| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুমন ও রাজীব…’ a – বাণিজ্য, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

সুমন ও রাজীব দুই বন্ধু বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্যসামগ্রী, রাসায়নিক দ্রব্য, চামড়া, ঔষধ, ব্যাঙের পা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলছিল। এমন সময় তাদের অন্য বন্ধু মামুন এসে যোগ দেয়। তাদের আলোচনা শুনে মামুন বলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে জনশক্তি রপ্তানির ভূমিকাও কম নয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
OPEC-এর পূর্ণরূপ হলো Organization of the Petroleum Exporting Countries.
বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ভূপ্রকৃতির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে সড়কপথ ও রেলপথ নির্মাণ কঠিন ও ব্যয়বহুল। এ কারণে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসমূহ এবং অন্যান্য, দেশ- নেপাল, তিব্বত, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি অঞ্চলে এখনও এ ধরনের পথ প্রসার লাভ করেনি। তবে পৃথিবীর বেশিরভাগ সমভূমি অঞ্চলেই সড়ক ও রেলপথ প্রসার লাভ করেছে। নদীবহুল সমভূমিতে নদী, খাল প্রভৃতির উপর সেতু নির্মাণ করতে হয়। বিল, বাঁওড় প্রভৃতি নিম্নভূমি অঞ্চল মাটি দ্বারা পূর্ণ করতে যথেষ্ট খরচ হয়। ফলে এসব অঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থা অনুন্নত। অর্থাৎ, যেকোনো দেশের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ভূপ্রকৃতির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে সুমন ও রাজীবের আলোচনাকৃত বিষয় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যের ইঙ্গিত প্রদান করে যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ থেকে প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির ফলে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে; তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, চিংড়ি, ওষুধ, বিভিন্ন ধরনের অর্থকরী ফসল প্রভৃতি। এসব পণ্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়। তাছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও অগ্রগতি সাধিত হয়, দারিদ্র্য দূরীভূত হয়। উৎপাদিত শিল্পে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত থাকে বলে বেকারত্ব দূর হয় এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে বলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়।.. বাংলাদেশের জনসংখ্যা অধিক বলে এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বল্পমূল্যে কাজে লাগিয়ে শিল্পে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর উৎপাদনমূল্য কম হয় বলে বিদেশে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কমমূল্যে রপ্তানি করা যায়। ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে; যা দেশের উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যসামগ্রীর চাহিদা বেশি থাকায় বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। এর ফলে উক্ত অর্থ এদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যে বিষয়ের কথা বলেছে তা হলো জনশক্তি রপ্তানি। জনশক্তি রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র আয়তনের একটি বিশাল জনঅধ্যুষিত দারিদ্র্যপীড়িত দেশ। এদেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত।। এদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য যে তিনটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তার মধ্যে জনশক্তি অন্যতম। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জনশক্তি রপ্তানি বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জনশক্তি রপ্তানি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। গত কয়েক বছর আগে যখন সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল তখনো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তা দেশের মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এটি ভূমিকা পালন করে থাকে। জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব হ্রাস পায়। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি সাধিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দরিদ্র জনবহুল দেশের জন্য জনশক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ফলে এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।