| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুমনার নির্দিষ্ট সময়…’ Combined ২০১৮ – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুমনার নির্দিষ্ট সময় পর পর কাঁপুনিসহ জ্বর আসে। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানালেন RBC-তে অণুজীব সংক্রমণের মাধ্যমে এই জ্বর হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়কালে X আকৃতির যে গঠন তৈরি হয় তাই কায়াজমা।
উদ্ভিদের যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণুটি নিষেক ছাড়াই ভ্রূণ সৃষ্টি করে এবং ডিম্বক স্বাভাবিক বীজে পরিণত হয় তাকে অপুংজনি বলে। অপুংজনি দু'ধরনের। যথা-
হ্যাপ্লয়েড অপুংজনি: এক্ষেত্রে স্বাভাবিক মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু সৃষ্টি হলেও নিষিক্ত না হয়ে সরাসরি তা হ্যাপ্লয়েড ভ্রূণে পরিণত হয়।
ডিপ্লয়েড অপুংজনি: এক্ষেত্রে মায়োসিসের পরিবর্তে মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং পরে তা সরাসরি ভূণে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের অণুজীব তথা পরজীবীটি হলো ম্যালেরিয়া। এটি বিশেষ কণিকা অর্থাৎ, RBC বা লোহিত রক্ত কণিকায় কয়েকটি ধাপ অতিক্রমনের মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে থাকে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
যকৃত কোষে সৃষ্ট ম্যালেরিয়া জীবাণুর মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট লোহিত রক্ত কণিকায় প্রবেশ করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে স্ফীত ও গোলাকার হয়। একে ট্রফোজয়েট দশা বলে। পরবর্তীতে অণুজীবটি আংটি আকৃতি লাভ করে। যাকে বলা হয় সিগনেট রিং দশা। এরপর জীবাণুটি ধীরে ধীরে অ্যামিবার ন্যায় গঠন বিশিষ্ট হয়। একে অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট দশা বলে। এ দশার শেষ দিকে কোষস্থ নিউক্লিয়াস বার বার বিভাজিত হয়ে বহু নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট মেরোজয়েটে পরিণত হয়। এগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় সজ্জিত থাকে এবং একে রোজেট দশা বলে। মেরোজয়েটগুলো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বের হয়ে আসে এবং নতুন লোহিত রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে। এভাবে RBC তথা লোহিত রক্ত কণিকায় পরজীবীটির সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে থাকে।
উদ্দীপকে সুমনার রোগের লক্ষণগুলো দেখে সহজেই বোঝা যায় সে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত। ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে।
মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস: মশকী বদ্ধ, পচা পানিতে ডিম পাড়ে এবং সেখানে ডিম ফুটে লার্ভা ও পিউপা দশার বিকাশ ঘটে। তাই মশা নিধনের জন্য মশার জননক্ষেত্রগুলো বিনাশ করাই উত্তম।
মশার লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস: যেসব জলাশয়ে মশকী ডিম পাড়ে সেখানে পানির ওপর কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় তেল ছিটিয়ে দিলে পানির উপর একটি পাতলা স্তর সৃষ্টি হয়। ফলে এ স্তর ভেদ করে মশকীর লার্ভাগুলোর পক্ষে বাতাস গ্রহণ সম্ভবপর না হওয়ায় তারা মারা যায়। বি এইচ সি, ডায়েলড্রিন ইত্যাদি কীটনাশক ওষুধ তেলের সাথে মিশিয়ে পানিতে ছিটিয়ে দিলে মশকীর লার্ভা ও পিউপা মারা যায়। জলাশয়ে কই, খলসে, তেলাপিয়া জাতীয় লার্ভা খাদক মাছ চাষের মাধ্যমে মশকীর লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করা যায়।
পূর্ণাঙ্গ মশকী নিধন: দংশন উদ্যত মশকী হাত বা মসকুইটো র্যাকেট দিয়ে মেরে ফেলা। বিভিন্ন ফাঁদের সাহায্যে মশকী ধরা। বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান যেমন- সালফার ডাইঅক্সাইডের ধোঁয়া মশা তাড়াতে বা মেরে ফেলতে পারে। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও বিকিরণ দিয়ে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে মশার বংশ বিস্তার রোধ করা যায়।
কাজেই, উপরিউক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।