| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সুপ্রভা প্রভুত্ব করার…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সুপ্রভা প্রভুত্ব করার চেয়ে নির্ভর করিতেই ভালোবাসে বেশি, আদর পাওয়াটাই
তার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্য। মন্দার গৃহিণীপনার ভিত্তিও ওইখানেই-
সুপ্রভাকে সে নয়নের মণি করিয়া রাখিয়াছে। কে বলিবে সুপ্রভা তাহার সতীন?
স্নেহ-যতেœ সুপ্রভার দিনগুলিকে সে ভরাট করিয়া রাখে।… সতীনের সংসারেও
তাই এখানে কলহ-বিবাদ মান-অভিমান মন-কষাকষি নাই
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম- মতলুব।
প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে মজিদের জীবনের অতীত পরি সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ মসজিদে যাওয়ার পথে তার অতীত জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। দশ বা বারো বছর আগে এক নিঃস্তব্ধ শ্রাবণের নুপুরে সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করেছিল। তখন সে ছিল ভাগ্যদেবী ও সুন্দ একজন মানুষ। কিন্তু আজ সে জোত-জমি, সম্মান-প্রতিপত্তির মালিক বছরগুলো ভালোই কেটেছে তার; হয়তো ভবিষ্যতেও এমনই কাটবে। তাই নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বোঝাতেই মজিদ প্রশ্নোক্ত কথাটি ভেবেছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত কিশোরী জমিদার প্রতি মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মাতৃহৃদয়ের আকুলতা প্রকাশের দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রথম স্ত্রীর নাম রহিমা। সে নরম স্বভাব ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। মজিদের প্রতি তার সম্মান, শ্রদ্ধা ভয় রয়েছে। রহিমা নিঃসন্তান হওয়ায় মজিদ সন্তান লাভের আকা অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে। সম্পর্কে সতিন হলেও জমিলার স সরল ও চপল স্বভাব রহিমার নারীহৃদয়ে মাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। জমিলাকে সতিন না ভেবে খুব সহজেই সন্তানস্নেহে আপন করে নেয়। নিঃসন্তান রহিমা যেন জমিলার মাঝেই সন্তানের ছারা দেখতে পায়।
উদ্দীপকের মন্দার মধ্যে সতিনের প্রতি একধরনের স্নেহপরায়ণতা লক্ষ যায়। সতিন হলেও সুপ্রভাকে সে নয়নের মণি করে রাখে। সুপ্রভাও এ মনোভাব করার চেয়ে তার প্রতি নির্ভর করতেই ভালোবাসে। আদর পাওয়াই তার কাছে বড়ো পাওয়া বলে গণ্য হয়। তাদের দেখে কেউ মনে করতে পারে না চারিত্রিক র যে তারা সতিন। এমন দিকটি আমরা আলোচ্য উপন্যাসের রহিম ও জমিলার মধ্যেও দেখতে পাই। সতিন হলেও জমিলাকে রহিমা সন্তানস্নেহে আগলে রাখে। জমিলা ও তার প্রতি সমান সম্মান দেখায়। আর এদিকটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য উপন্যাসের সাদৃশ্য রচনা করেছে।
“উদ্দীপকের ‘মন্দার' ও 'সুপ্রভার' চেয়ে পাঠ্য উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা অধিকতর প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী।”- উক্তিটি যথার্থ।
‘লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রের মাঝে এক অকৃত্রিম মাতৃমূর্তি প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সে জমিলাকে সতিনের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখেছে। মজিদ যতবার জমিলাকে শান্তি দিয়েছে, ঠিক ততবার রহিমার মাতৃহৃদয়ে কষ্ট অনুভূত হয়েছে। উদ্দীপকের মন্দার মধ্যে সতিনের প্রতি একধরনের স্নেহপরায়ণতা লক্ষ করা যায়। সতিন হলেও সুপ্রভাকে সে নয়নের মণি করে রাখে। সুপ্রভাও প্রভুত্ব করার চেয়ে তার প্রতি নির্ভর করতেই ভালোবাসে। আদর পাওয়াই তার কাছে বড়ো পাওয়া বলে গণ্য হয়। তাদের দেখে কেউ মনে করতে পারে না যে তারা সতিন ।
উপন্যাসের রহিমার মানসিকতা উদ্দীপকের মন্দার মাঝেও লক্ষ করা যায়। সে-ও তার সতিনের প্রতি সন্তানের মতো স্নেহপরায়ণ হয়ে উঠেছে। এদিক থেকে ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা ও উদ্দীপকের মন্দা একই মানসিকতার অধিকারী। আবার সুপ্রভা এবং জমিলাও একই রকম চেতনাকে ধারণ করেছে। কিন্তু আলোচ্য উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা যেভাবে একে অন্যের প্রতি আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে তা বিরল। যে রহিমা স্বামীর প্রতি 'লালসালু' উপন আস্থাশীল, সে-ই জমিলার প্রতি অত্যাচারের প্রতিবাদ করে ওঠে। তাদের আচরণও অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে প্রাত্যহিক কাজকর্মে। সুতরাং উভয়ের মাঝে স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশ পেলেও উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা জন্য মুজিদ ও অনেক বেশি প্রাণবন্ত' ও শক্তিশালী হয়ে ধরা দিয়েছে।