| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুন্দরবনের উদ্ভিদরাজির কিছু…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুন্দরবনের উদ্ভিদরাজির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখে শিক্ষার্থীরা কৌতূহলী হয়ে ওঠে। শিক্ষক বললেন, এ বৈশিষ্ট্যগুলি এ বনাঞ্চলের একান্ত নিজস্ব। মধুপুর, রাজেন্দ্রপুর বনাঞ্চলের উদ্ভিদসমূহে এ বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
সাভানা হলো এক ধরনের বিশেষ গ্রাসল্যান্ড যেখানে মাঝে মাঝে ছোট বৃক্ষ বা ঝোপ থাকে।
জলজ পরিবেশে একই জাতীয় বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও পৃথকযোগ্য ইকোসিস্টেমই জলজ বায়োম। জলজ বায়োম মিঠা পানি ও সাগরে পৃথক প্রকৃতির হয়। কাজেই জলজ বায়োম দুই প্রকার যথা: মিঠাপানির বায়োম যা পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ এবং লবণাক্ত পানির বায়োম যা পৃথিবীর তিন-চতুর্থাংশ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় বনাঞ্চলটি মূলত পর্ণমোচী বনভূমি। যে বনের সকল বৃক্ষের পাতা একসাথে ঝরে যায় তাদের দ্বারা গঠিত বনকে পর্ণমোচী বন বলে। নিচে এই বণাঞ্চল এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখা হলো- বেশির ভাগ পর্ণমোচী বনভূমি মধুপুর, রাজেন্দ্রপুর অঞ্চলে বিস্তৃত। পর্ণমোচী বনের প্রধান বৃক্ষ শাল, তাই এটি শালবন নামেও পরিচিত। পর্ণমোচী বনাঞ্চলে অনধিক ৬০ ফুট-উঁচু ছোট ছোট টিলা আছে। টিলাগুলোকে চালা বলে, আর এদের মধ্যবর্তী সমতল ভূমিকে বাইদ বলে। চালায় বন এবং বাইদে ধান চাষ হয়। এখানকার মাটিতে লৌহ জাতীয় পদার্থ থাকায় বর্ণ হলুদাভ বা লালচে। শুকনো অবস্থায় মাটি শক্ত থাকে এবং বৃষ্টিপাতের পর কাদায় পরিণত হয়। এখানকার মাটি পুরাতন পলি দ্বারা গঠিত। বৃষ্টিপাতের গড় পরিমাণ ১৭৫ সে.মি., গড় তাপমাত্রা ১৭.৮° সে. ও গ্রীষ্মে ২৬.৭০ সে.। বসন্তে গাছে নতুন পাতা আসে আর শীতে পাতা ঝরে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম বনাঞ্চলটি হলো সুন্দরবন। এই বনটি বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণেই একটি ঝড়প্রবণ এলাকা। নিয়মিতভাবে ঋতু পরিবর্তনের সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়ে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতি বছরই উপকূলীয় জেলাসমূহে আঘাত হানে। এসব দুর্যোগের কবলে পড়ে মানুষ মারা যাওয়াসহ ফসল, কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, বড় বড় গাছপালা ও প্রাণিসম্পদের প্রচুর ক্ষতিসাধন হয়। সুন্দরবন এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার মাত্রা কমিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে এক ধরনের সবুজ বেষ্টনীর মতো কাজ করে যাচ্ছে। সুন্দরবন সমুদ্র থেকে আসা জলোচ্ছ্বাসকে প্রাথমিকভাবে প্রতিহত করে এবং জলোচ্ছ্বাসের গতি, প্রচণ্ডতা ও উচ্চতা বহুলাংশে কমিয়ে দেয়। জলোচ্ছ্বাসকালীন ভাটার টানে মানুষ, পশু ও অন্যান্য সম্পদ ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (যেমন- সিড়র, আইলা) প্রবাহিত হওয়ার সময় বাতাসের গতি, তীব্রতা কমিয়ে দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পানিতে বাসস্থান তলিয়ে গেলে মানুষ সহ পশু-পাখি বৃক্ষের উপর ওঠে আত্মরক্ষা করে। এছাড়াও বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে কাজ করে সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সহনীয় মাত্রায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সুতরাং আলোচনা শেষে একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রথম বনাঞ্চলটি অর্থাৎ সুন্দরবন প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয়।