ খাদ্য নিরাপত্তায় নিন্মোক্তভাবে ভূমিকা পালন করে।
ধান: বিশ্বের অন্যতম খাদ্যশস্য হল ধান। বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত আসে চাল থেকে। ভাত ছাড়াও চিড়া, মুড়ি, পিঠা ও পায়েস সবই ধান থেকে পাওয়া যায়। ধানের খড় উঁচু মানের গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধানের কুড়া থেকে হাঁস-মুরগীর খাদ্যও প্রস্তুত করা হয়।
গম: বাংলাদেশের দ্বিতীয় খাদ্যশস্য হল গম। গম আটা, সুজি ও ময়দা পাওয়া যায় এবং তা থেকে রুটি, পরোটা, পাউরুটি ও বিস্কুট পাওয়া যায়।
ভূট্টা: ভূট্টা হতে পপকন, কর্ণফ্লেক্স ও খইসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হয়।
যব: যবের ছাতু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। যব হতে আটা পাওয়া যায়। হরলিক্স ও কমপ্ল্যান জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
আখ: আখ হতে চিনি ও গুড় পাওয়া যায় যা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
উপরের সকল খাদ্যশস্যগুলো Poaceace গোত্রের অন্তর্ভূক্ত। এ সকল খাদ্যশস্য প্রতিনয়ত মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। তাই উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, খাদ্য নিরাপত্তায় উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদ গোত্রটি অর্থাৎ Poaceae গোত্রের ভূমিকা অপরিসীম।