| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক অঞ্চলে বসবাসকারী এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াশীল সকল জীবগোষ্ঠীই হলো সম্মিলিতভাবে জীবসম্প্রদায়।
মরুজ উদ্ভিদের মূল অত্যন্ত সুগঠিত এবং ব্যাপক পরিমাণে শাখা প্রশাখা যুক্ত। এপিডার্মিসে কিউটিকল অত্যন্ত পুরু। বহুবর্ষজীবী প্রজাতিগুলোর মূল অত্যন্ত গভীরে প্রবেশ করে। পানি ও খনিজ লবণ শোষণের জন্য এদের অভিস্রবণীয় চাপ খুব বেশি। উপরিউক্ত অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই মরুজ উদ্ভিদ প্রকৃতিতে টিকে থাকে।
উদ্দীপকে সুন্দরী, গরান, গেওয়া ইত্যাদি উদ্ভিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো লবণাক্ত পরিবেশের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ।
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের অভিযোেজনিক বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
ম্যানগ্রোভ বন তথা লবণাক্ত পরিবেশের মাটির গভীরতার সাথে সাথে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। তাই উদ্ভিদের মূলতন্ত্র মাটির খুব গভীরে না গিয়ে উপরের স্তরেই বিস্তৃত থাকে। অধিক লবণাক্ত পানি শোষণ করতে অসুবিধা হয়, তাই বৃষ্টির সময় লবণাক্ততা কিছুটা কমে আসলে উদ্ভিদ দ্রুত পানি শোষণ করে তাদের প্যারেনকাইমা কোষে সঞ্চয় করে রাখে। এ কারণে এদের কাণ্ড, পাতা ও মূলকে কিছুটা রসালো দেখায়। উদ্ভিদের শ্বাসমূলের ভেতরে বায়ুকুঠুরী থাকে এবং সে কুঠুরীতে বায়ু (O2) ধরে রাখতে পারে। শ্বাসমূলের কারণে মূল ও বাইরের সাথে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় সহজ হয়। জোয়ার ভাটার সময় পানির টানকে সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য অনেক উদ্ভিদে ঠেসমূল বা স্তম্ভমূল থাকে। লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন। তাই বহু উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়।
উদ্দীপকটি হলো একটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খল। এই খাদ্যশৃঙ্খলের প্রত্যেকেই উৎপাদক অর্থাৎ সুন্দরী, গেওয়া, এবং গোলপাতা উদ্ভিদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এই খাদ্য শৃঙ্খলে 'শক্তির প্রবাহ উৎপাদক হতে সর্বশেষ স্তরের খাদক বরাবর প্রবাহিত হয় এবং ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিজ্ঞানী লিন্ডেনম্যান প্রদত্ত ১০ শতাংশ নিয়ম অনুযায়ী এই খাদ্য শৃঙ্খলের শক্তির প্রবাহের পরিমাণ খুব সহজেই বিশ্লেষণ করা যায়। ১০ শতাংশ নিয়মে, এক স্তর হতে তার পরবর্তী স্তরে ১০০ ভাগের ১০ ভাগ শক্তি প্রবাহিত হয়ে সঞ্চিত থাকে। উদ্দীপকের খাদ্যশৃঙ্খলের ক্ষেত্রে সুন্দরী, গেওয়া ও গোলপাতার শক্তির পরিমাণ যদি ১০০ জুল হয় তবে হরিণ ও শূকর -এর দেহে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ হবে ১০ জুল। এভাবে বাঘের দেহে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ হবে ১ জুল।