সুমন জন্মের এক বছর থেকেই রক্তশূন্যতায় ভুগছে। ডাক্তারের পরামর্শে প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর সুমনকে একবার রক্ত নিতে হয়। তবে ডাক্তার তাকে আয়রনযুক্ত খাবার খেতে নিষেধ করেন।
কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধতা এমন এক অবস্থা যখন কেউ কোনো রং সঠিকভাবে চিনতে পারে না।
DNA টেস্টের মাধ্যমে সহজেই অপরাধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়। অপরাধের শিকার এমন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক নমুনার DNA-র নকশাকে তুলনা করা হয় সন্দেহভাজনের কাছ থেকে নেওয়া রক্ত বা জৈবিক নমুনার DNA এর সাথে। যদি DNA নকশা মিলে যায় সহজেই বলা যায় যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিই অপরাধী। এছাড়াও সন্তানের জৈবিক পিতা-মাতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও ডিএনএ টেস্ট করা হয়।
উদ্দীপকের সুমনের রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। থ্যালাসেমিয়া রোগটির ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। এই রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বংশবাহিত রক্তজনিত সমস্যা। ধারণা করা হয়, দেশে প্রতিবছর 7000 শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং বর্তমানে প্রায় এক লাখ রোগী আছে। এটি একটি অটোসোমাল রিসিসিভ ডিজঅর্ডার, অর্থাৎ বাবা ও মা উভয়েই এ রোগের বাহক বা রোগী হলে তবেই তা সন্তানের রোগলক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। চাচাতো-মামাতো-খালাতো ভাইবোন বা অনুরূপ নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তীব্র থ্যালাসেমিয়ার কারণে জন্মের আগেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতা 'রোগে ভোগে।
উদ্দীপকে সুমনের রোগটি হলো রক্তজনিত সমস্যা থ্যালাসেমিয়া। এ রোগটি বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। তাই সুমনের এ রোগ হওয়ার জন্য তার মা-বাবাই দায়ী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এ রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী বংশধর থেকে অর্থাৎ মা-বাবা থেকে থ্যালাসেমিয়ার জিন পেয়ে থাকে।
আবার আক্রান্ত ব্যক্তি তার পরবর্তী সন্তানসন্ততিতে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করে থাকে। যেহেতু জিনই হলো বংশগতির ধারক ও বাহক। তাই সুমনের মা-বাবা দুইজনই তাদের পূর্ববর্তী বংশধর থেকে থ্যালাসেমিয়ার জিন পায় যা পরবর্তীতে তাদের 'সন্তানের (সুমনের) শরীরে থ্যালাসেমিয়ার জিন প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ধরি, থ্যালাসেমিয়ার জিন = r এবং সুস্থ জিন = R
সুস্থ বাহক বাহক আক্রান্ত সন্তান
সন্তান সন্তান সন্তান (সুমন)
উপর্যুক্ত বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সুমনের থ্যালাসেমিয়া রোগের জন্য তার মা-বাবাই দায়ী।
